Ultimate magazine theme for WordPress.

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আর্জেন্টিনায় বিক্ষোভ

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক —নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি দখলদারদের নির্বিচার বোমাবর্ষণের প্রতিবাদে সরব হয়েছে আর্জেন্টিনা। দেশটির সরকার থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পক্ষে সোচ্চার। তবে এদিক থেকে অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করে কার্যত ইসরায়েলি আগ্রাসনকে সমর্থন দিচ্ছে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল।
গত সপ্তাহে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পরপরই এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় আর্জেন্টিনা সরকার। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আর্জেন্টাইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতিতে আর্জেন্টিনা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এসময় শেখ জাররাহ ও সিলওয়ান অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদে ইসরায়েলি বাহিনীর বলপ্রয়োগ নিয়েও উদ্বেগ জানায় দেশটি।
প্রতিবাদের সেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষের মধ্যেও। বুধবার আল জাজিরার খবর অনুসারে, আর্জেন্টাইন রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ।এসময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা নয়’, ‘সবাই ফিলিস্তিনের পক্ষে’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। এসময় অনেকেই ‘বয়কট ইসরায়েল’ এবং আর্জেন্টিনা সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদেরও দাবি জানান।
এদিক থেকে অনেকটা উল্টোপথে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ নিয়ে চিন্তিত। একই মনোভাব কলম্বিয়া, উরুগুয়ের মতো দেশগুলোরও।
ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান আগ্রাসনের পক্ষে ইসরায়েলকে বেশ কিছু দেশ সমর্থন করছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত রোববার (১৬ মে) এক টুইটে ২৫টি দেশের পতাকার ছবি পোস্ট করে তাদের ধন্যবাদ জানান দখলদার এ নেতা।
যেসব দেশের সমর্থন পেয়েছেন বলে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার পাশাপাশি নাম রয়েছে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডেরও।

অবশ্য ইতিহাস বলে, ব্রাজিলের ইসরায়েল-প্রীতি নতুন কিছু নয়। ঐতিহাসিকভাবেই এ দুটি দেশের মধ্যে গভীর কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ব্রাজিলে বিশ্বের নবম এবং লাতিন আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস। জিউয়িশ কনফেডারেশন অব ব্রাজিলের ধারণা, দেশটিতে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ইহুদি রয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলে ২৫ হাজারের বেশি ব্রাজিলিয়ান বাস করে, যার সিংহভাগই ইহুদি।
ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে ইসরায়েলি রাষ্ট্র গঠনেও বড় ভূমিকা রয়েছে ব্রাজিলের। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের যে সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েল গঠনে ফিলিস্তিন বিভাজনের পরিকল্পনা ঘোষিত হয়েছিল, সেই অধিবেশনের সভাপতি ছিল ব্রাজিল।সেই সময় জাতিসংঘে ব্রাজিলিয়ান প্রতিনিধি দলের প্রধান রাষ্ট্রদূত অসভালদো আরানহা ফিলিস্তিনি ভূমি ভাগ করে ইসরায়েলি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে জোর প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তার প্রতি সম্মান জানাতে বীরশেভা ও রামাতগানের মতো ইসরায়েলি শহরের রাস্তা এবং জেরুজালেমের একটি চত্বরের নাম আরানহার নামে রেখেছে ইসরায়েল। ২০১৭ সালে তেল আবিবের একটি রাস্তাও আরানহার নামে নামকরণ করে ইসরায়েলিরা, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত ব্রাজিলিয়ান কূটনীতিকের পরিবারের সদস্যরা।
অবশ্য সরকারের মতের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়েছেন ব্রাজিলের কিছু সাধারণ মানুষ। গত সোমবার তারা দেশটির বেলা ভিস্তা এলাকায় সমবেত হয়ে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, উইকিপিডিয়া

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »