Ultimate magazine theme for WordPress.

যে চার কারণে এবার ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুন দেশটিতে ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
চার বছর আগে হওয়া নির্বাচনের পর থেকে ইরানে কার্যত অনেক কিছুই বদলে গেছে। বিশেষ কিছু কারণে দেশ বিদেশে ইরানের নাগরিকদের জন্য এবারের নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
২০১৭ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের পর থেকে বেশ কিছু ঘটনা দেশটির রাজনীতিকেই পাল্টে দিয়েছে। এর মধ্যে আছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের রক্তক্ষয়ী দমন, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীদের গ্রেফতার, রাজনৈতিক বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া, রেভ্যুলুশনারি গার্ড সদস্যদের ইউক্রেনের বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট।
তাই ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রতিক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকবে এবারের নির্বাচনে।
বিবিসি বলছে, অসন্তোষের কারণে ভোটারের কম উপস্থিতি সম্ভবত একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।
যদিও এটি ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে গার্ডিয়ান কাউন্সিল বা অভিভাবক পরিষদের কারণে ইরানের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় না।
তারপরেও নিজেদের বৈধতার জন্যই ইরানের নেতাদের ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির প্রয়োজন হবে।
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যারা জনগণকে ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানায় তারা দেশের কল্যাণকামী হতে পারে না।
তিনি জনগণকে উদ্দেশ করে বলেন, যারা বলে বেড়ায় ভোট দিয়ে লাভ নেই তাদের কথা শুনবেন না। তারা জনগণের কল্যাণকামী নয়।
সাম্প্রতিক দুটি জরিপ বলছে এভাবে ভোট দেয়ার হার হবে খুবই কম। এর মধ্যে একটি হল রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের জরিপ। তারা বলছে ভোটার উপস্থিতি হতে পারে ৫০ শতাংশেরও কম।
আর হার্ডলাইনার হিসেবে পরিচিত ফার্স নিউজ এজেন্সির জরিপে বলা হয়েছে ৫৩ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এ নির্বাচনে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর, ইরানের বড় সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির হাতে। তাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও খামেনির প্রভাব থাকে অনেক বেশি। এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ নেতার সমর্থন পাচ্ছেন তারই ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম রাইসি।
কট্টর রক্ষণশীল পশ্চিমাবিরোধী এই নেতার জয় নিশ্চিত করতে, এরইমধ্যে বাতিল করা হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনাজাদ কিংবা সাবেক স্পিকার আলী লারিজানির মতো শক্তিশালী নেতার প্রার্থিতা।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রাইসিকে এবারের সবচেয়ে শক্ত প্রার্থী বলে মনে করা হচ্ছে এবং কিছু জরিপে উঠে এসেছে যে কট্টরপন্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয়।
এবার ইরানের নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে দেশটির অর্থনীতি এবং সব প্রার্থীর এজেন্ডাতেই তাই এটিই প্রধান বিষয়।
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে এবারই সবচেয়ে বেশি সংকট মোকাবেলা করছে দেশটি।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং করোনা মহামারি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে এবং এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও উল্লেখযোগ্য একটি কারণ। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ী হবার পর ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও দেশটির বেশির কট্টরপন্থীর মধ্যে এ আলোচনা নিয়ে তেমন কোন লক্ষ্য নেই তবে সংস্কারপন্থী বা মধ্যপন্থীরা এ ধরণের আলোচনার পক্ষে।
সংস্কারপন্থীরা একইসঙ্গে অর্থ পাচার বিরোধী সংস্থাগুলোতে যোগ দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রথাগত আগ্রাসন কমিয়ে আনাকে সমর্থন করেন।
এসব বিষয় পুরো অঞ্চলেই সংঘাত কমিয়ে এনে ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সুত্র – যুগান্তর

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »