Ultimate magazine theme for WordPress.

যেভাবে ঈমান এনেছিলেন হজরত উমর

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক–ছাব্বিশ বছরের টগবগে যুবক উমর ইবনুল খাত্তাব। পৌত্তলিকতা তথা পুতুল পূজার বিষয়ে ভীষণ আন্তরিক। মুহাম্মদ সা: আনীত তাওহিদের দাওয়াতের প্রতি সে ভীষণ বিরক্ত। কীভাবে ‘আপদ’ দূর করা যায় এটি ছিল তার ভাবনা। অবশেষে একদিন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল, এ নতুন দ্বীনের আহ্বায়ককে খতম করেই এ আপদ বিদায় করতে হবে।
খোলা তলোয়ার হাতে নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত উমর চলছেন মুহাম্মদ সা:-এর খোঁজে। পথিমধ্যে খবর পেলেন তার নিজের বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব এবং তার ভগ্নিপতি সাঈদ ইবন যায়েদ রা: ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর যায় কোথায়! উমর ছুটলেন সেদিকে। আগে নিজের ঘর সামলিয়ে তারপর শত্রু নিধন। বোন ভগ্নিপতি উমরের টের পেয়ে কুরআন মাজিদের যে অংশটুকু তারা তিলাওয়াত করছিলেন সে অংশটুকু লুকিয়ে ফেললেন।
তাঁরা উমরের মেজাজ এবং দৈহিক শক্তির সাথে পরিচিত ছিলেন। ক্ষিপ্ত উমর ভগ্নিপতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং আচ্ছামত প্রহার করতে শুরু করলেন। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে বোন ফাতিমাও রক্তাক্ত হলেন। দু’জনই ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত।
দীপ্তকণ্ঠে বলে উঠলেন, উমর! সত্যকে বুঝতে পেরেছি, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছি এবং তাঁর ওপর ঈমান এনেছি, তুমি যা চাও করতে পার কিন্তু ঈমান থেকে একচুলও নড়বোনা আমরা। চিরকালীন শান্তশিষ্ট বোনকে এমন দৃঢ়তার সাথে প্রতিবাদ করতে দেখে বিস্মিত উমর এবং একই সাথে রক্তাক্ত বোনকে দেখে খানিকটা লজ্জিতও বটে। বললেন, ‘কি পড়ছিলে তোমরা আমাকে দেখাও তো।’ কালামে মাজিদের প্রতি কোনো অবজ্ঞা প্রকাশ করবেন না এমন প্রতিশ্রুতি পেয়ে তারা পঠিত বিষয় উমরের কাছে দিলেন। উমর পড়তে শুরু করলেন।
সূরা ত্বাহার এক থেকে সাত আয়াত পর্যন্ত পড়লেন, ‘(হে মানুষ!) তোমাদিগকে কষ্টে ফেলিবার জন্য আমি এই কুরআন নাজিল করি নাই। ইহা তাহাদের জন্যই সতর্কবাণী তাঁহার নিকট হইতে আসিয়াছে- যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন এই পৃথিবী আর ওই সুউন্নত আকাশ। যিনি পরম করুণাময় এবং আপন শক্তিতে অটুট। আসমান-জমিনে অথবা উভয়ের মাঝখানে অথবা মাটির নিচে যাহা কিছু আছে সবার ওপর তাঁর সর্বময় প্রভুত্ব এবং তুমি যা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করো তার গূঢ়মর্ম তিনি জানেন আরো জানেন সেই কথা যা তুমি গোপন করিয়া রাখো।’
জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল উমরের! মহিমাময় আল্লাহর ক্ষমতা ও কৌশলের সন্ধান পেলেন আর ছুটে গেলেন নবী সা:-এর কাছে- উদ্ধত তরবারি তাঁর পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে, তাঁর হাতে হাত রেখে ঘোষণা করলেন, ‘আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।’ ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।’
ঘটনাটি এজন্যই উল্লেখ করা হলো যে, জ্ঞানই ঈমানের নূর কথাটি বুঝানোর জন্য। উমর যখন বিশ্বজাহানের স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বুঝতে পারলেন; ঈমান আনার ক্ষেত্রে কালবিলম্ব করলেন না। অপর পক্ষে তার শান্তশিষ্ট বোনটি যে কোনো দিন ভাইয়ের সাথে বাদানুবাদ করেনি, সেই বোনটিও বুঝে সুঝে ঈমান আনার কারণে ঈমানের প্রশ্নে আপসহীন ও প্রতিবাদী হয়ে ভাইকে পরিষ্কার করে বলে দিলেন, যা খুশি করতে চাও করতে পারো ; কিন্তু যে সত্য একবার জেনেছি তা থেকে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। না বুঝে অথবা না জেনে কিন্তু এমন গভীর ভাবে কোনো কিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যায় না।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »