Ultimate magazine theme for WordPress.

গর্ভাবস্থায় যৌনসঙ্গমের পর রক্তক্ষরণ হওয়া কি বিপদের সংকেত?

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…নতুন অতিথিকে পৃথিবীর আলো দেখান সুস্থভাবে। সাবধানতা এবং সচেতনতাই মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে। এখনকার চিকিৎসকরা যদিও গর্ভাবস্থায় সেক্সের কথা বলেন, তবুও কোনও সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—-

বাড়িতে নতুন অতিথির আসার খবর পেলেই চারিদিকে কেমন যেন উৎসবের বাতাবরণ তৈরি হয়ে যায়। ভবিষ্যতের চিন্তা আর নতুন আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন হবু মা-বাবারা। নয়-দশ মাসের মধ্যে যেন দুনিয়াটাকে আরও সুন্দর করে তোলার চেষ্টা চলে।
এই সময় বদল আসে হবু মায়ের শরীর এবং মনেও। বদল আসে দৈনিক রুটিনে। ভারি কাজ করা বারণ হয়। পুষ্টিকর খাবার খেতে হয় তাঁকে। দৈনন্দিন জিম-যোগাসনেও সীমাবদ্ধতা শুরু হয়। ধূমপান কিংবা মদ্যপানতো একেবারেই বন্ধ। এমনকি বড়রা বলেন যে এই সময় নাকি যৌনসঙ্গম করাও উচিত নয়। যদিও আধুনিক চিকিৎসকরা এব্যাপারে এক মত নন। তাঁদের মতে নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে এই সময় যৌনসঙ্গম সম্ভব।
গর্ভধারণের পর মাস কয়েক মহিলাদের যৌনকামনা বাড়ে। সেই সময় সঙ্গম করলে শারীরিক এবং মানসিকভাবে তাঁরা তৃপ্ত হন। চিকিৎসকদের মতে, হবু মায়ের স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত সঙ্গম করা যেতেই পারে। তবে অবশ্যই পেটে যেন চাপ না পড়ে।
আর সেই সময় যৌনসঙ্গমে পর মহিলাদের যোনি থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায় অনেক সময়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ মহিলাই রক্তক্ষরণের অভিযোগ করেন। ভয় পেয়ে যান। রক্তক্ষরণ যদি সামান্য বা ছিটেফোঁটা হয় তাহলে তাতে ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তপাত হলে তখনই সাবধান।
অল্প রক্তপাতের কারণ—
নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর আস্তরণ ভেদ করে ইমপ্লান্ট হওয়ার কারণে অল্প রক্তক্ষরণ হতে পারে। অনেক সময় দুই থেক সাত দিন পর্যন্ত এই ক্ষরণ স্থায়ী থাকে। এটা খুবই সাধারণ ঘটনা।
গর্ভধারণের পর জরায়ু ক্রমশ পরিবর্তিত হতে থাকে। এই কারণেই প্রেগন্যান্সিতে সঙ্গমের পর ব্যথা বিহীন, হালকা গোলাপি, বাদামি অথবা হালকা লাল রঙের তরল পদার্থ যোনি থেকে নির্গত হতে পারে। এবং এই সমস্যা দেখা যায় গর্ভধারণের প্রথম কয়েক মাস।
অতিরিক্ত ইন্টারকোর্স কিংবা সেক্স টয় ব্যবহারের কারণে যোনিতে ক্ষত হয়েও রক্তক্ষরণ হতে পারে।
গর্ভধারণের পর জরায়ু অনেক বেশি স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। ফলে ইন্টারকোর্সের সময় স্পর্শজনিত কারণে তা থেকে অল্প রক্তক্ষরণ হওয়া সম্ভব। এটিও অতি সাধারণ ঘটনা।
অনেক সময় আবার মানসিক উদ্বেগ বা ইনফেকশনের কারণেও যোনি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
প্রেগন্যান্সির সময় যৌনসঙ্গমের জেরে সামান্য রক্তক্ষরণ ছাড়াও চুলকানি, রক্তাভ স্রাব নিঃসরণ, যোনিতে দাগ বা ইন্টারকোর্সের সময় ব্যথা বা সামান্য লেবার পেইন হওয়ার উপসর্গও দেখা দেয়। আবার লেবার যন্ত্রণার সময় যোনি থেকে মিউকাস নির্গত হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। এগুলি আপনা থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
তবে হ্যাঁ, প্রেগন্যান্সিতে যৌনসঙ্গমের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে মোটেও অবহেলা করবেন না। অনেক ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণ
জরায়ুর পর্দা ছিঁড়ে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। মা এবং সন্তানের পক্ষে এটি ভয়ানক। অবহেলা করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
অনেক সময় আবার নাড়ি জরায়ুতে চাপ সৃষ্টি করে। যাঁদের এধরনের সমস্যা হয় তাঁদের ক্ষেত্রে প্রেগন্যান্সির সময় সঙ্গমে লিপ্ত হলে ভয়ানক রক্তক্ষরণ হয়। এর ফলে মৃত্যু হওয়াও অস্বাভাভিক নয়। তাই এ ধরনের শারীরিক সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় কখনওই যৌনসঙ্গম করা উচিত নয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া মানে গর্ভপাতও হতে পারে। যদি চিকিৎসকদের মতে সঙ্গমের কারমে গর্ভপাত সম্ভব নয়। তবে হবু মায়ের শারীরিক কোনও অসুস্থতা থাকলে গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় যৌনসঙ্গমের পর রক্তক্ষরণ হলে কী করবেন ?
*প্রথমত চিকিৎসক সঙ্গমে বারণ করলে তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
*হালকা বা ছিঁটেফোটা রক্তক্ষরণ নিজে থেকেই সেরে যায়। তাও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া ভালো।
*অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে এতটুকু দেরি না করে হবু মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
*তবে যৌন সঙ্গম করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করলে এবং সচেতন থাকলে কোনও সমস্যাই হবে না।

সুত্র – এই সময়

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »