Ultimate magazine theme for WordPress.

চায়ের দেশ খ্যাত সিলেটে চা-বাগানে পর্যটকদের ঢল

0

সিলেট জৈন্তাপুর প্রতিনিধি;মোঃ রুবেল আহমেদ।

সিলেট জৈন্তাপুর প্রতিনিধি;
মোঃ রুবেল আহমেদ।

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটের সবকটি পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। গত ৩১ মার্চ থেকে সরকারিভাবে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এ অবস্থায় ঈদের ছুটিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চায়ের দেশ খ্যাত সিলেটের পর্যটন স্পটে ভিড় করছেন নানান বয়সের নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু ও বৃদ্ধরা। পর্যটকদের মধ্যে অধিকাংশই সিলেট জেলার বাসিন্দা। তবে অন্যান্য জেলা থেকেও পর্যটকেরা আসছেন বলে জানা গেছে। বিনোদনকেন্দ্রগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,

সরেজমিনে বিভিন্ন স্পষ্টে গিয়ে দেখা যায়, লকডাউনে নিষেধাজ্ঞা গোয়াবাড়ি,সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের সামনে খোলা জায়গায় ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এছাড়া ও জাফলং, লালাখাল চা-বাগান,মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, লেকসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছিল।

তাদের অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানেননি। ছিলো না মুখে মাস্ক।
এদিকে, এসব স্পটের রাস্তায়, গাছতলায় এবং খোলা জায়গায় বিভিন্ন মালামাল, খাবার ও চটপটির দোকানসহ কারুপণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে সিলেটের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকতো। কোথাও নামতো মানুষের ঢল। কিন্তু দুইবছর ধরে করোনা মহামারির কারণে সে চিত্র নেই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।

দু-একজন পর্যটক এলেও পর্যটনকেন্দ্রে চলেনি কোনো যাত্রীবাহী নৌকা। তবে শনিবার দুপুর থেকেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনেই চা-বাগানে ভিড় জমান পর্যটকেরা। সিলেটে বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ। একটু খোলামেলা পরিবেশে ঘুরতে ঈদের দিন শুক্রবার, শনিবার রোববার ও সোমবার শহরতলীর চা-বাগানগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের পরের দিন শনিবার ও রবিবার প্রচণ্ড রোদ ও গরম উপেক্ষা করে লোকজনকে বেড়াতে দেখা গেছে। ৪র্থ দিন সোমবার ও দেখা গেছে এমনই চিত্র।

চা-বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলছেন, পর্যটনকেন্দ্রেগুলো বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার পরিজন নিয়ে চা বাগানেই ঘুরতে এসেছেন তারা। লালাখাল চা-বাগানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, ‘আল্লায় যদি মারে বাঁচানোর কেউ নেই। আর যদি আল্লায় করোনায় মৃত্যু রাখে তখন কেউ সামনেও আসবে না। তাই জীবনের শেষ ঈদ মনে করে মরার আগে পরিবার নিয়ে একটু আনন্দ করে যাই। যাতে কোনো আফসোস না থাকে। ছেলে-মেয়েদের স্কুল বন্ধ, খেলার মাঠে যেতে দিই না। দীর্ঘদিন ঘরে থেকে মোবাইলে আসক্তি বেড়ে কেমন জানি প্রতিবন্ধীদের মতো হয়ে যাচ্ছে। তাই ঝুঁকি নিয়ে একটু ঘুরতে আসলাম।’

সোমবার বিকেলে সরেজমিন দেখা গেছে, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করে নানান বয়সী লোকজন চা বাগানে ভিড় জমাচ্ছেন। চা-বাগানে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে। বাদ যায়নি পরিবারের শিশু সদস্যও। কোলের শিশুদেরও সঙ্গে করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে চা-বাগানে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে অনেক’কে। ভিড় বাড়লেও চা-বাগানে ঘুরতে আসা অধিকাংশ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি। অধিকাংশের মুখে ছিল না মাস্ক।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঈদের আগে চা-বাগান এলাকা নীরব ছিল। আগে সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে চা-বাগানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও গত বছরের মার্চের পর থেকে পর্যটকদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। কিন্তু এবারের ঈদে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। যাঁরা চা-বাগানে বেড়াতে আসছেন, তাদের অধিকাংশই সিলেটের বাসিন্দা। অন্যান্য জেলা থেকে আসা পর্যটক তেমন নেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »