Ultimate magazine theme for WordPress.

সেনাবাহিনীতে চাকরির লোভ দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়েছে তারা

0

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র মেস ওয়েটার ও সৈনিক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কোটিরও অধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। অন্তত ২০ জনের কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-৩।

তিনজন ভুক্তভোগী’র কাছ থেকে প্রতারণার অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের দুই সদস্য মো. নাজির হোসেন (৩২) ও মো. কামরুজ্জামানকে রাজধানীর সূত্রাপুর ও গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। গ্রেফতারের পর তারা কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য স্বীকার করে র‍্যাব-৩ এর কাছে।

এই বিষয়ে র‍্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্য নাজির হোসেন এবং কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেস ওয়েটার ও সৈনিক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরি প্রত্যাশী সাধারণ নাগরিকদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদানের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। তিনজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর এর সত্যতা যাচাইপূর্বক অভিযান পরিচালনা করি আমরা।

তিনি বলেন, অভিযানে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর সূত্রাপুর এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তারা দুইজন বন্ধু। নাজির একটি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। সে কৌশলে সাধারণ জনগণকে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর চাকুরি প্রত্যাশীর বিশ্বস্ততা অর্জনের পর সে আসামি কামরুজ্জামানকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, পরিচিত হওয়ার পর কামরুজ্জামান চাকুরি প্রত্যাশীকে আশ্বস্ত করে যে, ইতিপূর্বে সে বহু লোককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়েছে। তবে চাকরি পেতে হলে সেনাবাহিনীর নিয়োগ বোর্ডে যারা থাকে তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এভাবে প্রথমে সে একটি চুক্তিনামা করে ৫ লাখ টাকা আদায় করে। তারপর চাকুরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র গ্রহণ করে। এরপর প্রার্থীকে জানানো হয় যে, আপনাকে একটি পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তবে নিয়োগ পত্র পেতে হলে আরও ২ লাখ টাকা দিতে হবে। এভাবে সে ধাপে ধাপে চাকুরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে থাকে। এক পর্যায়ে চাকুরি প্রত্যাশীদের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে তার সংগে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এভাবেই চক্রটি বিভিন্ন চাকুরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে তারা এক কোটির অধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমাদের কাছে যে তিনজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন তাদের কাছ থেকেই তারা সাত লাখ টাকা করে মোট ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের এমন প্রতারণা সাধারণ মানুষ বুঝার তেমন সুযোগ নেই। কারণ সেনাবাহিনী তে তো আর কারও সংগে কথা বলার সুযোগ কম। তাই সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর জন্য সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণা করতো তারা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »