Ultimate magazine theme for WordPress.

চাঁদা না দিয়ে যাত্রাবাড়ী ছাড়ার উপায় নেই

0

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১টা। অদৃশ্য কারণে বন্ধ রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনের অংশ। গাড়ি চলছিলো উল্টো পথে। থানা পেরিয়ে একটু সামনে সড়কে লাঠিসোটা নিয়ে ব্যস্ত দেখা যায় কয়েকজন যুবককে।
আরও কাছে গিয়ে দেখা যায়, উল্টো পথ থেকে সঠিক পথে বাঁক নিতে যাওয়া প্রতিটি ট্রাক থেকে চাঁদা তুলছে তারা। না দিলে নানাভাবে হয়রানিও করা হচ্ছে ট্রাক চালকদের।
চালকরা অভিযোগ করেন, যাত্রাবাড়ী হয়ে কোথাও যেতে বা আসতে সিটি করপোরেশনের নামে এদের চাঁদা দিতে হয়। কখনো ১০০, কখনো ৭০ কখনো, ৩০ টাকা নেয় তারা। না চাইলে দেওয়া হয় না রশিদও।
যেসব ট্রাক চালককে রশিদ দেওয়া হয়েছে তা যাচাই করে দেখা যায়, হলুদ কাগজে ১০০ টাকার রশিদে ঢাকা দক্ষিণ পৌরসভা সিটি টোল লেখা। রশিদে লেখা রয়েছে- এটি টপ ওভার টার্মিনালের টোল আদায়ের রশিদ। যা আদায় হবে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলর থেকে। কিন্তু এই রশিদের কোথাও ইজারাদারের কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।
কিছু চালকের কাছে ৩০ টাকার একটি রশিদ পাওয়া যায়। এটিতে সরাসরি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই রশিদে লেখা আছে, স্টাফ ওভার টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট যানবাহন থেকে আদায় করা হবে এই টোল। এতে ইজারাদারের তথ্যের জায়াগায় লেখা আছে শুধু ‘উত্তরা, ঢাকা’।
শুধু যাত্রাবাড়ী নয়, গোলাপবাগ, ওয়ারি, ডেমরা, মতিঝিলসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট পার হতে এভাবে অন্তত দেড়শো টাকা চাঁদা দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেন ট্রাক চালকরা। স্থানীয়রা জানান, শুধু ট্রাক নয়, ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে যাওয়া সব পরিবহন থেকেই নেওয়া হয় এই চাঁদা। যদিও লকডাউনে অন্য পরিবহন চলাচল না করায় এখন শুধু ট্রাক থেকে টোল তোলা হচ্ছে।
ট্রাক চালক মজনু বলেন, আমরা টার্মিনাল ব্যবহার করি না। তারপরও এই রাস্তা দিয়ে গেলেই আমাদের কাছ থেকে টার্মিনালের চাঁদা নেয়। রশিদ দিলে একশো নেয়, রশিদ ছাড়া হলে ৭০ টাকা দিলেই চলে।
আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, এই যুবকদের হাতে লাঠি থাকে, অস্ত্রও থাকে। বাড়াবাড়ি করলে মারধর করে। গাড়ির গ্লাস ভেঙে দেয়। মোটকথা, এই রাস্তা পার হতে হলে টাকা দিতেই হবে।
আজিজুল হক নামে এক ট্রাক চালক বলেন, টোলের ভয়ে ফ্লাইওভারে উঠি না। অথচ নিচেও টোল দিতে হয়। লকডাউনেও ওরা মাফ করে না। দিতে রাজি না হলে গ্লাস ভেঙে দেয়।
কিসের চাঁদা তোলা হচ্ছে জানতে গেলে সাংবাদিক দেখে পালিয়ে যায় যুবকরা। অবশ্য ঘণ্টাখানেক পরই আবার শুরু হয় চাঁদাবাজী। জানতে চাইলে দাবি করেন, সিটি করপোরেশনের টোল তুলছেন তারা। কিন্তু ইজারাদারের পরিচয় জানতে চাইলে বা মোবাইল নম্বর চাইলে জানেন না দাবি করে কোনো তথ্য দেয়নি তারা।
সিটি করপোরেশন এভাবে কিসের চাঁদা আদায় করছে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখার মহা-ব্যবস্থাপক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বাংলাভিশন ডিজিটালকে জানান, সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাক থেকে কোনো টোল আদায় করা হয় না। তবে নগরীর ১৬টি পয়েন্টে ট্রাক থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে কেউ নিয়ে থাকলে তা অবৈধ।
তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো টোল আদায়ের অনুমোদন দেইনি। আপনারা পুলিশকে জানান। সিটি করপোরেশনের নামে চাঁদা উঠছে তাদের কী কোনো দায়িত্ব নেই? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এখনই জানাচ্ছি। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবো।
কিন্তু পরদিনও দেখা যায় একই স্থানে চাঁদা তোলা হচ্ছে। জানতে চাইলে এবারও পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখার মহা-ব্যবস্থাপক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, এটা সিটি করপোরেশনই অনুমোদন দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও পরিবহন শাখার মহা-ব্যবস্থাপক, উনারাই ইজারাদার জাকিয়া সুলতানাকে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু তার ট্রাক থেকে টোল তোলার কোনো নিয়ম নেই। অথচ ইজারাদার আবার সাব ইজারা দিয়েছেন। এখন তারা বেশি টাকা তুলতে ট্রাক থেকেও টোল তুলছে।
তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে ট্রাক চালকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্রাক চালক এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে বলে দিয়েছি এবং আমাদের নম্বর দিয়ে দিয়েছি। বলেছি, কেউ টোল বা চাঁদা চাইলে যেন আমাদের জানায়। ট্রাক চালাকরা পুলিশকে না জানালে কী করতে পারি বলেন? আমরা তো অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নিতে পারি না। অভিযোগ এলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »