Ultimate magazine theme for WordPress.

রহস্যে ঘেরা পৃথিবীর আজানা ৫টি জায়গা। যার উত্তর বিজ্ঞানীরাও দিতে পারেননি

পৃথিবীর রহস্যপূর্ণ জায়গা যা এমনকি বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যুগেও এই স্থানগুলি তাদের চারপাশে এক ইন্দ্রজালের মতো ঘোর বজায় রেখে চলেছে

0

পৃথিবীর রহস্যময় অজানা ৫টি জায়গা
আমাদের গ্রহতে অনেক অজানা রহস্য আছে যেটা আমাদের কাছে অজানা তবে এই গ্রহ নিয়ে রহস্যের কোনও শেষ নেই । পৃথিবী তে এমন অনেক জায়গা আছে যা নিয়ে মানুষের জানার কৌতূহল কমেনি কোনোদিন। আমাদের আশেপাশের চেনা গন্ডির বাইরেও রয়েছে কিছু বিশেষ রহস্যপূর্ণ জায়গা যা এমনকি বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যুগেও এই স্থানগুলি তাদের চারপাশে এক ইন্দ্রজালের মতো ঘোর বজায় রেখে চলেছে। কিন্তু এইসব জায়গার উৎপত্তি নিয়ে আজও কোনো সমাধান মেলেনি, জানা যায়নি এর রহস্যের কথা। জেনে নিন কিছু অজানা তথ্য ৫টি রহস্যময় জায়গার সমন্ধে ।

আওকিগাহারা (জাপান):

আওকিগাহারা হচ্ছে জাপানের ফুজি পর্বতমালার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ৩৫ বর্গ কিলোমিটারের একটি জঙ্গলে । টোকিও শহর থেকে ১০০ মাইল পশ্চিমে এই অভিশপ্ত জঙ্গল রয়েছে যা সুইসাইড ফরেস্ট নামে পরিচিত। এই বনে গাছের ঘনত্ব এবং উচ্চতা বেশী বলে স্থানীয়দের কাছে এটি “জুকাই” নামে পরিচিত। এটি সি অব ট্রিজ অথবা গাছের সমুদ্র নামে পরিচিত। এই বন থেকে প্রতিবছর গড়ে একশ জন মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই জঙ্গল টিকে মানুষেরা অভিশপ্ত বলেও মনে করেন। বনের সবর্ত্রই ছড়িয়ে থাকে মৃত মানুষের কঙ্কাল ও হারগোড়। এখানে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব না থাকায় সবসময় এই স্থানে নিস্তব্ধতা বিরাজ করে। তাই এই বনটি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু । জাপানি পুরাণ মতে, এ বনে প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায় এবং এটি আত্মহত্যা করার জায়গা হিসেবে বিবেচিত। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন অনেক সময়ে অদ্ভুত ধরণের আওয়াজ শোনা যায় । তবে বিশেষজ্ঞরা এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি আজ পর্যন্ত ।

মগুইচেং(চীন):

রহস্যেঘেরা একটি জায়গা মগুইচেং যেটি চীনের জিনঝিয়াং মরুভূমিতে অবস্থিত। এর অর্থ ‘দাড়ায় শয়তানের শহর’। এখানের বসবাসকারীরা অদ্ভুত সব ঘটনা দেখেছেন বলে দাবি করেন। বসবাস কারীরা এও মনে করেন যে এখানে শয়তানেরও বসবাস আছে। এছাড়া পর্যটকরা এখানে বাতাসে দূর থেকে বিভিন্ন আজব আজব সুর ভেসে আসতে শুনেছেন , শুনেছেন ভিন্ন রকমের সব অদ্ভুত আওয়াজ । অনুভব করেছে এক অদ্ভুত ধরণের অনুভূতি। কখনও বাচ্চার কান্নার আওয়াজ আবার শুনেছেন কেউ কেউ বাঘের গর্জনও । তবে এই শব্দের উৎস কেউই খুঁজে পাননি কেউ কোনোদিনও । স্থানটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও জনশূন্য। দর্শনার্থীরা এই স্থানে রহস্যময় আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এসব শব্দের কোনও উৎসের সন্ধান আজও কেউ পাননি।

কানো ক্রিস্টেলস (কলম্বিয়া):

কানো ক্রিস্টেলস মূলত একটি নদী । এটি কলম্বিয়ায় অবস্থিত। তবে স্থানটি পর্যটকদের আকর্ষিত করলেও এটি সাধারণ কোনো নদী নয়, বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নদী এটি। এটিকে অনেকে বলে স্বর্গ থেকে নেমে আসা নদী, আবার কেউ কেউ বলেন, তরল রংধনু নদী। নদীটি একই সাথে জীব-বৈচিত্রে ভরপুর আর সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ। বছরের অধিকাংশ সময় এটা সাধারণ নদীর মতই থাকে , তবে খুব অল্প সময়ের জন্য এর রূপ বদলে যায়। মূলত সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এমনটি হয়। এ সময়ে নদীর জলের রঙের খেলা দেখা যায়। লাল, নীল, গোলাপি, সবুজ এবং হলুদ রঙের অপূর্ব সমন্বয় ভেসে উঠতে দেখা যায় এই নদীর জলে। এই জন্য এই নদী টি খুবই জনপ্রিয় হয়ে চলেছে পর্যটকদের কাছে । তাই সময় পেলে আপনিও ভ্রমণ করে আস্তে পারেন এই জায়গাটিতে এতে আপনার মানসিক চিন্তা দূর করতে সাহায্য করবে ।

রিচাট স্ট্রাকচার (মৌরিতানিয়া):

রিচাট স্ট্রাকচার যা ‘সাহারার চোখ’ নামেও পরিচিত। এটি সাহারা মরুভূমিতে প্রায় ত্রিশ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত । এটা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন যে এটা হয়তো অগ্নুৎপাত এর ফলে তৈরি হয়েছে । কিন্তু এটা নিয়ে এখনো রহস্য রয়েই গেছে।

ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালি (অ্যান্টার্কটিকা):

ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালিকে পৃথিবীর সবথেকে গোপনীয় জায়গা হিসেবে মনে করা হয়। এটা সম্ভবত পৃথিবীর সবথেকে শুষ্ক জায়গা। অ্যান্টার্কটিকার বরফ ও তুষারের মধ্যে এর অবস্থান হলেও প্রতিবছর এখানে মাত্র চার ইঞ্চি বৃষ্টি হয়। এটি সম্পূর্ণ বরফশূন্য ও খালি। কিছু শৈবাল ও মস জাতীয় উদ্ভিদ ছাড়া আর কোনো উদ্ভিদ জন্মায় না এখানে। বিজ্ঞানীরা এটার আবহাওয়াকে মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »