Ultimate magazine theme for WordPress.

এই পেঁচারা নিজ ঘর ও সন্তান দেখভালের জন্য পোষে সাপ!

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক —-সাপ আর পোকামাকড় খেয়েই জীবনধারণ করে পেঁচারা। তবে অবাক করা বিষয় হলো, এক প্রজাতির পেঁচা রয়েছে, যারা কিনা নিজের বাড়ি আর সন্তানদের পাহারা দিতে বাসায় সাপ পুষে। কথায় বলে ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন।
ঠিক তেমনভাবেই এই প্রজাতির পেঁচারা সত্যি সত্যিই বাসা এবং সন্তানদের পাহারা দিতে সাপ পোষে বাসায়। অদ্ভুত এই পেঁচার প্রজাতিটির নাম স্ক্রিচ আউল বা স্ক্রিচ পেঁচা। প্রজনন মৌসুমে, প্রাপ্তবয়স্ক স্ক্রিচ পেঁচারা তাদের ছানাদের জন্য খাবার নিয়ে আসে এবং কখনো কখনো এই খাবারগুলোতে থাকে টেক্সাস ব্লাইন্ড স্নেক। তবে স্বাস্তির বিষয় হলো এই সাপেরা অন্ধ হয়।
টেক্সাস ব্লাইন্ড স্নেক এক ধরনের ছোট সাপ যা দেখতে অনেকটা বড় বড় কেঁচোর মতো। মূলত টেক্সাস অঞ্চলের বাসিন্দা এই প্রজাতির সাপগুলো অন্ধ হয়। এই সাপগুলো পেঁচার বাসায় থেকে পোকামাকড় ও লার্ভা খায়। তা না হলে পেঁচার বাসা দ্রুত লার্ভায় ভরে যেতে পারে। যা পেঁচার ছানাদের জন্য ক্ষতিকারক। এই সাপেদের জন্য বাসা পরিষ্কার থাকলে ছানাগুলো দ্রুত বড় হয়। কারণ পোষা এই অন্ধ সাপ পেঁচার বাসা কীট-পতঙ্গ মুক্ত রাখে।
১৯৭৫ সালে বায়লর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই জীববিজ্ঞানী এফআর গেলবাক ও আরএস বালরিজ লক্ষ্য করেন টেক্সাস অঞ্চলের কিছু স্ক্রিচ পেঁচা তাদের বাসা ভাগ করে নিচ্ছে সাপেদের সঙ্গে। যা একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল। জীববিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি বিশদে পরীক্ষা করেন।
তাদের মতে, অবশ্যই পেঁচারা সাপগুলোকে বাসাতে নিয়ে গিয়েছিল তবে তাদের নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি আলাদা ছিল বেশিরভাগ শিকারী পাখির মতো। স্ক্রিচ পেঁচা তাদের শিকার বাসায় আনার সময় সাধারণত শিকারকে মেরে ফেলে। তবে এই অন্ধ সাপগুলোর ক্ষেত্রে এমনটা করে না। এমনভাবেই তাদের নিয়ে আসে যাতে সাপগুলো মারা না যায়।
গেলবাক ও বালরিজ ৭৭ টি পেঁচার বাসা পরীক্ষা করেছিলেন। যার মধ্যে ১৪ টি বাসায় (প্রায় ১৮ শতাংশ) ব্লাইন্ড স্নেক ছিল। বেশিরভাগ বাসায় অবশ্য মাত্র একটি করেই সাপ ছিল। তবে একটি বাসায় প্রায় ১৫টি সাপ পাওয়া গিয়েছিল। পেঁচার বাসায় থাকা ৮৯ শতাংশ সাপ জীবিত ছিল। মোট ৩৫ টি সাপের মধ্যে ৪ টি সাপ মারা গিয়েছিল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »