Ultimate magazine theme for WordPress.

এলিয়েন কি শুধু আমেরিকায় দেখা যায়?

0

কিছু দিন আগে বিবিসিসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির মিডিয়ায় প্রচার করা হয় যে, আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথিবীর বাইরে থেকে আগত উন্নত কোন সভ্যতার এলিয়েন এবং তাদের আকাশযান (ইউএফও) উড়তে দেখা যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত বেশকিছু ভিডিও ইউটিউবে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। আবার আমেরিকার সরকারের তরফে বিষয়টিকে অনেকটাই সত্য বলে প্রচার করা হচ্ছে। যদিও আমরা টিভির পর্দায় এলিয়েন এবং তাদের আকাশযান (ইউএফও) নিয়ে যা দেখছি তার সবই কিন্তু হলিউডের বিভিন্ন এলিয়েন নিয়ে সাই-ফাই সিনেমার অংশ অথবা ফটোশপ এডিটেড কাটছাঁট কোন ভিডিওর অংশ মাত্র।

এখানে আরেকটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে যে, বার বার কেনই বা ঘুরে ফিরে সেই আমেরিকাতেই এলিয়েন এবং তাদের ইউএফও যান যাতায়াত করে? অথচ অন্য উচ্চ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশ রাশিয়া, চীন কিংবা ইউরোপের কোন দেশে এটা তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না কেন? যা হোক এগুলো কিন্তু আমেরিকার ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেয়া প্রপাগাণ্ডা বা অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। তাছাড়া এর বাস্তব কোন ভিত্তিক আছে বলে মনে হয় না। আবার আমেরিকার মিডিয়ায় এমনও খবর প্রচার করা হয় যে, এড়িয়া-৫১ এ মার্কিন সামরিক বাহিনী পৃথিবীর বাহিরে থেকে আসা এনিয়েনদের আটক করে তাদের উপর গবেষণা করে যাচ্ছে তারা।

২০২০ সালের শেষের দিকে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ভীন গ্রহের এলিয়েনদের সাথে চুক্তি করা নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে ইসরাইলের এক নিউজ এজেন্সী। আর এই নিউজে ট্রাম্পের হাত ধরে অনেক কাল্পনিক কাহিনী প্রচার করা হয়েছিল। সেই নিউজে জানানো হয় যে, মার্কিন প্রশাসনের সাথে নাকি ভীনগ্রহের এলিয়েনদের সাথে নাকি একটি চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। ইজরায়েলের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্তন সিকিউরিট চিফ হায়েম এশাদ চাঞ্চল্যকর এহেন উদ্ভট তথ্যটি দিয়ে মিডিয়ায় বেশ শোরগোল সৃস্টি করে ফেলেন।

তাছাড়া এলিয়েনের গুজব ছড়িয়ে দিয়ে আমেরিকার কিন্তু পরোক্ষভাবে হলেও এর মাধ্যমে কৌশলে বিশ্বের অন্যান্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ শক্তিধর দেশগুলোকে ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছে যে তাদের সাথে অন্য গ্রহের উন্নত সভ্যতার এলিয়েনদের সাথে তাদের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। ভাবখানা এমন যে, তারা এলিয়েনদের সহায়তার সারা পৃথিবী নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে সক্ষম। এলিয়েনের সহায়তায় যে কোন দেশের সামরিক সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে আমেরিকা। এখন ইউটিউবে সার্চ দিলে এলিয়েন লাইফ এবং ইউএফও নিয়ে হাজারো সিনেমা কিংবা ভিডিও ক্লিপের কোন অভাব হয় না।

আবার আগে এমন বলা হয় যে, এলিয়েনদের আকাশযান (ইউএফও) কে লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান পাঠানো হলে আকাশে বিমানের সুইচ অচল হয়ে গেছে বা সিস্টেম কাজ করছে না। তবে এটা আমাদের বুঝতে হবে যে আকাশে উড্ডয়নরত যুদ্ধবিমান বা পরিবহণ বিমানের সিস্টেম কয়েক মিনিটের জন্য হলেও কাজ না করলে কিংবা বন্ধ হয়ে গেলে তা কিন্তু সাথে সাথে আকাশেই ক্রাস কিংবা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের আমেরিকার মিডিয়ায় ছড়ানো এসব গুজবে পাত্তা না দেয়াই উত্তম। তবে এটা ঠিক যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের প্রথম স্থানীয় প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশ এবং তাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ের কাছে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলো আসলে কিছুই না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে চীন ও রাশিয়ার উত্থান এবং বৈপ্লবিক অগ্রযাত্রা মার্কিন প্রশাসনকে চরমভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে আমেরিকা এখন চাইছে যে কোন ভাবে হোক বিশ্বের প্রথম স্থানীয় সুপার পাওয়ার দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে।

আবার কোল্ড ওয়ার চলাকালীন সময়ে তৎকালীন বিশ্বের প্রধান সামরিক পরাশক্তি সভিয়েত ইউনিয়নকে বোকা বানানো্র পাশাপাশি তাদের চাপে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে এই প্রপাগাণ্ডা ও অপপ্রচার চালাতো খোদ মার্কিন সামরিক বাহিনী ও দেশটির চতুর মিডিয়াগুলো। এখনে প্রকাশ থাকে যে, কোল্ড ওয়ার চলাকালীন মুহুর্তে সভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আবার সভিয়ত ইউনিয়নের নিউক্লিয়ার এণ্ড থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র ও ইন্টারকন্টিন্যান্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) ডিজাইন এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ন্যাটো জোট অপেক্ষা অনেকটাই এগিয়ে যায়। আর প্রকাশ্যে কিছু না বললেও সভিয়েত ইউনিয়ন বা বর্তমানে রাশিয়ার নিউক্লিয়ার এণ্ড থার্মোনিউকিয়ার ভিত্তিক সামরিক সক্ষমতাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো জোট এখনো পর্যন্ত জমের মতো ভয় করে। তাই আমেরিকা প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের ঘটনা বিশেষ করে এলিয়েন সাথে যোগাযোগ, ইউএফও আটকের মতো বিভিন্ন ব্যাতিক্রমী ইস্যুগুলোকে প্রকাশ্যে এনে মার্কিন সরকার ও তার সামরিক বাহিনী সভিয়েত ইউনিয়নকে টেক্কা দেবার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেত।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া প্রচার করতে থাকে যে, নাসা নাকি মঙ্গলগ্রহে এলিয়েনের সন্ধান পেয়েছে এবং সেখানে নাকি প্রবাহমান নদী বয়ে চলেছে। যা হোক মঙ্গল গ্রহ যে একেবারে প্রাণহীন এবং মানব জাতির বসতির জন্য একেবারে অনুপোযুক্ত তা খোদ আমেরিকার নাসার চলমান বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই মনে হচ্ছে যে, এখন ইচ্ছেমতো আমেরিকার পক্ষে মিথ্যা গুজব বা প্রপাগাণ্ডা সারা বিশ্বে খুব সহজেই ছড়িয়ে দেয়া আর হয়ত আর সম্ভব হবে না।

মঙ্গলগ্রহ নিয়ে আমারিকার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশেষ করে চীনের উচ্চ প্রযুক্তির মহাকাশ যান প্রেরণের ঘটনায় অনেকটাই হতাশ ও নাখোশ হয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে খুব দ্রুত সাবেক সভিয়েত ইউনিয়নের মতো চীন তার যোগ্য স্থান দখল করে নিতে যাচ্ছে। চীন এখন তাদের নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি করছে। তারা চাঁদের ঠিক অন্ধকারচ্ছন্ন উলটো পিঠে উচ্চ প্রযুক্তির রোভার পাঠিয়ে নতুন চমকের সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলগ্রহে নিজের মতো করে অত্যাধুনিক রোভার ও ল্যাণ্ডার পাঠিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে। আর এখন কিনা চীনের নিজেরদের তৈরি স্পেস স্টেশনে তিনজন নভোচারী অবস্থান করে তাদের গবেষণামুলক কাজ অত্যন্ত সাবলীলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »