Ultimate magazine theme for WordPress.

পরকীয়ার জেরে হত্যা, আদালতে দোষ স্বীকার স্ত্রী ও ইমামের!!

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…রাজধানীর দক্ষিণখানে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুল ইসলামের (৪০) ছয় টুকরো লাশ উদ্ধারের মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিক মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান। আজ রোববার আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল আজহারুলের স্ত্রী আসমার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসমার পরকীয়া প্রেমিক ইমাম আব্দুর রহমানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক অনুজ কুমার সরকার আসামিদের আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের আবেদন করেন। এর আগে গত বুধবার আদালত এ দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।জানা যায়, নিহত আজহারুল পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। নিকটস্থ সরদার বাড়ি জামে মসজিদে প্রায় ৩৩ বছর ধরে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুর রহমান। আজহারের ছেলে আরিয়ান ওই মসজিদের মক্তবে পড়ালেখা করত। আজহার নিজেও আব্দুর রহমানের কাছে কোরআন শিক্ষা নিতেন। সেই সুবাদে আজহারের বাসায় যাতায়াত করতেন ইমাম আব্দুর রহমান।এদিকে, আব্দুর রহমান আজহারের স্ত্রী আসমার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে আজহার ইসলাম বিষয়টি জেনে যান। এ কারণে গত ২০ মে রাত ৯টার দিকে আজহারকে হত্যার উদ্দেশে কৌশলে দক্ষিণখান থানার সরদার বাড়ী সাকিনস্থ জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় কর্নারে আব্দুর রহমান তার শয়ন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। রাত ১০টার দিকে আজহারুল দরজার সামনে পড়ে গেলে ইমাম আব্দুর রহমান আজহারুলের গলার ডানপাশে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপনের উদ্দেশে আজহারুলকে লাশ সাত টুকরো করেন আব্দুর রহমান। মসজিদের ওযুখানার গেট সংলগ্ন সেপটিক ট্যাংকের ভেত লাশের টুকরো লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর দুর্গন্ধ বের হলে ওই ইমাম সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনার ওপর সিমেন্ট দিয়ে প্লাষ্টার করে দেন।আসামিদের গ্রেপ্তারের পর পূর্বপরিকল্পনা ও পরস্পর যোগসাজসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আব্দুর রহমান স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে র‌্যাব-১-এর টহল দলের সহায়তায় দক্ষিণখান থানা পুলিশ ২৫ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আজহারুলের খণ্ডিত ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আজহারের ছোট ভাই মো. হাসান দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করেন।

সূত্র : আমাদের সময়

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »