Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা

0

আগামী মৌসুমে ব্রাজিলের চিনি উৎপাদন কিছুটা মন্দা পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। ব্রাজিলের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদিত হয়ে থাকে। অঞ্চলটিতে উৎপাদন হ্রাসের কারণে এমন মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। ২০২১-২২ উৎপাদন মৌসুমে আগের মৌসুমের তুলনায় ব্রাজিলের চিনি উৎপাদন ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রাজিলে আখের বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। মূলত এ কারণেই চিনি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে ব্রাজিল ৩ কোটি ৫৮ লাখ টন চিনি উৎপাদন করবে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।

ব্রাজিলের কৃষিবিষয়ক পরিসংখ্যান সংস্থা কোনাব জানায়, দেশটির মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় ২০২১-২২ মৌসুমে আখ উৎপাদন ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টনে নেমে যেতে পারে। ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর এটিই হবে সর্বনিম্ন উৎপাদন।

কোনাবের করা প্রাক্কলন অনুযায়ী, ভুট্টা ও আখ থেকে তৈরি জ্বালানি বায়োডিজেলসহ ইথানল উৎপাদন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমবে। ২০২১-২২ মৌসুমে উৎপাদন ২ হাজার ৮৩৬ লিটারে নেমে আসবে।

কোনাব বলছে, ২০২১-২২ মৌসুমে ভুট্টাভিত্তিক ইথানল উৎপাদন বেড়ে ৫০ কোটি লিটার থেকে ৩৫০ কোটি লিটারে উন্নীত হতে পারে। তবে যদি ইথানলের প্রত্যাশিত উৎপাদন বৃদ্ধি না পায় তাহলে বায়োডিজেলের উৎপাদন আরো কমবে।

২০১৯ সাল থেকে ব্রাজিলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই শুষ্ক আবহাওয়া লক্ষ করা গেছে। এমন পরিস্থিতির কারণে দেশটির চিনি, কফি ও ভুট্টা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মূলত এ কারণেই অপরিশোধিত চিনির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য কয়েক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী। চার বছর ধরে পণ্যটির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

কোনাব জানায়, চলতি বছর আখ আবাদকৃত জমির পরিমাণও কমেছে। আবাদি জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৫ লাখ হেক্টরে নেমে এসেছে।

কৃষিবিষয়ক পরিসংখ্যান সংস্থাটি বলছে, গত বছর ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদনে ভালো লাভের মুখ দেখেছিলেন দেশটির কৃষকরা। এ কারণে চলতি বছর তারা শস্য দুটির আবাদের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। ফলে আখ আবাদের পরিমাণ এবার কমে গেছে।

বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিল। তবে বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে ২০১৯ সালে ব্রাজিলকে টপকে শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশের স্বীকৃতি পায় ভারত। যদিও করোনা মহামারীতে গত বছর দুই দেশেই খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন কমে যায়। ফলে বছর শেষে পণ্যটির শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশের তকমা ফের নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় ব্রাজিল। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছিল।

এদিকে ব্রাজিলে আখের উৎপাদন হ্রাসের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে অপরিশোধিত চিনির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য। দেশটির মুদ্রার দাম বৃদ্ধিও চিনির ঊর্ধ্বমুখী বাজারদরে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরিশোধিত চিনির জুলাইয়ের সরবরাহ চুক্তি মূল্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি পাউন্ড ১৮ দশমিক ১৪ সেন্টে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এটিই পণ্যটির সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। তবে সাদা চিনির আগস্টের সরবরাহ চুক্তি মূল্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৪৭৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »