Ultimate magazine theme for WordPress.

হাজার বছরের সংঘাতে রক্তাক্ত আফগান ইতিহাস

0

প্রাচীন যুগ থেকেই বহু সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সাক্ষী আফগানিস্তান। ভৌগলিক গুরুত্বের কারণে এখানে স্থিতিশীলতা ছিলোনা কখনই। হাজার বছরের সংকটে বিপর্যস্ত দেশটির নাগরিকরা এবার নিজেদের মতো বাঁচতে চান। নেতৃত্ব নিয়ে মাথা ঘামানোর চেয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা তাদের।

দক্ষিণ এশিয়ার স্থলবেষ্টিত দেশ আফগানিস্তান। দেশটির হাজার বছরের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে উঠে আসে কেবল সংঘাত আর সংকটের গল্প। ১৬ থেকে ১৮ শতকের পুরোটা সময় জুড়ে মুঘল, উজবেক আর পারস্য রাজ বংশের শাসকরা যুদ্ধ করেন আফগানিস্তানের দখল নিয়ে। এরপর ১৭৪৭ সালে আধুনিক আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠা করেন আহমদ শাহ দুররানী। তার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির দখলে চলে যায় দেশটি। ১৯ শতকে অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধকে দেখা হয় আফগানিস্তানের অন্যতম রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে।

ব্রিটিশরা চলে গেলে শুরু হয় সোভিয়েত প্রভাব আর আগ্রাসন। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ দাউদ খানকে উৎখাতের পর ক্ষমতা ভাগাভাগী হয় আফগানিস্তানের বাম দলগুলোর মার্ক্স ও লেনিনপন্থিদের মধ্যে। আর এই সময়েই গড়ে ওঠে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সরকারের দুই অংশের দ্বন্দ্বের সুযোগ আর আমেরিকার সমর্থন নিয়ে মাথাচাড়া দেয়
আফগান মুজাহিদিনরা।

১৯৭৯ সালে কাবুলকেন্দ্রিক কমিউনিস্ট সরকারকে রক্ষার অজুহাতে আফগানিস্তানে ঢোকে সোভিয়েত বাহিনী। এরপর পুরো পৃথিবীকে সাক্ষী রেখে স্নায়ুযুদ্ধের বলি হয় দেশটি। এরপর ১৯৮৯ এ সোভিয়েত সেনারা চলে গেলে আফগানিস্তানে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। আর আত্মঘাতি এ গৃহযুদ্ধ থেকেই উত্থান তালেবানের।

১৯৯৬ সালে মাত্র কয়েকদিনের অভিযানে শক্তিশালী আফগান নেতা আহমেদ শাহ মাসুদ
তৎকালীন মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে তালেবান। ৫ বছরের
তালেবান শাসনামলে তারা জারি করে কঠোর শরিয়া আইন।

মার্কিন-তালেবান সংকটের শুরু হয়েছিলো নাইন ইলেভেন দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে হামলার জন্য দায়ী করা হয় আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে। আর তাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানোর পরই আফগানিস্তানে শুরু হয় মার্কিন সামরিক অভিযান। তালেবানকে অপসারণ করা হলেও
দেশটির প্রত্যন্ত ও দূর্গম এলাকায় সংগঠিত হতে থাকে তারা।

টানা ২০ বছর আমেরিকা-ন্যাটো জোটের সেনাদের উপস্থিতির পরও আফগানিস্তানে প্রায় নিয়মিত চলে তালেবানের হামলা। সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে হটাতে যে যুদ্ধ শুরু হইয়েছিলো, তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অবশেষে সে যুদ্ধেরই ইতি টানলো বাইডেন প্রশাসন। দোহায় অনুষ্ঠিত সে আলোচনা আফগান সরকার উপস্থিত ছিল অনেকটা তৃতীয় পক্ষের মতই।

সমাধান ছাড়াই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ধারাবাহিকতায় রাজধানী কাবুলের দখল নিয়ে আবারও আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবান। আশঙ্কা করা হচ্ছে তালেবানের উত্থানে ফিরে আসতে পারে কঠোর শরিয়া আইনসহ আরও এমন অনেক কিছুই যা আফগানরা ২০ বছর আগে ফেলে এসেছিলো। তবে আফগানিস্তানের মানুষ এবার সর্বোত উপায়ে শান্তি চায়, হাজার বছরের সংঘাতের পর এবার যেন শান্তি-স্থিতিশীলতা ফিরে আসে দেশে সেটাই প্রত্যাশা আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষদের।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »