Ultimate magazine theme for WordPress.

স্বামীকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করলেন স্ত্রী ক্যামিলি

0

সাভারের আশুলিয়ায় নিজ ঘরে ডিস ব্যবসায়ী ইলিম সরকারকে (৪২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ক্যামিলি ও রবিউল করিম পিন্টু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান।

আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দাতারা হলেন- নাটোর জেলার গুরুদাশপুর থানার তেলটুপি গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল করিম পিন্টু (৩৫)। তিনি জামগড়া পল্লিবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের লাইনম্যান ছিলেন।তিনি আশুলিয়ার জামগড়ার বেরন এলাকায় বসবাস করতেন। এছাড়া ইলিম সরকারের স্ত্রী ও কালু মিয়ার মেয়ে ক্যামিলি সুলতানা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছেন।

এর আগে ২৮ মার্চ সিনেমা স্টাইলে স্বামী ইলিম সরকারকে হত্যা করেন স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক পিন্টুসহ তার সহযোগী। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যকে বিভ্রান্ত করতে কন্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন নিহতের স্ত্রী।

নিহত ইলিম সরকার আশুলিয়ার কাঠগড়া সরকারবাড়ি এলাকার হাজি ফজল সরকারের ছোট ছেলে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে ডিসের ব্যবসা করছিলেন। তার ১০ বছর বয়সের ছেলে কাইফ ও ৭ বছরের কাশফিয়া নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী তার নানাবাড়ি কাঠগড়া থেকে লেখাপড়া করার সুবাদে ইলিম সরকারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৪ বছর আগে বিয়ে করে তারা দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি পরকীয়ার জালে আটকা পড়েন। ২০১৯ সাল থেকে পিন্টুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

পরে পরকীয়া সম্পর্কের পথের কাটা তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ মার্চ সকালে ঘুমের মধ্যেই ইলিম সরকারের কুপিয়ে হত্যা করেন স্ত্রী, তার প্রেমিকসহ সহযোগীরা। এর আগে দুইজন ভাড়াটে খুনিকে ভুক্তভোগীর বাসায় ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করে দেয় পিন্টু। তবে ভাড়াটে খুনিরা ব্যর্থ হয়।

পিবিআই জানায়, ইলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুতের মিটার লাগানোর কাজ করতে এসে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে ২০১৯ সালে পরিচয় হয় পিন্টুর। এর পর তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ইলিম সরকার জানতে পারলে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনা ইলিম সরকার তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জানাবেন বলে হুমকি দেন। পরে হত্যাকাণ্ডের ৭ দিন আগে ইলিম সরকারকে খুনের পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে স্বামী ইলিম সরকারকে দই-মিষ্টির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয় তার স্ত্রী।

পরে সকালে পিন্টুসহ তার সহযোগী ঘরে ঢুকে ইলিম সরকারকে হত্যা করেন। এ সময় তার স্ত্রী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পাহারা দেন। সকাল ৮টার মধ্যে সবাই পোশাক কারখানায় কাজে গেলে মানুষশূন্য হয় এলাকা। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য ডিস ব্যবসার কোন্দলের বিষয়টি তখন প্রচার করেন স্ত্রী।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের উপপরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান বলেন, এ ঘটনায় পিন্টুর সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারের আগে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »