Ultimate magazine theme for WordPress.

‘সরকার রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বদলে দিচ্ছে’

0

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে পুরো রাষ্ট্রের কাঠামোটাকে পরিবর্তন করে দিচ্ছে। এটা ভয়াবহ একটা অপরাধ।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ভাবনা-আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের চরিত্র আমরা নির্ধারণ করেছিলাম -গণতান্ত্রিক চরিত্র, সেটিকেই তারা পুরোপুরিভাবে বদলে দিতে শুরু করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে। আর সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও একটা বিশাল ভুমিকা পালন করেছে।
সোমবার বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে ‘রাজনৈতিকভাবে’ সমাধান আনতে হবে উল্লেখ মির্জা ফখরুল বলেন, একটা কথা সত্য যে, আইনগত দিক বলুন, আর সাংবিধানিক দিক বলুন এই সমস্যার সমাধান একমাত্র রাজনৈতিকভাবেই। সেই রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হলে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দেয়া ছাড়া দেশের মানুষের কাছে কোনো বিকল্প নেই। আর সেজন্য যেটা বড় প্রয়োজন ঐক্য, জনগনের ঐক্য। সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে, যারা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদেরকে একটা গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে, একটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তারপর সত্যিকার অর্থেই জনগনের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠায় একটা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তার দিক নির্দেশনা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে সচেষ্ট হবো। আমরা আশা করি, আগামী দিনগুলোতে সেই লক্ষ্যেই আমাদের সব কাজ, শক্তি, মেধাকে আমরা নিয়োগ করব।
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস-বিএনআরসির উদ্যোগে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগনের ভোটের অধিকার পুনরায় লুন্ঠনের এক নতুন ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক এই সভা হয়।
এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ। আলোচনায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দেন।
স্থায়ী কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চোরে শুনে না ধর্মের অনুশাসন। এই সরকারে গায়ের জোরের সরকার, ভোটবিহীন সরকার। তারা তো কোনো সময়ে ধর্মের অর্থাৎ আমরা যে সংবিধানের অনুশাসনের কথা বলছি তা মানবে না। এর একমাত্র সমাধান জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা। সেজন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে হটিয়ে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই।
বিএনআরসি‘র পরিচালক বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব আব্দুর রশিদ সরকার ও ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »