Ultimate magazine theme for WordPress.

২০২৩-এর নির্বাচন ঘিরে বিএনপি’র দুই পরিকল্পনা

0

দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারছেন না। বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য থেকে দল পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপি’র হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে দলটি। এর অংশ হিসেবে প্রথম কাজ হলো- দ্রুততম সময়ে দেশব্যাপী মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা। দ্বিতীয় কাজ- ২০২৩ সালে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং রাজপথে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে নিজেদের প্রস্তুত করা।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান বলেন, একটি সংকটময় মুহূর্তে মহানগরের দায়িত্ব নিয়েছি। হাইকমান্ডের নির্দেশনাও রয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগামীতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেই আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। দেশের মানুষ আমাদের পাশে থাকবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন এবং তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, ২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানে যেসব দাবি রয়েছে, তা আদায়ে সর্বাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হরতাল-অবরোধসহ দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলো বিএনপি। দাবি পূরণ না হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখে দলটি। দীর্ঘসময় কর্মসূচি চলায় নেতা-কর্মীদের নামে মামলা, গ্রেফতার, গুম-খুন হওয়ায় এক সময় তীব্র আন্দোলন মুখ থুবরে পড়ে। সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি। রাজনৈতিক কলাকৌশলে আওয়ামী লীগ সরকারই টিকে যায় এবং পরে আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসে।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরকারকে চাপে ফেলতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। কিন্তু এই জোট সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে জোট মাত্র সাতটি আসনে জয় পায়। এরপর থেকে দলকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও দলটি এই পর্যন্ত দেশজুড়ে ৮১টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ মাত্র ছয়টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করতে পেরেছে।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ায় বিএনপি ক্ষমতা হারিয়েছে। সুতরাং এবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আফগানিস্তান থেকে শিক্ষা নেন। আমরা আশান্বিত হয়েছি। যতো বড় পরাশক্তির সমর্থনই নেন, জনসমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। ষড়যন্ত্রের দিন শেষ।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দায়িত্বশীল দল হিসেবে জনগণের আকাক্সক্ষার সংগে একাত্মতাবোধ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটা ধাক্কা দেওয়ার সময় এসেছে। আমাদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াটুকু আপাতত বন্ধ রেখে যে নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো যদি সাহসের সংগে রাজপথে দৃশ্যমান করা যায়, তাহলে এই সরকার টিকে থাকতে পারবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তারা গণতন্ত্রের লেবাসে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সেই দাবি আদায়ে সর্বস্তরের জনতাকে সম্পৃক্ত করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »