Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলে বাংলাদেশী অভিবাসন………

0

ব্রাজিলে বাংলাদেশী অভিবাসন একটি নতুন প্রবণতা। কেননা দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে বাঙালিদের গ্রহণের কোনও অতীত ঐতিহ্য নেই। ব্রাজিলে বেশিরভাগ বাংলাদেশী অভিবাসী ব্রাজিলিয়ান সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় এবং সুরক্ষা চেয়ে থাকেন। বেশিরভাগ দেশ বিদেশিদের শরণার্থী হিসাবে বিবেচনা করে, যদিও প্রথমবারের মতো ২০০০-এর দশকের শেষদিকে বাঙালিরা ব্রাজিল আসতে শুরু করে এবং ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে অভিবাসীদের ঢল নামে। অভিবাসীরা নতুন বাড়ি হিসাবে ব্রাজিলকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হল তাদের কাছে দেশটি সুযোগে ভরপুর, যা তারা বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নির্যাতনের জন্য পান না।

ব্রাজিলিয়ান পুলিশ বাংলাদেশি নাগরিকদের সে দেশে মানব পাচারের সাথে সংযোগ খুঁজে পায়। সাইফুল্লাহ আল-মামুন নামে এক বাংলাদেশিকে ব্রাজিলিয়ান ফেডারেল পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যাকে বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত মানব পাচারকারী হিসেবে মনে করা হয়। ব্রাজিলের পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়, ‘সে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের লোকজন পাচার করে প্রথমে ব্রাজিল এবং তারপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঠায়।
কিছু অভিবাসী আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে শোষণের শিকার হন, তবে যারা সেদেশে বৈধভাবে কাজ করেন তারা এমন কারখানায় নিযুক্ত যেখানে হালাল পন্থায় জবাইকরণ (মাংস কাটার ইসলামী পদ্ধতি) করা হয়।
কেবল ভেনিজুয়েলা, হাইতিয়ান, কিউবান এবং চীনাদের পরেই শুধুমাত্র ২০১৮-এর জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই বাংলাদেশিরা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে আশ্রয় প্রার্থনার জন্য পঞ্চম গ্রুপ ছিল।

তাছাড়া বর্তমানে ব্রাজিলে অবস্থানরত বাংলাদেশী অভিবাসীরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কেউ শুরু করেছেন কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা , কেউবা সুপারমার্কেট , আবার অনেকেই বিভিন্ন শহরের মেলায় জীবিকা নির্বাহে শুরু করেছেন ছোট ছোট দোকান । সবদিক দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভালই আছেন । যারা ভালো নেই তারা ইতিমধ্যেই ব্রাজিল ছেড়ে অবৈধ পথে চলে গেছেন আমেরিকায় । বিশ্বে করণা মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে । সেই মন্দা ইতিমধ্যে ঢুকে পড়েছেন ব্রাজিলেও । যার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন । তবে অন্যান্য দেশের মতো  ব্রাজিলে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ভাবছেন হয়তো খুব শিগ্রই কেটে যাবে এই মন্দা ।

#প্রতিবেদন লিখেছেন – জহুরুল হক বশির ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »