Ultimate magazine theme for WordPress.

‘বন্দুকযুদ্ধে’ স্বামীর মৃত্যুর পর নারী পাচারে জড়িয়ে পড়ে নদী

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূর জাহান (২৮) বন্দুকযুদ্ধে স্বামীর মৃত্যুর পর নারী পাচার চক্রের সংগে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে প্রথম ভারতে এবং পরবর্তীতে দুবাই ও সিংগাপুরে নারী পাচারের মূলহোতা ও সমন্বয়ক হিসেবে কাজ শুরু করে।
কিন্তু তার এই কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি টিকটক হৃদয়-এর দেওয়া তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নদী’র সম্পৃক্ততা। তাকে বাংলাদেশে নদী নামে চিনলেও ভারতে তাকে ইতি নামে চেনে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ, ভারত, দুবাই ও সিংগাপুরের জন্য তার আলাদা প্রায় ১০টি নাম রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ। সোমবার সন্ধ্যায় যশোর ও নড়াইল এলাকা থেকে নারী পাচার চক্রের অন্যতম হোতা নদীসহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর নদীর কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য জানতে পেরেছেন বলে জানান ডিসি শহীদুল্লাহ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নদী আক্তার ইতি ওরফে জয়া আক্তার জান্নাত ওরফে নূর জাহান (২৮), মো. আল আমিন হোসেন (২৮), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), আমিরুল ইসলাম (৩০), পলক মন্ডল (২৬), মো. তরিকুল ইসলাম (২৬) ও বিনাশ শিকদার (৩৩)।
ডিসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, পাচার হওয়া নারীদের কাছে সে নদী হিসেবে পরিচয় দিলেও ভারতে তাকে সবাই ইতি নামে চেনে। সাতক্ষীরা সীমান্তে তার নাম জলি, যশোর সীমান্তে সে প্রীতি নামে পরিচিত। পাচারকৃত ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নদীর দশটির মতো নাম পাওয়া যায়। নদী ভারত, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ের নারী পাচার চক্রের সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করতো। ২০০৫ সালে সন্ত্রাসী রাজীব হোসেন-এর সংগে নদীর বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে রাজীব বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। এর পর থেকে নদী নারী পাচার চক্রের সংগে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, পাচারের উদ্দেশ্যে আনা মেয়েদেরকে যশোর সীমান্তে চক্রের সদস্যের বাড়িতে রেখে সুযোগ মতো ভারতে পাচার করতো। শুধু তাই নয়, পাচারকৃত প্রত্যেক মেয়ের জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এক হাজার টাকা করে নিতো। পাচারকালে কোনো মেয়ে বিজিবি’র কাছে আটক হলে সেই ইউপি সদস্য তাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতো। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত সেই ইউপি সদস্যের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, গ্রেফতারকৃত আল আমিন হোসেন ২০২০ সালে ঈদ-উল-আযহা’র চার দিন পর নারী পাচার করতে গিয়ে বিএসএফ-এর গুলিতে আহত হন। পাচারের উদ্দেশ্যে আনা মেয়েদেরকে তার বাড়িতে রেখে সুযোগ মতো ভারতে পাচার করতো। সে নারী পাচারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সংগে জড়িত। তার বিরুদ্ধে যশোরের শার্শা থানায় দু’টি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম-এর শার্শা বাজারে মোবাইল রিচার্জ ও ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা আছে। মানবপাচারে জড়িত ইসরাফিল হোসেন খোকন, আব্দুল হাই, সবুজ, আল আমিন ও একজন ইউপি সদস্য তার মাধ্যমে মানবপাচার থেকে অর্জিত অর্থ বিকাশে লেনদেন করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে সে মানবপাচারে জড়িত ব্যক্তিদের সতর্ক করে। বিকাশ-এর লেনদেনে ব্যবহৃত মোবাইলটি জব্দ করা হয়েছে।
পলক মন্ডল যশোরের মনিরামপুর ঢাকুরিয়া স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে। পরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার গাহঘাটা থানার নলকড়া গ্রামে নানার বাড়িতে যায়। পরবর্তীতে BIAMS (Bachelor of Ayurvedic Medicine and Surgery) ডিগ্রি নিয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শুরু করে। বেনাপোলের ইসরাফিল হোসেন খোকন, ভারতে অবস্থানকারী বকুল ওরফে খোকন, তাসলিমা ওরফে বিউটি ও চক্রের অন্য সদস্যদের সংগে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নিতে আসা গ্রামের দরিদ্র মেয়েদেরকে ভারতে তাসলিমা ওরফে বিউটি’র কাছে পাঠানোর মাধ্যমে তিনি নারী পাচারের সংগে যুক্ত হয়ে পড়েন।
গ্রেফতার বিনাশ শিকদার নড়াইলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। সে বেনাপোলে বাসা ভাড়া নিয়ে পাসপোর্ট ফরম পূরণের কাজ করে। তার স্ত্রী সোনালী শিকদার ভারতীয় নাগরিক। বেনাপোলে পাসপোর্ট ফরম পূরণের কাজ করতে গিয়ে ইসরাফিল হোসেন খোকন, আব্দুল হাই সবুজ ও মানবপাচারে জড়িত আরও কয়েকজনের সংগে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি নারী পাচারে জড়িয়ে পড়ে। যশোর ও নড়াইল থেকে নানান প্রলোভনে নারীদেরকে ইসরাফিল হোসেন খোকন, আল আমিন, তরিকুল, আমিরুল ও আরও কয়েকজনের মাধ্যমে তিনি ভারতের দালালদের কাছে পৌঁছে দিতো। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং দু’টি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
নদী’র সংগে টিকটক হৃদয়-এর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- নদী, হৃদয় বাবুসহ আরও দুই-জনের নাম আগেই উল্লেখ করেছিলাম। সম্প্রতি টিকটক হৃদয়-এর বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করতে গিয়ে নদী’র সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আরও তথ্য পেতে আদালতে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে আনতে পারলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »