Ultimate magazine theme for WordPress.

নারী আসামিকে যৌন নির্যাতন: থানার ওসি ও পরিদর্শক প্রত্যাহার

0

হত্যা মামলার নারী আসামিকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মাইনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ শাহজাহান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কারণে ইতিমধ্যে ক্লোজড করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকালে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এই আদেশ জেলা পুলিশ সুপারকে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান।
তিনি জানান, বরিশালের উজিরপুরে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এক নারী আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর আদালত যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ওই ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী আসামিকে রিমান্ডে নি‌য়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি দায়িত্ব অবহেলার কারণে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় তাঁর ভাই বরুন চক্রবর্তী ওই দিনই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এক নারী আসামিকে ওই দিনই গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে থানা পুলিশ আদালতে তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলী আদালত নারী আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই ওই নারীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাঁকে খুড়িয়ে হাটতে দেখে এর কারণ জানতে চান আদালত। ওই নারী আদালতের কাছে তাকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে তাঁর দেহ পরীক্ষা করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।
এরপর আদালত ওই নারীকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান এবং তাকে নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে। পরিচালক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যা‌তে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »