Ultimate magazine theme for WordPress.

সিলেটে আইনজীবী হত্যার ঘটনায় স্ত্রী গ্রেফতার

মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…সিলেটে জেলা বারের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন (৪২) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার স্ত্রী শিপ্রা বেগমকে গ্রেফতার করেছে এসএমপির কোতয়ালী থানা পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নগরের তালতলা এলাকার একটি বাসা থেকে শিপ্রাকে গ্রেফতার করা হয়। কোতয়ালী থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিপ্রা বেগমের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন আলী। সেই সঙ্গে অপর এক আবেদনে নিহতের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের অনুমতিও চেয়েছেন তিনি। এ দুটি আবেদনের ওপর আগামী ৬ জুন বা ৭ জুন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

গত মঙ্গলবার সিলেট মহানগর হাকিম আদালতে বাদী হয়ে আইনজীবী আনোয়ার হোসেনকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারের দীঘিরপার গ্রামের মনোয়ার হোসেন। মামলায় শিপ্রা বেগমের খালাতো ভাই (বর্তমানে স্বামী) শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে প্রধান আসামি ও শিপ্রাকে দ্বিতীয় আসামিসহ আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিপ্রা বেগমকে গ্রেফতার করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএসএম আব্দুল গফুর সংবাদমাধ্যমকে জানান, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় নিজ বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু তার অগোচরে স্ত্রী শিপ্রা বেগমের পরকীয়া চলছিল শাহজাহান চৌধুরী মাহি নামের একজনের সঙ্গে। এর জের ধরেই আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়।

গত ৩০ এপ্রিল সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার হোসেন। পরদিন বিকাল ৩টার দিকে স্ত্রী শিপ্রা বেগম সবাইকে জানান, আনোয়ার হোসেন ডায়াবেটিকজনিত কারণে মারা গেছেন। পরে তাকে নিজের গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারের দীঘিরপার গ্রামে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেনের পরিবার জানতে পারে, পরকীয়ার জেরে আনোয়ার হোসনকে হত্যা করেন স্ত্রীসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় ১ জুন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন নিহতের ভাই মনোয়ার হোসেন। পরে আদালতে শুনানি শেষে কোতোয়ালি থানার ওসিকে ৩০২ ধারায় মামলা রুঞ্জু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বিচারক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন আলী জানান, আনোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় শিপ্রা বেগম তার খালাতো ভাই কানাইঘাটের বাসিন্দা শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে আনোয়ারের পরিবারের সঙ্গেও শিপ্রা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ কারণেই তাকে সন্দেহ করছে অ্যাডভোকেট আনোয়ারের পরিবারের।

সুত্র- ইত্তেফাক

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »