Ultimate magazine theme for WordPress.

পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা অপরাধে জড়াচ্ছেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন জড়িতদের শাস্তি পেতে হবে বছরে গড়ে ২ হাজার জনের চাকরি যাচ্ছে

0

সমাজের অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের ঘাড়ে সেই পুলিশের মধ্যেই বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। অপরাধে জড়াচ্ছেন পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা। আগে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা সাধারণ অপরাধে জড়ালেও এখন ছিনতাই, মাদক-নারী নির্যাতনসহ বড় অপরাধে জড়াচ্ছেন এসপি পর্যায়ের কর্মকর্তারাও। মাঠ পর্যায়ের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নানা অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তারা বিব্রত হচ্ছেন।

সম্প্রতি নায়িকা পরীমণির সাথে ডিএমপির এডিসি সাকলায়েনের প্রেম, ফেনীতে সোনার বার ছিনতাইয়ের সঙ্গে ছয় পুলিশ সদস্য জড়িত থাকা এবং পিবিআইয়ের এক এসপি ধর্ষণের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় বেশ বিব্রত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। স¤প্রতি যেসব পুলিশ সদস্য বিভিন্ন অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে তাদেরও শাস্তি হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নানা অপরাধে জড়িয়ে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য চাকরি হারাচ্ছেন। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, অপহরণ, খুন, ছিনতাই, নির্যাতন, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। অনেককে নানা লঘুদন্ড দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে, পুলিশ এদের বাইরে নয়। মানুষ যখন প্রলুব্ধ হয় তখন অপরাধ করে। শারীরিক ও মানসিক কারণেও অপরাধ করে থাকে। এসব মৌলিক কারণেই অপরাধ করে মানুষ। শুধু শাস্তি দিয়েই পুলিশ বাহিনীকে অপরাধে জড়ানো থেকে দূরে রাখা যাবে না। যে সব কারণে অপরাধ হয় সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পুলিশ বাহিনী তার জন্য চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে-বিদেশে পুলিশের অনেক ভাল কাজ রয়েছে। করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় পুলিশের বৈচিত্র্যময় মানবিক ভূমিকাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শ্রেণি, পেশা, লিঙ্গ, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জনমুখী দায়িত্ব পালন করে। করোনার সময়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে লড়াই করছে দেশের পুলিশ বাহিনী। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও বিভিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এ বাহিনীর সদস্যরা। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেয়া, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীর সুরক্ষায় কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, এমনকি মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফনও করছে পুলিশ। দরিদ্র ও অসহায় মধ্যবিত্তের ঘরে খাবারও পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে এ ধরনের কাজ করায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দেশের মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ শান্তি মিশনে থাকাকালীন একজন নারী পুলিশ ইন্সপেক্টরকে ধর্ষণের অভিযোগে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই নারী পুলিশ ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

এ ট্রাইবুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আফরোজা ফারহানা অরেঞ্জ জানান, অভিযোগকারী নারী পুলিশের ওই সদস্য বর্তমানে পরিদর্শক পদে আছেন। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন এখন বাগেরহাটে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) কর্মরত। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোক্তার হোসেনকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
পিপিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এখন মামলা হয়েছে, সে অনুযায়ী তদন্ত হবে। তদন্তেই সব জানা যাবে। তিনি আরো বলেন, যিনি মামলা করেছেন তিনি মামলা করার আগে পিবিআইতে কোনো অভিযোগ করেননি।
স¤প্রতি ফেনীতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ছয় কর্মকর্তা চট্টগ্রামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০টি স্বর্ণবার নিয়ে আত্মসাৎ করে। ব্যবসায়ীর মামলায় পরে ওই ছয় পুলিশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৫টি স্বর্ণের বার। বর্তমানে তারা রিমান্ডে রয়েছেন। এ ঘটনায় ছয় পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়।
চিত্রনায়িকা পরীমণির মামলা তদারকি করার এক পর্যায়ে তার সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন ডিবির এডিসি গোলাম সাকলায়েন। এরপর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসির পদ থেকে সরিয়ে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, পিআরবি-১৮৬১ (পুলিশ প্রবিধান) অনুযায়ী, কোনও পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু ও গুরু) বিধান আছে। গুরুদন্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও বিভাগীয় মামলা হয়। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত করা হয়। গুরুদন্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। আর ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইনস বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদন্ড দেয়ার বিধান আছে।
অপরাধে জড়িত পুলিশকেও শাস্তি পেতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পুলিশ বাহিনীর দু-একজন সদস্য অন্যায় করতে পারে। আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হচ্ছে। স¤প্রতি যেসব পুলিশ সদস্য বিভিন্ন অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন, তাদেরও শাস্তি হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ অপরাধে জড়ানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। স¤প্রতি যেসব পুলিশ সদস্য বিভিন্ন অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে তাদেরও শাস্তি হবে বলে জানান তিনি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। করোনায় পুলিশ বাহিনীর উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। তাদের অনেক ভালো কাজ আছে। ১০ বছর আগের বাহিনী আর এখনকার বাহিনীর মধ্যে অনেক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »