Ultimate magazine theme for WordPress.

ক্রুজ মিসাইলের র‍্যাম এবং স্ক্যাম জেট ইঞ্জিন আসলে কি

0

ক্রুজ মিসাইলের  র্যাম (RAM) জেট এবং স্ক্যাম (SCRAM) জেট ইঞ্জিন আসলে কি এবং তা কিভাবে কাজ করে থাকে? জেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির একেবারে উচ্চ মাতায় আধুনিক সংস্করণ হচ্ছে র্যাম (RAM) জেট এবং স্ক্যাম (SCRAM) জেট ইঞ্জিন সমৃদ্ধ হাইপারসনিক গতির নেক্সড জেনারেশন ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম।

্যাম (RAM) জেট এবং স্ক্যাম (SCRAM) জেট ইঞ্জিন আসলে অতি উচ্চ গতি সমৃদ্ধ জেট ইঞ্জিন। যা সাধারণত যুদ্ধবিমান কিংবা পরিবহণ বিমানে ইনস্টল করার উপযোগী কোন জেট ইঞ্জিন নয়। বরং র্যাম (RAM) জেট ইঞ্জিনকে ৪.০ থেকে ৪.৫ ম্যাক বা সর্বোচ্চ ৫,৫১৩ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় এবং স্ক্যাম (SCRAM) জেট ইঞ্জিন মুলত নতুন প্রযুক্তির ক্রুজ মিসাইলকে ৫.০ থেকে ৬.০ ম্যাক ৬,১২৫ কিলোমিটার থেকে ৭,৩৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলার সক্ষমতা প্রদান করে ডিজাইন করা হয়েছে। এই জাতীয় ইঞ্জিনে আসলে কোন ফ্যান লাগানো থাকেনা। বরং ক্রুজ মিসাইলের চলন্ত অবস্থায় একটি নিদিষ্ট গতি অর্জন করার পরই কেবল র্যাম জেট এবং স্ক্যাম জেট ইঞ্জিন কাজ করতে শুরু করে। তাই এই ইঞ্জিনগুলোকে একেবারে শুরু বা জিরো অবস্থা থেকে চালু করার কোন সুযোগ নেই। তাই র্যাম (RAM) জেট এবং স্ক্যাম (SCRAM) জেট ইঞ্জিন সমৃদ্ধ ক্রুজ মিসাইলে একটি সলিড লিকুইড বুস্টার লাগানো থাকে। এই বুস্টার ক্রুজ মিসাইলকে একটি নিদিষ্ট পরিমাণ গতি প্রদান করার পর মিসাইল থেকে বুস্টার আলাদা হয়ে যায় এবং সুনিদিষ্ট স্পীডে পৌঁছানোর পরই কেবল স্বয়ংক্রিয়ভাবে র্যাম জেট বা স্ক্যাম জেট ইঞ্জিন চালু হয়ে নিজের কাজ শুরু করে দেয়।

্যাম (RAM) জেট ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ম্যাক ৪.০ থেকে ৪.৫ এবং স্ক্যাম (SCRAM) জেট ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতি হয় হাইপারসনিক বা ম্যাক ৫.০ থেকে ৬.০ কিংবা ৭.০ ম্যাক বা ৮,৫৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। ক্রুজ মিসাইলের র্যাম (RAM) জেট এবং স্ক্যাম (SCRAM) জেট ইঞ্জিন একেবারে নতুন একটি প্রযুক্তি। এই জাতীয় হাইপারসনিক গতির মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষনা এবং উন্নয়নে সফল হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত হাইপারসনিক গতির মিসাইলের প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। যদিও বর্তমানে স্ক্যাম জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করে হাইপারসনিক গতির ক্রুজ মিসাইল ডিজাইন এবং উন্নয়ন প্রতিযোগিতায় রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে একেবারে সবার উপরে উঠে এসেছে রেড জায়ান্ট চীনের নাম। চীন এখন তৈরি করেছে উচ্চ প্রযুক্তির এয়ার লাউঞ্চ বেসড ১০.০ ম্যাক গতির সিএইচ-এএস-এক্স-১৩ হাইপারসনিক মিসাইল সিস্টেম। সাবমেরিন এবং ব্যাটল শীপ থেকে নিক্ষেপ করা যায় এমন অত্যন্ত শক্তিশালী হাইপারসনিক জারকন ক্রুজ মিসাইল তৈরি করেছে রাশিয়া। ১,০০০ কিলোমিটার রেঞ্জের স্ক্যামজেট ইঞ্জিন চালিত রাশিয়ার জারকন ক্রুজ মিসাইলের সর্বোচ্চ গতি ৯.০ ম্যাক বা ১১,০২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা হবে। তবে বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে হাইপারসনিক গ্লাইড বডি (সি-এইচজিবি) সিস্টেম। যার গতি হবে কিনা অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় ১৭.০ ম্যাক বা তার কাছাকাছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »