Ultimate magazine theme for WordPress.

ট্রাম্পের পথেই হাঁটছেন বাইডেন!

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসীর অনেক আশা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম ১০০ দিন তিনি স্বরূপে থাকলেও ক্রমশ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদাঙ্কই অনুসরণ করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প যেমন করোনার উৎস সন্ধানে চীনকে সন্দেহের তালিকায় রেখে গোয়েন্দাদের তদন্তের নির্দেশ নিয়েছিলেন, সম্প্রতি বাইডেনকেও সেই একই নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।
মহামারী শুরুর পরই এর বিস্তারের জন্য চীনকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। এ ভাইরাসকে কখনো ‘উহান ভাইরাস’, কখনো ‘চায়না ভাইরাস’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) দিয়েও কম চেষ্টা করেননি। ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দল উহান পরিদর্শন করে চীন থেকে ফিরে বলেছিল, করোনাভাইরাস চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের ল্যাবরেটরি থেকে ছড়ানো একেবারেই অসম্ভব। বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার পরেও ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞরা এমনটিই বলছিলেন। কিন্তু তারপরও নিজের গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে করোনাভাইরাসের উৎস তদন্ত করছেন বাইডেন।
ট্রাম্পের আমলে রাশিয়া ও সৌদি আরব ব্যাপক সুবিধা পেয়েছিল। বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও সৌদি আরবকে ইয়েমেন ইস্যুতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসন যা-ই করুক, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে ইসরায়েলি লবির প্রেসক্রিপশন অনুসারেই চলছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটে জেতার আগে প্রতিটি জনসভায় মানবাধিকার ইস্যুতে ব্যাপক চড়া গলায় কথা বললেও, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়িয়ে নিজের আসল রং দেখিয়েছেন বাইডেন। তবে বাইডেনের দলের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছিল ট্রাম্পের আমলে। তার আমলে ২০১৮ সালে চীন থেকে আমদানি করা সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এরপর পাল্টা পদক্ষেপ নেয় চীন। দুই দেশের এই বাণিজ্যযুদ্ধ চরম রূপ নেয়। শুরু হয় কূটনৈতিক টানাপড়েন। আন্তর্জাতিক মহল এই বাণিজ্যযুদ্ধ থামাতে বারবার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিদায়ের পর বাইডেন প্রশাসন এলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কিন্তু পরিবর্তন হয়নি। ট্রাম্পের আমলে চীনের পণ্যের ওপর যেসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, বাইডেনের আমলেও তা বহাল রয়েছে। হংকংয়ে গণতন্ত্রকামীদের ওপর দমনপীড়ন, উইঘুর মুসলিমদের ওপর চালানো নির্যাতনের ঘটনায় চীনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন জো বাইডেন।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক ২০১৬ সালের আগের অবস্থানে ফিরে যাবে কি না, বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। কিন্তু বাইডেন ক্ষমতায় আসার আগেই কর্র্তৃত্ববাদসংশ্লিষ্ট বিষয় স্পষ্ট করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যাতে বৈশ্বিক নেতৃত্বে ফিরতে পারে, সেই চেষ্টা বাইডেন করবেন এমনটা তিনি তার লিখিত নিবন্ধেই বলেছেন। তিনিও চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে চান।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত জোট কোয়াড বিষয়েও তৎপর হয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এই জোটটিকে বিরোধী জোট হিসেবে বিবেচনা করে চীন। ফলে চীনকে চাপে ফেলার বিষয়টি খানিকটা হলেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি বিষয় পরিষ্কার যে বৈশ্বিক নেতৃত্বে অবিসংবাদিত হতে চাইছে জো বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী শি চিন পিংয়ের চীন। অর্থনীতি, সামরিক, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে এগিয়ে যাচ্ছে চীন এবং সেই এগিয়ে যাওয়ার ভঙ্গি বেশ আগ্রাসী। ফলে যেকোনো ইস্যুকেই চীনের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন বাইডেন, সে করোনাভাইরাসই হোক কিংবা বাণিজ্যযুদ্ধই হোক।
সূত্র : দেশ রূপান্তর

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »