Ultimate magazine theme for WordPress.

হেপাটাইটিস প্রতিরোধে যা মেনে চলবেন

0

প্রতি বছর দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে প্রায় ২০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। এছাড়া হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাসেও আক্রান্ত হন অনেকে।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক পরিপাকতন্ত্র ও লিভাররোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ ডক্টর টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা যদি জানতে পারি যে এই রোগ কীভাবে ছড়ায়, তাহলে এই রোগ প্রতিরোধযোগ্য।

তিনি বলেন, ব্লেড, রেজার, সিরিঞ্জ, ইনজেকশন, সুচ- এগুলোর মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। সুতরাং এই জিনিসগুলো একবার ব্যবহার করতে হবে। তাহলে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে পারবো।

অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, কখনো রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন রক্ত নেওয়ার আগে সেটাকে খুব ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে যে রক্তদাতার রক্ত ভাইরাসযুক্ত কিনা। যদি রক্তদাতার রক্ত দূষিত বা ‘বি’ কিংবা ‘সি’ ভাইরাসযুক্ত হয়, তাহলে অবশ্যই রক্ত নেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, মায়ের শরীরে যদি ভাইরাসযুক্ত রক্ত থাকে, তাহলে মায়ের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে এ ভাইরাস প্রবেশ করে। তাই সবাইকে বিশেষভাবে মেয়েদের শরীরের রক্ত আগে চেক করে দেখতে হবে যে ভাইরাস আছে কিনা। থাকলে অবশ্যই তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, যাদের শরীরে ভাইরাস নেই, তাদেরকে টিকা দিয়ে দিতে হবে। এই টিকা হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস প্রতিরোধ করার অন্যতম প্রধান উপায়।

তিনি বলেন, অবশ্যই সবার ব্যক্তিগতভাবে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। রক্তে ভাইরাস না থাকলে অবশ্যই বিলম্ব না করে টিকা দিয়ে দিতে হবে। এই টিকা আমাদের দেশে এখন সর্বত্র পাওয়া যায়। সুলভমূল্যে পাওয়া যায়।

অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, যেহেতু ‘বি’ ভাইরাস বাচ্চাদের মধ্যে ভয়াবহভাবে ছড়ায়, তাই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ বাচ্চা এখন ‘বি’ ভাইরাসেরটিকা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস যেহেতু খাদ্যবাহিত রোগ, সুতরাং খাবার গ্রহণ করার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আর তাছাড়া এ ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকর টিকা রয়েছে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। স্ট্রিটফুড, জাঙ্কফুড, ফাস্টফুড- যেসব খাবারে হাইজিন মেনটেইন করা সম্পর্কে আমরা অবগত নই, সেসব খাবার আমরা খাব না।

তিনি বলেন, খাবার পানির ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করবো। সম্ভব হলে পানি আমরা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করবো। আমাদের দেশে অনেকেই এখন পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করে, এটা অত্যন্ত ভালো। পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খেলে ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়।

অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, কারও শরীরে এই জীবাণু পাওয়া গেলে তাকে চিকিৎসার আওতায় এনে তার শরীর থেকে এ ধরনের ভাইরাস দূর করতে হবে। আর সুসংবাদ হলো- দেশে এসব ভাইরাস দূর করার জন্য মুখে খাওয়ার ওষুধ পাওয়া যায় অত্যন্ত সুলভ মূল্যে।

তিনি বলেন, কারও যদি হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস পজিটিভ হয়, তাহলে তার বিলম্ব না করে এখনই চিকিৎসা নিতে হবে। ফলে তিনি ভালো থাকবেন, তার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসার থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। পাশাপাশি তার শরীর থেকে জীবাণু অন্য কারও শরীরে ছড়াবে না।

সূত্র: ডক্টর টিভি

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »