Ultimate magazine theme for WordPress.

কোরআনের বর্ণনায় মহাকাশ

0

মহান আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্ব বিশ্লেষণ নিঃসন্দেহে বড় ইবাদত। পবিত্র কোরআনে মানুষকে সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এ বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে খোদ কোরআনই এক অদ্বিতীয় নির্ভরযোগ্য উৎসগ্রন্থ। আল্লাহতায়ালা মহাবিশ্ব ও মহাকাশের বর্ণনা দিয়ে মানুষকে ইমানের পথে আহ্বান করেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য রয়েছে নিদর্শন। যারা দঁাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, এ সবকিছু আপনি অনর্থক সৃষ্টি করেননি। সব পবিত্রতা আপনারই। আপনি আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচান। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০-৯১)

কক্ষপথ

মহাকাশে রয়েছে ছোট-বড় গ্রহ, উপগ্রহ ও নক্ষত্র। রয়েছে সে সবের চলার জন্য কক্ষপথ। আল্লাহতায়ালা কক্ষপথের শপথ করে বলেন, ‘বহু পথবিশিষ্ট আকাশের শপথ। (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৭)

গ্রহ-নক্ষত্র নিজ নিজ কক্ষপথেই ঘূর্ণায়মান। তারা নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুৎ হয় না। ইরশাদ হচ্ছে, ‘সূর্য তার নির্ধারিত পথে ছুটে চলে। চাঁদেরও রয়েছে নির্ধারিত কক্ষপথ।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৩৮-৩৯)

তারকা ও গ্যালাক্সি

মহাকাশ বেষ্টন করে আছে দুই ধরনের তারকা। রাতের ঝলমলে আকাশে মিটমিট করে জ¦লতে থাকা তারকাগুলোকে কোরআনের ভাষায় ‘কাওকাব’ তথা স্টার বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, আমি দুনিয়ার আকাশ অসংখ্য তারকারাজির দ্বারা সুসজ্জিত করেছি। (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৬)

এ ছাড়া মহাকাশে রয়েছে বৃহৎ আকৃতির তারকা, যেগুলো স্বয়ং বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ, উপগ্রহ ও তারকার সমষ্টি। কোরআনের ভাষায় এগুলোকে ‘বুরুজ’ তথা গ্যালাক্সি বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘কল্যাণময় তিনি, যিনি মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি স্থাপন করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র। (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬১)

বহুরূপী আকাশ

আকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো রং নেই। বায়ুমণ্ডলের ক্ষুদ্র অণুগুলো দৃষ্টিসীমার প্রান্তে নীল হয়ে দেখা দেয় বলেই তা নীল দেখায়। অবস্থাভেদে আকাশ বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। আবার রংধনুর মেলায় একই সঙ্গে সাত রঙেও সেজে ওঠে। আকাশের এই বহুরূপী সজ্জার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘কসম ওই আকাশের, যা বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করে। (সুরা : তারিক, আয়াত : ১১)

ঊর্ধ্বগমনের পথ

কোরআনের বেশ কিছু আয়াত পাশাপাশি রাখলে বিষয়টি সহজে অনুধাবন করা যায়। সুরা আম্বিয়ার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক বলেন, ‘আমি সুদৃঢ় ছাদরূপে আসমান সৃষ্টি করেছি।’ আর আকাশের এপার-ওপার সংযোগের জন্য রয়েছে দরজা। সবার জন্য তা খোলা হয় না। সুরা আরাফের ৪০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যারা অহংকারবশত আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকার করে তাদের জন্য আকাশের দরজা উন্মোচিত হবে না।’ এসব দরজায় রয়েছে শক্ত পাহারার ব্যবস্থা। আল্লাহ বলেন, ‘মহান আল্লাহ, যিনি মাত্র দুই দিনে মহাকাশে সপ্তস্তর নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেছেন। প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম বিন্যস্ত করেছেন। এবং পৃথিবীর আকাশ অসংখ্য আলোকবাতি দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন এবং সুদৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ১২)

সাত স্তর

বিজ্ঞান বলছে, বায়ুম-লের সাতটি স্তর। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় স্তরগুলোর নাম যথাক্রমে ট্রপোস্ফিয়ার, ট্রাটোস্ফিয়ার, ওজনোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার, আয়নোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ার।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আকাশের সাত স্তরের কথা আলোচনা করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আমি তোমাদের ওপরে সপ্তস্তর সৃষ্টি করেছি। আমি আমার সৃষ্টির ব্যাপারে অমনোযোগী নই।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১৭)

আকাশের ক্রমবিস্তার

মহাকাশ গবেষণাকারী সংস্থা নাসার মতে, ভূপৃষ্ঠ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এবং মহাকাশের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃতি লাভ করছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আমি নিজ হাতে আসমান সৃষ্টি করেছি এবং আমিই এর বিস্তৃতি ঘটাই। (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৪৭)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি দেখে না, আমি ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমশ সংকুচিত করে আনছি, এর পরও কি তারাই বিজয়ী?’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪)

খুঁটিহীন আসমান

বিশাল মহাকাশ আল্লাহ শূন্যের ওপরেই ভাসমান রেখেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তার নিদর্শনাবলির অন্যতম হলো, আসমান-জমিন কেবলমাত্র তার আদেশের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। (সুরা : রুম, আয়াত : ২৫)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘সাত আসমান আমি খুঁটিবিহীন ভাসমান অবস্থায় সৃষ্টি করেছি, যা তোমরা দেখছ।’ (সুরা: লুকমান, আয়াত : ১০)

ধোঁয়াশা

নাসার দেওয়া তথ্য মতে, মহাশূন্য খুব গভীর ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। খুব সকালে সূর্যের রশ্মি ও রাতে তারার আলোতে যে বিচ্ছুরণ সৃষ্টি হয় তা মূলত এই ধোঁয়াশার কারণেই হয়। যেমন, কুয়াশাঘেরা পরিবেশে বাতির আলো ভিন্ন ধরনের রশ্মি বিচ্ছুরণ সৃষ্টি করে। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘ভূপৃষ্ঠ নির্মাণের কাজ সমাধার পর তিনি আকাশ নির্মাণের দিকে মনোনিবেশ করলেন আর তখন তা ছিল ধোঁয়াশাঘেরা।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ১১)

মহাকাশের বাসিন্দা

ভূপৃষ্ঠের এই ক্ষুদ্র পরিধিতে কয়টা জীব-জানোয়ারই বা বসবাস করে। অথচ এই বিশাল আকাশজুড়ে আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টিজীব রয়েছে। যারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহকে সিজদা করে এবং তার গুণগানে মগ্ন। যাদের সংখ্যা শুধু আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘অতঃপর আমি আসমানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম তা শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ৮)

অনিবার্য ধ্বংস

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বলেছেন, একমাত্র তার পবিত্র সত্তা ছাড়া মহাবিশ্বের সব কিছুই ধ্বংসশীল। বিন্দু থেকে শুরু হওয়া এই বৃহৎ-বিস্তৃত মহাবিশ্ব আবার শুরুতে ফিরে আসবে। আর সাত আসমান বইপত্র গোটানোর মতো গুটিয়ে নেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন আমি আকাশমণ্ডলী গুটিয়ে নেব যেমন লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে রাখা হয়।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৪)

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »