Ultimate magazine theme for WordPress.

মাত্র ৫০০ ডলারে বাড়ি ক্রয়ের সুযোগ দিচ্ছে জাপান

সংস্কারের জন্য রয়েছে প্রণোদনা সুবিধা

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…জাপানের বিভিন্ন প্রদেশে কয়েক লাখ বাড়ি সম্পূর্ণ খালি ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক স্থানে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এসব বাড়ির অনেকগুলো জনসাধারণকে বিনামূল্যেও প্রদান করা হচ্ছে। জাপানের সরকারি তথ্যমতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরণের অব্যবহৃত বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। খবর ইনসাইডার ডট কম।
জাপানে এসব অব্যহূত বাড়িগুলোকে ডাকা হয় ‘আকিয়া’ নামে। জাপানিজ শব্দ আকিয়ার অর্থ হলো ‘খালি বাড়ি’। সাধারণত যেসব বাড়িতে লোকজন থাকতে চায় না এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাও যেসব বাড়ি বিক্রির আশা ছেড়ে দিয়েছে এসব বাড়িকে আকিয়া নামে ডাকা হয়।
সম্প্রতি জাপান সরকার তাদের দেশজুড়ে থাকা লক্ষাধিক আকিয়ার জন্য নতুন মালিক খুঁজতে শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে তারা বাড়িগুলোর সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য নানা ধরণের আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাবও দিচ্ছে। এসব প্রণোদনার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর ও বড় অংকের বাড়ি সংস্কার ভর্তুকি।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রদেশ অব্যবহৃত বাড়িগুলোর তথ্য নিয়ে আকিয়া ব্যাংক নামে তথ্যশালাও তৈরি করেছে। এসব তথ্যশালায় বিক্রয়ের জন্য উপযুক্ত থাকা অব্যবহৃত বাড়িগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।
প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর জাপানের আবাসন ও ভূমি সমীক্ষা বিভাগ এসব অব্যবহৃত বাড়ির (আকিয়া) তালিকা প্রণয়ন করে থাকে। এ বিভাগের দেয়া তথ্যানুসারে ২০১৮ সালে দেশটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক অব্যবহৃত বাড়ি তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল ৮৪ লাখ ৯০ হাজার। আবাসন ও ভূমি সমীক্ষা বিভাগের জরিপ অনুসারে এসব বাড়ির অধিকাংশ বসিন্দাই তাদের আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর পর অথবা নতুন কোনো বাসস্থানের উদ্দেশ্যে এসব বাড়ি ত্যাগ করেছেন। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী ২০১৩ সালের তুলনায় ওই বছর দেশটিতে অব্যবহৃত বাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।
২০১৮ সালের জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে জাপানের ৬ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার বাড়ির মধ্যে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষ করে দেশটির ওয়াকায়ামা, টোকুশিমা, কাগোশিমা ও কোচি প্রদেশে অব্যবহৃত বাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব প্রদেশের মোট বাড়ির ১৮ শতাংশের বেশিই অব্যবহৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জরিপে উঠে আসে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহাইড সুগা কর্তৃক সম্প্রতি এক আর্থসামাজিক পরিকল্পনা গৃহীত হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই সুগা তার গৃহীত পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে গ্রামাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। নভেম্বরে দেয়া এক ভাষণে তিনি পর্যটন ও কৃষিখাতের পুনর্গঠনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য হিসেবে দেশটির অব্যবহৃত বাড়িগুলোকে আবার ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটির প্রশাসন।
সরকারের গ্রামীণ অর্থনীতি সংস্কারের পরিকল্পনা অনুসারে প্রশাসন এসব অব্যবহৃত বাড়ির মালিকানা গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পথকে আরো সুগম করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তোচিগি ও নাগানো শহর কৃর্তপক্ষ ও মিউনিসিপ্যাল প্রশাসনের উদ্যোগে শহরগুলোতে থাকা অব্যবহৃত বাড়ির তথ্যাদি নিয়ে ‘আকিয়া ব্যাংক’ তথ্যশালা প্রণয়ন করেছে। আকিয়া ব্যাংকের তালিকায় থাকা এসব বাড়ির কিছু বাড়ির বিক্রয়মূল্য মাত্র ৪৫৫ ডলার তথা ৫০ হাজার ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিক্কেই এর প্রতিবেদন অনুসারে পশ্চিম টোকিওর ওকুটমা শহর কর্তৃপক্ষ এসব অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা পুরোনো ও খালি বাড়ির অনেকগুলোই বিনামূল্যে হস্তান্তরের সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে এসব বাড়ির মালিকানা গ্রহণকারী কিছু নতুন বাসিন্দা বাড়িগুলোকে কারখানা বা রেস্টুরেন্টে রুপান্তর করে ব্যবহার করছেন।
ওকুটমা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নিক্কেইকে জানান, এ কার্যক্রম শুধুমাত্র কর পরিশোধকারী ও বাড়িগুলোকে ব্যবহার উপযুক্ত করার জন্য চেষ্টায় থাকা বাড়িগুলোর পুরাতন মালিকদেরই সাহায্য করছে না বরং শহরকে ভবিষ্যত পতন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করছে। এরফলে শহরে ধ্বংসপ্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বাড়ির সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকবে।
কিছু প্রদেশের সরকার নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমেও এসব বাড়িগুলোতে স্থানান্তরিত হতে উত্সাহীত করছে।
নিক্কেই এর প্রতিবেদন অনুসারে জানা যায়, হক্কাইডো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের শহর মিকাসাতে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে শহরটিতে অব্যবহৃত বাড়ির সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ১১ শতাংশ। শহরটিতে শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র ও বাড়ি ক্রয়ের উপর ভর্তুকি দেয়ার ফলে আকিয়ার সংখ্যা হ্রাস পায়। একইভাবে টটোরি অঞ্চলের ডিয়াসেন শহরেও ৭ দশমিক ৯ শতাংশ আকিয়ার সংখ্যা হ্রাস পায়। শহরটির আকিয়া ব্যাংক তথ্যশালায় থাকা বাড়িগুলো সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার কর্তৃক ২০ লাখ ইয়েন (১৮ হাজার ২২৯ ডলার) অনুদান প্রদানের প্রস্তাব দেয়ার ফলে এমনটা ঘটে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিক্কেইতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, যেসব প্রান্তিক শ্রমিক গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে টোকিওতে কাজ করেন তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি কার্যক্রম গৃহীত হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ ইয়েন (৯ হাজার ১১৪ ডলার) নগদ অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে, যারা এসব গ্রামাঞ্চলে তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনা করার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তাদের প্রত্যেককে ৩০ লাখ ইয়েন (২৭ হাজার ৩৪৩ ডলার) নগদ অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জাপানের মতো এমন অবস্থা দেখা যায় বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশেও। সম্প্রতি ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও জনসংখ্যা ঘাটতি পূরণের জন্য বিনামূল্যে জমিসহ কয়েক হাজার ডলারের অনুদান প্রদানের প্রস্তাব করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইতালির সিনকিফ্রন্টিতে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় প্রশাসন মাত্র এক ইউরোর (১ দশমিক ১৪ ডলার) বিনিময়ে বাড়ি বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উত্তর ইতালির লুকানা শহরে স্থানীয় সরকার প্রান্তিক শ্রমিকদের জন্য একই মূল্যে বাড়ি ক্রয়ের সুবিধাসহ নয় হাজার ইউরো (১০ হাজার ৯৭১ ডলার) প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »