Ultimate magazine theme for WordPress.

নাক দিয়ে টেনে নেয়া যাবে করোনার টিকা! ট্রায়াল হবে বাংলাদেশে

0

সিরিঞ্জের সুই ফোটানো লাগবে না বরং নাক দিয়ে টেনে নেয়া যাবে করোনার এমন একটি টিকা আবিষ্কারের প্রক্রিয়ায় আছেন সুইডেনের বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, করোনাভাইরাসের সকল ভ্যারিয়েন্ট থেকে সুরক্ষা দেবে এই টিকাটি। অনুমোদন পেলে বাংলাদেশেও হবে এই অভিনব টিকার ট্রায়াল। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতাও হয়েছে।

এরইমধ্যে সুইডেনে প্রাণিদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে এই টিকাটি। সেখানে শতভাগ সফলতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এখন সবশেষ ধাপ অর্থাৎ মানবদেহে প্রয়োগের অপেক্ষা। এজন্য বাংলাদেশকে সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছেন গবেষকরা। যুগান্তকারী এ গবেষণাটি পরিচালনার জন্য এদেশের প্রধান গবেষক হিসেবে থাকবেন খ্যাতনামা দুই চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এবং অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির।

ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ জানান, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তীতে অগ্রসর হবো আমরা। এ প্রক্রিয়ায় প্রবাসী চিকিৎসকরা আমাদের সহযোগিতা করছেন।

এই গবেষণাকে ‘গেম চেঞ্জার’ উল্লেখ করে মেডিসিনের অধ্যাপক ও মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির  জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)’র অনুমতি পেলে আমরা মানবদেহে এর পরীক্ষা চালাবো। এটি খুবই কার্যকরী হবে বলে আমরা আশাবাদী। এমন ধরনের টিকা সফল হলে করোনা মোকাবেলায় সেটি বড় পদক্ষেপ হবে।

তিনি বলেন, টিকা গ্রহীতারা নিজেরাই খুব সহজে এটি গ্রহণ করতে পারবেন। কেন্দ্র গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। প্রচলিত টিকা সংরক্ষণে অনেক ব্যবস্থা নিতে হয়। এটির জন্য তেমন কিছুই লাগে না। খুব সহজেই সংরক্ষণ করা যায়।

সুইডেনের ক্যারোলিস্কা ইউনিভার্সিটি গবেষণা করে এই টিকাটি আবিষ্কার করেছে। ‘নন ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ থাকায় গত ৩ মাস ধরে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি জানিয়ে ডা. আহমেদুল কবির বলেন, এটা অনেক বড় একটি আবিষ্কার। আমরা এই মাসেই ট্রায়ালের জন্য আবেদন করবো। আমাদের দিক থেকে সব রিসার্চ প্রটোকল ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন বিএমআরসি’র অনুমোদনের অপেক্ষা। সেটি পেলে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে।

প্রচলিত টিকার সঙ্গে এই টিকার পার্থক্য:

বাংলাদেশে এই টিকাটির অন্যতম প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির নতুন এই টিকার সাথে প্রচলিত টিকার পার্থক্যগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি জানান-

সিরিঞ্জ, সুইয়ের ব্যবহার ছাড়া টিকাটি খুব সহজে ব্যবহার করা যাবে। এটি নাক দিয়ে টেনে নেয়া যাবে। টিকা দেয়ার জন্য কেন্দ্রে যেতে হবে না। বাসায় থেকে নিজেরাই টিকা নিতে পারবেন। ফ্রিজে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার দরকার হবে না। বাসার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা যাবে।

নিউমোনিয়ার মতো অনেক ভাইরাস বায়ুবাহিত, নাক দিয়ে প্রবেশ করে। যেহেতু এটা নাকের মাধ্যমে দেয়া হবে, ফলে শরীরের সিস্টেমিক অ্যান্টিবডির পাশাপাশি স্থানীয় একটি অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। সহজে পরিবহন, সরবরাহ করা যাবে, ব্যবহারও সহজ হবে।

টিকাটির সন্ধান কীভাবে পেল বাংলাদেশ সে প্রসঙ্গে ডা. এবিএম আবদুল্লাহ জানান, সুইডেনের এই আবিষ্কারের তথ্য জানতে পেরে ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশি এই ট্রায়াল বাংলাদেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে উদ্যোগী হন। সেক্ষেত্রে ট্রায়াল সফল হলে উৎপাদন মূল্যেই  টিকা সংগ্রহ করতে পারবে বাংলাদেশ। এমনকি দেশেও এই টিকার উৎপাদন করা যাবে।

সুত্র – যমুনা নিউজ

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »