Ultimate magazine theme for WordPress.

ক্রোয়েশিয়ার ওয়ার্ক ভিসার আদ্যোপান্ত ? কিভাবে, কোথায়, কেমনে আবেদন করবেন সব কিছুর খুঁটিনাটি !

0

ক্রাইম টিভি বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক —ক্রোয়েশিয়া ইউরোপের সেন্ট্রাল ইউরোপের পার্শ্ববর্তী একটি দেশ। যার সরকারি নাম রিপাবলিক অফ হারসভাস্কা। রাজধানী যাগ্রেব এবং প্রধান শহর। মোট ৪.২৮ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটি ২০১৩ সালে জুলাই মাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে জয়েন করেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এই দেশটি সম্প্রতি নজর কেড়েছে বা মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে কয়েকটি কারণে। তারমধ্যে অন্যতম হল বিশ্বকাপ ফুটবল দিয়ে, স্বর্ণকেশী মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের পিটিয়ে।

বর্তমানে এই দেশটিতে রয়েছে প্রচুর দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা। ফলে পার্শ্ববর্তী দেশ আলবেনিয়া, সারভিয়া, উক্রাইন ছাড়াও শ্রমিক আনা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা থেকে। মূলত নির্মাণ কাজে দক্ষ – অদক্ষ শ্রমিকের চাহিটা বেশি এই দেশটিতে। সম্প্রতি ইউরোপের জব ভিসার ক্ষেত্রে যে দেশটির নাম বেশি লোকমুখে সেটা হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। অনেকে আসতেছেন সেটাও সত্য। আজকে বাস্তবতা আসলে কি সেই বিষয় নিয়ে লিখব। কি কাজের চাহিটা বেশি, বেতন, সুযোগ সুবিধা অসুবিধা, স্থায়ী হবার সুযোগ আছে কি না ইত্যাদি নিয়ে । সাথেই থাকুন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে সর্বশেষ যোগদান করা দেশ ক্রোয়েশিয়া খুব অল্প দিনের সম্পর্ক হলে খুব ভাল সম্পর্ক করে নিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বেধে দেয়া নানা শর্তের একের পর এক পুরন করে এগিয়ে যাচ্ছে সেঞ্জেনভুক্ত হবার দ্বারপ্রান্তে। ইতিমধ্যে অনেকেই জানেন ইউরোপে ৫ টি দেশ ( সাইপ্রাস, আয়ারল্যান্ড, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া ) বর্তমানে সেঞ্জেনভুক্ত দেশের বাহিরে রয়েছে। ইউরোপের মধ্যে মায়ের যে দেশগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ক্রোয়েশিয়া অন্যতম. কনস্ট্রাকশন সেক্টরে রয়েছে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ. দক্ষ এবং সেমি দক্ষ কনস্ট্রাকশন কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মূলত থেকে যেসব দেশের নাগরিক এখানে কাজ করতে আসে তাদের ম্যাক্সিমাম হচ্ছে কনস্ট্রাকশন কাজের জন্য ধরে নিতে পারেন এখানে 90 ভাগ কাজই হচ্ছে কনস্ট্রাকশন রিলেটেড। 2021 সালের নতুন নিয়মে পূর্ববর্তী 2020 সাল পর্যন্ত যে কোঠা পদ্ধতি ছিল অর্থাৎ তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য আসতে দেওয়া ছিল সেটা পরিবর্তন করে নতুন আইন করা হয়েছে। 2020 সাল পর্যন্ত যে নিয়ম ছিল সেই নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় দেশের নাগরিক সর্বমোট ২৫ হাজার জন এ দেশে কাজের জন্য আনা যেত। 2021 সেই কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সংযোজন করা হইছে লেবার মার্কেট অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট। এই অ্যাসেসমেন্ট এর মাধ্যমে নির্ধারণ করবে এই কাজের জন্য ক্রোয়েশিয়ান কেউ আছে কিনা, ২য় গ্রুপ হিসাবে ইউ নাগরিক আছে কি না নিয়োগ দেয়ার মত এই কাজে। যদি কেউ আগ্রহী না থাকে সে ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর বাহির থেকে কাজের জন্য লোক হায়ার করতে পারবে। তবে আমি যে কাজের কথা বলতে চাচ্ছি যে কনস্ট্রাকশন রিলেটেড যে কাজগুলো হচ্ছে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য সেখানে কোন প্রকার লেবার মার্কেট অ্যাসেসমেন্ট ছাড়াই আপনি আসতে পারবেন কেননা এখন কোটা পদ্ধতি উঠিয়ে দেওয়ার ফলে নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরি প্রায়ই 100 ক্যাটাগরির মত জবাব আছে যেগুলো লাভার মার্কেট অ্যাসেসমেন্ট দরকার পড়ে না। আর বেশিরভাগই। তাছাড়া আরও যে কয়েক ক্যাটাগরি জব আছে যেগুলোতে অ্যাসেসমেন্ট দরকার পড়ে না সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েটার, রয়েছে বুচার, সিজনাল কৃষি সেক্টরের যেসব কাজ হয় যেমন সিজনাল ভিসা যারা আসবেন কৃষি/এগ্রিকালচার ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এ যেসব কাজগুলো লেবার মার্কেট অ্যাসেসমেন্ট এর কোন দরকার পড়ে না।

দেশের বর্তমান শ্রমবাজারের বেশিরভাগই আমাদের তৃতীয় দেশের নাগরিক যেমন ইন্ডিয়া পাকিস্তান নেপাল থাইল্যান্ড ফিলিপাইন এসব দেশ থেকে আগত. আর বিশেষ তৃতীয় দেশের নাগরিক মূলত ক্রোয়েশিয়াকে ব্যবহার করে ইউরোপের গেটওয়ে হিসেবে. অনেকে মনে করে এখানে আসা সহজ করেছে, আসার জন্য এখান থেকে সেনজেনভুক্ত কোন কান্ট্রিতে যাওয়া যাবে, তাই তারা এখানে মূলত পাড়ি জমায় আর বেশিরভাগই এখানে আসার পর অন্যত্র পালিয়ে যায়. ক্রোয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের আনাগোনা মূলত শুরু হয় 2018 সালের শুরুর দিকে বেশ কিছু বাংলাদেশী ২০১৮ সাল এবং ২০১৯ সাল এবং ২০২০ সালে এসেছে যাদের বেশিরভাগই এখানে নেই বর্তমানে. নতুন দেশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়া মূলত তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য তারা ভিসা ইস্যু করতেছে এবং তাদের ভিসা রেজেকশন এর হার খুবই কম. ক্রোয়েশিয়াতে থাকা অনেক বাংলাদেশী নেপালি এবং ইন্ডিয়ান নাগরিকদের সাথে কথা বলে যে জিনিসটা বুঝতে পারলাম এখনে টিকতে না থাকার কারণ হচ্ছে তাদের কাজ সম্পর্কে তারা অনভিজ্ঞ যেসব কনস্ট্রাকশন কাজের জন্য তাদেরকে আনা হয় তারা মূলত সেই কাজটি পারফেক্ট ভাবে কেউ জানে না যার কারণে কোম্পানি তাদের কে ছাটাই করে দেয় পরবর্তীতে এটা হচ্ছে মূল কারণ যারা ঠিকতে পারতেছে না অতএব যারা ক্রোয়েশিয়াকে বেছে নিবেন এবং ক্রোয়েশিয়াতে কাজ করতে ইচ্ছুক যদি সত্যিকার অর্থে আপনি কোন কাজ জানেন সে ক্ষেত্রে আপনি যদি কোন কাজটা perfectly-জানেন তাহলে সমস্যার কিছু নেই।

আসুন এক নজরে জানিয়ে ক্রোয়েশিয়াতে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয় এবং কিভাবে আপনি আপনার ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করবেন সে বিষয়টা নিয়ে সংক্ষেপে আলাপ করব।

আমি কিভাবে ক্রোয়েশিয়াতে ওয়ার্ক পারমিট ম্যানেজ? এই প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। এখন কথা হল আপনি যদি ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় আসতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ক্রোয়েশিয়ান কোন কোম্পানি থেকে ওয়ার্ক পারমিট ম্যানেজ করতে হবে। এটা ম্যানেজ করার জন্য মূলত আপনারা সরাসরি কোন কোম্পানির সাথে যদি আপনার পরিচিত কোন কোম্পানি থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি তাদের সাথে কন্টাক করে তাদের থেকেও নিতে পারেন অথবা আপনি কোন ভালো কোন এজেন্সি যারা মূলত ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে কাজ করে তাদের সাথে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন। ক্রোয়েশিয়ায় আপনি যদি কোনো কোম্পানি মেনেজ করে থাকেন তাহলে ভালো যদিও আমি বেবস্থা না করতে পারেন অথবা আপনি যদি কোন বাংলাদেশী কোন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি দিয়ে যদি ওয়ার্ক পারমিট এর ব্যবস্থা করে করতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনি কেবল ক্রোয়েশিয়ার ভিসার জন্য ক্রোয়েশিয়ান কনস্যুলেট বা দূতাবাস আবেদন করতে পারবেন।

ক্রোয়েশিয়াতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে কি কি প্রয়োজন ?
2021 সালের নতুন নিয়মে ক্রোয়েশিয়াতে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কয়েকটা জিনিস মাথাই রাখতে হবে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট এর কপি বাংলাদেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ( সার্টিফিকেট বাংলাদেশ থেকে নেয়ার পর, বাংলাদেশ হাই কমিশন নিউ দিল্লি এবং এরপর ক্রোয়েশিয়ান এম্বাসি নিউ দিল্লি থেকে সত্যায়িত করে জমা করতে হবে)। সত্তায়ন বাবদ বাংলাদেশ হাই কমিশন ১৮০ রুপি এবং ক্রয়েশিয়ান দূতাবাস ১২৬০ রুপি নিবে সার্ভিস চার্জ। সময় লাগবে দুই দূতাবাস মিলে ৮-১০ দিন।

পাসপোট কপি
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
বাংলাদেশী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স যদি থাকে
নির্দিষ্ট কাজের উপর কোন ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট যদি থাকে।
উপরোক্ত ডকুমেন্টগুলো শুধুমাত্র ক্রোয়েশিয়া থেকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করার জন্য দরকার পড়বে। ক্রোয়েশিয়া থেকে প্রথমে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করার জন্য যে এজেন্সি বা কোম্পানি আছে তারা এদেশের এম্প্লয়মেন্ট এজেন্সিতে প্রথমে জমা করবে। এম্প্লয়মেন্ট এজেন্সি সেটা ভেরিফিকেশনের জন্য 10 থেকে 12 দিন টাইম নেবে। যদি এম্প্লয়মেন্ট এজেন্সির কোন প্রকার লেবার মার্কেট অ্যাসেসমেন্ট টেস্টের দরকার না পরে সে ক্ষেত্রে তারা ফাইলটি ফরওয়ার্ড করবে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে। নির্দিষ্ট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ক্রিমিনাল রেকর্ড চেকের পরে ঐ কোম্পানিতে যোগাযোগ করে ওয়াক পারমিট ইস্যু করবে। প্রক্রিয়া শেষ হতে সর্বোচ্চ 21 থেকে ৩০ দিন। সময়টা কোন কোন শহর বেধে কম বেশি হয়ে থাকে। ক্রোয়েশিয়াতে ওয়ার্ক পারমিট হাতে পাবার পর যে কাজটি আপনাকে করতে হবে সেটি হল যাবতীয় ডকুমেন্টসহ আপনাকে ক্রোয়েশিয়ান দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। বলে রাখা ভালো যে 2020 সালে যে অথোরাইজেশন মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ার এম্বাসির দূতাবাসের না গিয়ে সোজা করার সিস্টেম চালু ছিল সেটা 2021 সালের জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অতএব 2021 সালে জানান কনস্যুলেট কিংবা দূতাবাসের জন্য আবেদন করবেন তাদেরকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে ভিসার আবেদনের জন্য। যেকোনো আবেদনকারী ক্রোয়েশিয়ান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যে কোন শাখায় সেটা কলকাতা, নিউ দিল্লি, হায়দ্রাবাদ যে কোন ব্রাঞ্চে জমা করতে পারবে ভিসার আবেদন। যে ডকুমেন্টসগুলো লাগবে ভিসার আবেদনের জন্য আমি তার লিস্ট নিচে দিয়ে দিচ্ছি।

ক্রোয়েশিয়ান ভিসার জন্য এমব্যাসিতে যা যা লাগবেঃ
ক্রোয়েশিয়ার ভিসার আবেদন পূরণকৃত ফরম।
বাংলাদেশী পাসপোর্ট এর কপি এবং সকল ব্যবহৃত পেইজ।
বাংলাদেশী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
হেলথ ইন্সুরেন্স (মিনিমাম কভার ৩০ হাজার ইউরো পরিমাণ ) অথবা ক্রয়েশিয়ান কোম্পানি যদি আপনার জন্য ইতিমধ্যে ইনস্যুরেন্স করে থাকে তার কপি।
এক কপি ছবি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এর (35 x 45 mm সাইজের )
কনফার্ম ওয়ান ওয়ে টিকেট রিজার্ভেশন।
ভিসা ফি ৬৪ ইউরো অথবা ৫০০০ ভারতীয় রুপি।
ক্রোয়েশিয়ান ওয়াক পারমিট এর কপি।
উপরের সমস্ত ডকুমেন্ট ক্রোয়েশিয়ার ভিসা আবেদনের জন্য ম্যান্ডেটরি। এখন কথা হল ভিসার আবেদনের জন্য আমাকে কি কোন প্রকার অ্যাপোয়েন্টমেন্ট দরকার আছে? জি হা আপনার দরকার আছে।

উপরোক্ত জিনিস রেডি করে আপনি যখন ক্রোয়েশিয়ান কনস্যুলেটের জমা করতে যাবেন তার আগে অবশ্যই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। ক্রোয়েশিয়া কনস্যুলেটে নির্ধারিত ডেটে আপনাকে সশরীরে হাজির হতে হবে। জমা দেওয়া ঠিক পনেরো থেকে বিশ দিনের মধ্যেই আপনাকে মেইল করা হবে আপনার ভিসার ডিসিশন জানানোর জন্য। ক্রোয়েশিয়া কনস্যুলেট বা দূতাবাসের এ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আপনি ভিএফএস ক্রোয়েশিয়া নিউ দিল্লিস্থ ওয়েবসাইট চেক করতে পারেন এই লিংকে।ভিএফএস ক্রোয়েশিয়া দিল্লি

ক্রোয়েশিয়ার ভিসা সংক্রান্ত আরো কোন জিজ্ঞাসাবাদ পরামর্শ জানার জন্য আপনারা দিল্লির এম্বাসি ফোন নাম্বার অথবা মেইল ইউজ করতে।

ভারতে অবস্থিত নিউ দিল্লীস্থ ক্রোয়েশিয়ান দূতাবাসের ঠিকানাঃ
Embassy of the Republic of Croatia

A-15, West End

New Delhi 110021

India

e-mail: croemb.new-delhi@mvep.hr

ভারতে অবস্থিত অন্যান্য ভিএফেএস এর ঠিকানা দেয়া হল। আপনি চাইলে যেকোনো শাখায় ডেট নিয়ে ফাইল জমা করতে পারবেন।
New Delhi : VFS Joint Visa Application Centre, Shivaji Stadium Metro Station, Mezzanine Level, Baba Kharak Singh Marg, Connaught Place, New Delhi- 110001

Mumbai : Trade Centre, 3rd Floor, ‘G’ Block, Bandra Kurla Complex, Bandra East, Mumbai – 400051

Kolkata : Rene Tower, 5th Floor Building No. 1842, Rajdanga Main Road, Kasba, Kolkata 700107

Chennai : Fagun Towers, Third Floor,No 74,Ethiraj Salai, Egmore, Chennai – 666 666

Hyderabad : 8-2-700, 3rd Floor, Srida Anushka Pride, Road No. 12, Banjara Hills, Hyderabad – 500 034.

Bengaluru: Global Tech Park No 11, First Floor O’ Shaughnessy Road, Langford Town Bangalore 560025

Contact details of VFS Helpline Number — +91-22-67866020,

E-mail Id: infoin.croatia@vfshelpline.com

আশাকরি উপরের ব্যাপারটুকু বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না। ক্রোয়েশিয়ান কনস্যুলেটের যে কোন শাখায় আপনি পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর ভিসা উত্তোলনের মেইল পাওয়ার পর ভিসা হলে সেটা কালেকশন করেই বাংলাদেশ ফ্লাই করে ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে ক্রোয়েশিয়াতে আসতে হবে। কেন না এখনও C ক্যাটাগরি ভিসা ইস্যু করতেছে। যদিও ২০২১ সালের ইস্যুকৃত পারমিটে D তাইপের দেয়ার কোথা রয়েছে বাট কেউ পায় নি এখনো। C টাইপের বিষয়টি মূলত বাংলাদেশের যে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স সেটা দেওয়া হচ্ছে না সরাসরি । বর্তমান সময়ে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স সেটি দেয়া হচ্ছে না এই জন্য যে সেখান থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়া এবং যে কাজের জন্য এখানে পাঠানো সে কাজ না জানার কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বাংলাদেশ সরকার ক্রোয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক সকল যাত্রীদেরকে কিছু নির্দেশ দিয়েছে। আপনাকে যে কোন ক্যাটাগরির ভিসা ই দেওয়া হোক না কেন আপনাকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স কার্ড দেওয়া হবে যদি আপনি বাংলাদেশ সরকার এর দেয়া ম্যানপাওয়ার অফিসের নির্দেশিকা ফলো করেন।

সরকারের নির্দেশন্যায় কি আছে ?
ক্রোয়েশিয়ায় আসার পর আপনি অন্যত্র পালিয়ে যাবেন না, এই মর্মে আপনাকে লিখিতো দিতে হবে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। এবং আপনার গার্ডিয়ান কে নিয়ে যেতে হবে তাদের অফিসে, তাদের নামের ব্যাংক চেক এক লক্ষ টাকা জামানত দিতে হবে অথবা ক্যাশ টাকা জামানত দিতে হবে। আপনি ক্রোয়েশিয়ার তিন ৩ মাস পর সেটা আপনার গার্ডিয়ান বিএমইটি অফিস থেকে তুলতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক করার দরকার পরবে না এবং কোন ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে না। ভিসা পেয়ে বাংলাদেশে আসার পর যা অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেটি হচ্ছে দ্রত ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স কার্ড নেওয়া। আমরা ইদানিং বেশ কিছু সমস্যার কথা শুনেছি বাংলাদেশ এয়ারপোর্টের। তো উপরোক্ত প্রক্রিয়া এবং সরকারের দেওয়া নির্দেশিকা ফলো করলে আশা করি এ ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।

এতক্ষণ ভিসার প্রসিডিউর সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিষয়ে আলাপ করলাম। এখন যেই জিনিস নিয়ে বলব সেটা হল বাংলাদেশ থেকে ক্রোয়েশিয়া আসার প্রস্তুতি। করুনার কারণে বাংলাদেশ থেকে মূলত তার কিসের ফ্লাইট আসতেছে। আপনি চাইলে তার্কিশ এয়ারলাইন্স টিকেট কেটে ক্রোয়েশিয়া আসতে পারেন। ক্রোয়েশিয়ার পরবর্তী যে কাজ সে কাজগুলো মূলত সম্পন্ন মালিক বা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল কোন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি আপনাকে আসার পর রিসিভ না করে, আপনার ওয়াপ পারমিটের দেয়া প্রতিষ্ঠান ঠিকানায় আপনি সরাসরি চলে যেতে পারেন কিংবা জাগ্রেব সেন্টারে অবস্থান করতে পারেন। নরমালি ক্রয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন ঝামেলা করে না এয়ারপোর্টে । ক্রোয়েশিয়া প্রবেশের পর সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ কাজটি হল আপনি যে কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিটে এসেছেন তাদের সাথে দেখা করা। কোম্পানি কম্পানি আপনার যাবতীয় ডকুমেন্টেশনের যত কাজ আছে সবগুলো এক সপ্তাহ থেকে 15 দিনের মধ্যে শেষ করবে। আপনার জন্য ম্যান্ডেটরি হেলথ ইন্সুরেন্স এদেশের টেক্স কার্ডের আবেদন পুলিশ স্টেশনে রেজিস্টেশন টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পার্মিট এর আবেদন সবকিছু জন্য আপনার কোম্পানির দরকার পড়বে। আপনি চাইলেও কোনভাবে কোম্পানিকে এড়িয়ে একাজগুলো একা একা করতে পারবেন না তো আপনাকে কোম্পানির সাথে অবশ্যই ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। কোম্পানি আপনাকে পুলিশ স্টেশনের নিয়ে টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পার্মিট এর আবেদন করলে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আপনার টেম্পোরারি আপনার মালিকের ঠিকানা বা কোম্পানির ঠিকানা চলে যাবে। কোন কারণ মনে কাজ পরিবর্তন করবেন বা কোম্পানি আপনাকে রাখতে চাচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে কোম্পানি পরিবর্তন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু দিন সময় পাবেন সেটা ১৫ দিন হয়ে থাকে নরমালি তো আপনি যদি ১৫ দিনের মধ্যে অন্য জায়গায় কোথাও কাজ ম্যানেজ করে নিতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনি অন্য মালিকের বা অন্য প্রতিষ্ঠান এর অধীনে টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পার্মিট এর আবেদন। আর যদি একটি প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ করে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনি আপনার কাজ কন্টিনিউ করতে পারবেন। প্রথমত আপনাকে এক বছরের টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পার্মিট দেওয়া হবে সেটা আপনার রিনিউ করতে পারবেন। যখন আপনি একবছরের কাজ শেষ করে যখন রেনিউ করবেন তখন আপনাকে দুই বছর মেয়াদী কার্ড দেওয়া হবে এভাবে নেক্সট রেনিউতেও দু’বছরের কার্ড । পাঁচ বছর এইভাবে টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পার্মিট নিয়ে থাকার পর আপনি পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা পি আর এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পারমিট পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ক্রোয়েশিয়ান ভাষায় ভাষাগত দক্ষতার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। সেটা ইউরোপিয়ান লেভেলে b1-b2 পর্যন্ত হতে হবে। পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে ক্রোয়েশিয়ায় তিন বছর থাকার পর আপনি সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন অর্থাৎ ক্রোয়েশিয়ান পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করতে হলে আপনাকে টোটাল ৫+৩=৮ বছর ক্রোয়েশিয়ায় থাকতে হবে। এই ছেলে মূলত ক্রোয়েশিয়ার আদ্যোপান্ত। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিস অল্প কথায় সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। তারপরও যদি কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

সুত্র – লাইফস ইন  ইউরোপ

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »