Ultimate magazine theme for WordPress.

‘বোনরে আমারে বাঁচা, চারদিকে আগুন’ বলার পরই বন্ধ হয়ে যায় ফোন

0

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে ভীড় করছেন স্বজনরা। নিখোঁজদের একজন জাহানারা (৩৫)। তিনি ওই ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। তাঁর দেবরের স্ত্রী নাজমা বলেন, সন্ধ্যার দিকে জাহানারা ফোন করে বলেছিলো, বোনরে আমারে বাঁচা। আর মনে হয় বাঁচবো না। চারদিকে আগুন আর আগুন। এরপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ। আমরা থাকি মিরপুরে। তাই আর খোঁজ নিতে পারিনি।
তিনি বলেন, রাতভর তাঁর নম্বরে কল দিয়ে ফোন বন্ধ পেয়েছি। তাই এখন মর্গে এসেছি তাঁকে খুঁজতে। কিন্তু এখনও কোনো হদিস পাইনি।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড-এর কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়ালো।
উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো এখনও চিহ্নিত করতে পারেননি স্বজনরা। তাই বিকাল থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে ভীড় বাড়ছে স্বজনদের। কেউ কেউ ছবি দেখিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন। কারো কারো স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ঢামেক মর্গ এলাকা।এই ঘটনায় জাহানারা’র মতো নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি। তাঁদের খোঁজেই ঢামেকের মর্গে স্বজনদের আহাজারি।
অপর নিখোঁজ সাজ্জাদ হোসেন সজিব-এর বড় ভাই মাহফুজ বলেন, আমার ছোট ভাই যে ফ্লোরে কাজ করতো সেখান থেকে অনেকে বেঁচে ফিরেছেন। আবার অনেকে নিখোঁজও রয়েছেন। আমার ভাইকেও আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকে ফোনে পাইনি। তাই তার খোঁজে মর্গে এসেছি। যদি অন্তত মৃতদেহটা পাই!
মা জয়িতা আক্তারকে (৩২) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মর্গের সামনে এসে মায়ের মৃতদেহ খোঁজার চেষ্টা করছেন ছেলে শামীম। তিনি বলেন, প্রতিদিন রাত আটটায় মা বাসায় আসতো। গতকাল আসেনি। খোঁজ নিতে গিয়ে শুনি মায়ের কারখানায় আগুন লেগেছে। এরপর মায়ের ফোন বন্ধ পাই। রাত থেকে আজ পর্যন্ত মায়ের নাম্বার বন্ধ। তাই মর্গে এসেছি। যদি মায়ের মৃতদেহটাও খুঁজে পাই!
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম ব্যাপারী বলেন, নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে, আহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নিহতদের মৃতদেহের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা বলেন, সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে ঠিক কী কারণে আগুনটি লেগেছিলো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »