Ultimate magazine theme for WordPress.

হাতিরঝিলে দর্শনার্থীদের টার্গেট করতো টিকটক হৃদয়-এর সহযোগীরা

0

রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন এলাকা হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা প্রেমিক যুগলদের ব্ল্যাকমেইল করতো আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত টিকটক হৃদয় বাবু’র সহযোগীরা। এমনকি তারা হাতিরঝিল এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটও নিয়ন্ত্রণ করতো।
সোমবার (৫ জুলাই) বিকালে কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এর আগে রবিবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে টিকটক হৃদয় বাবুর ৫ সহযোগীকে বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারে র‍্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- অনিক হাসান ওরফে হিরো অনিক (২৫), মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে এ্যাম্পুল (৩৪), আবির আহমেদ রাকিব (২২), মো. সোহাগ হোসেন আরিফ (৩৬) ও হিরো (২২)।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব-৩-এর একটি দল।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত অনিক হাসান ওরফে হিরো অনিক মগবাজার হাতিরঝিল ও এর আশেপাশের এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। বর্তমানে তার নামে হত্যা, মাদক ও অস্ত্র, ডাকাতিসহ ৯টি মামলা রয়েছে। তার গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০-২৫ জন। সে কিশোর অবস্থা থেকেই অপরাধ চক্রের সংগে জড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সংঘবদ্ধ দল গড়ে তোলে। ২০১৬ সালে আলোচিত ‘আরিফ হত্যা’ মামলার মাধ্যমে পরিচিতি পায় সে।
এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃত হিরো অনিক একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে এবং ছাড়াও পেয়েছে। লকডাউনকে পুঁজি করে মানুষের চলাচল কম হওয়ার কারণে হাতিঝিল এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো সে। এছাড়া যারা হাতিরঝিলে ঘুরতে যেতো তাদেরকেও টার্গেট করতো। সে লকডাউনের মধ্যে বাসায় বাসায় মাদক সাপ্লাই করতো বলেও স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, এই সংঘবদ্ধ দল মগবাজার, মধুবাগ, মীরবাগ, নতুন বাজার পেয়ারাবাগ, চেয়ারম্যান গলি, আমবাগান ও হাতিরঝিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে মাদক সিন্ডিকেট ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছিলো। বিভিন্ন সময়ে সে ও তার দল হাতিরঝিলে আগত দর্শনার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ছিনতাই ও চাঁদাবাজী করতো।
এছাড়া সে টিকটক হৃদয়কে টিকটক গ্রুপের নেশা ও আড্ডার জন্য মাদক সরবরাহ করতো। গ্রেফতার অন্য চার আসামি তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। তাদের কাছ থেকে মাদক চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান র‍্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »