Ultimate magazine theme for WordPress.

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের রান্না স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক–প্রযুক্তিগত উন্নতি যত হচ্ছে আমরা ততই এক ধাপ করে এগিয়ে চলেছি। যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে, তথ্য জানার ক্ষেত্রে, এমনকি রান্না পর্যন্ত নিমেষেই হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের জীবন সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠেছে। সেইরকমই, মাইক্রোওয়েভ ওভেন আসার পর থেকে প্রত্যেকের জীবনকেই সহজ করে তুলেছে, কারণ, প্রচলিত রান্নার পদ্ধতির তুলনায় এটি চটজলদি খাবার রান্না করা বা খাবার গরম করতে সাহায্য করে।
তবে, মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার রান্না করা নিরাপদ কি না তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নানা দিক তুলে ধরেছেন।
আসুন এই বিষয়ে আমরা জেনে নিই। কীভাবে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম হয়? হার্ভার্ড হেলথের মতে, মাইক্রোওয়েভের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের কারণে পানির কণাগুলো খুব দ্রুত দিক পরিবর্তন করে এবং পানির কণাগুলো কাঁপতে থাকে। ফলে, কণাগুলোর ঘর্ষণে তাপ উৎপন্ন হয়, যা খাবারের ভেতরে থাকা তরল অংশ গরম হয়ে যায়। এভাবে একসময় পুরো খাবারটিই গরম হয় এবং রান্না করতে সাহায্য করে। তবে, যেসব খাবারে পানি কম থাকে সেগুলো তুলনামূলকভাবে কম গরম হয়।
রান্নার জন্য মাইক্রোওয়েভ কী নিরাপদ?
খাবার মাইক্রোওয়েভে রান্না করা হোক বা নিয়মিত গ্যাস ওভেনে, খাবারে ভিটামিন সি জাতীয় পুষ্টিগুণ যখন তাপের সংস্পর্শে আসে তখন তা ভেঙে যায়। আর, মাইক্রোওয়েভে রান্না হতে খুব কম সময় লাগে বলে পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে।
তবে, এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, মাইক্রোওয়েভে একবার গরম করা হলে দুধ ও কাঁচা গরুর গোশতের মতো কিছু খাবারে থাকা ভিটামিন বি ১২-এর প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়।
ইউ. এস. ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, মাইক্রোওয়েভ রান্নায় যদি কোনো প্লাস্টিক কন্টেইনার ব্যবহার করা হয় তাহলে সেটি ক্ষতিকারক, কারণ উত্তাপের ফলে সেটি গলে যেতে পারে।
এছাড়াও, প্লাস্টিকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দূষক বি পি এ বা বিসফেনল এ রয়েছে, প্লাস্টিকের পণ্যগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি ইস্ট্রোজেন জাতীয় যৌগ।
অবশ্য, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, মাইক্রোওয়েভে রান্না করা খাবার অন্যান্য প্রচলিত ওভেনে তৈরি করা খাবারের মতোই নিরাপদ। তবে, এই দুই ওভেনের মধ্যে মূল একমাত্র পার্থক্য হলো মাইক্রোওয়েভে খুব কম সময়ে খাবার রান্না বা গরম হয়। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করা খাবার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, এর কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই।
সূত্র : বোল্ডস্কাই
বক্ষব্যাধির ইমার্জেন্সি
ডা: এ কে এম মোস্তফা হোসেন
বক্ষব্যাধির বেশ কিছু ইর্মাজেন্সি দেখা দেয়। অনেকে এগুলোকে আমলে আনতে চান না। রোগ পালন করে অকালে ঝরে পড়ে অনেক প্রাণ। অথচ একটু সচেতন হলে এ প্রাণগুলো রক্ষা করা যায়। এ ধরনের রোগ নিয়ে আজকের আলোচনা।
হঠাৎ করে তীব্র হাঁপানি-শ্বাসকষ্ট : যদি হঠাৎ করে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায় এবং ইনহেলারের ডোজ দ্বিগুণ করার পরেও যদি শ্বাসকষ্ট না কমে তাহলে দেরি না করে তখনই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসবেন। যদি বিশ্রামের সময় শ্বাসকষ্ট থাকে, এক নিঃশ্বাসে একটি বাক্য বলতে না পারে, গলা দিয়ে তীব্র আকারে বাঁশির মতো শব্দ হয়, শ্বাসকষ্টের জন্য রাত্রে ঘুমাতে না পারে, শরীর নীল বর্ণ হয়ে যায়, অজ্ঞান ভাব হয় এই উপসর্গগুলো থাকলে কালবিলম্ব না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
অ্যাকুউট এক্সাজারবেশন অব সিওপিডি : দীর্ঘ দিনের ধূমপানের ইতিহাস, বয়স ৪০-এর বেশি, দীর্ঘ দিনের কাশি ও শ্বাসকষ্টের ইতিহাস থাকে, পরিবেশের তারতম্যের কারণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এই ধরনের রোগীর যদি হঠাৎ কারে শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে যায়, কফের পরিমাণ বেড়ে যায়, কফের রঙ হলুদ-সবুজ হয় এবং এর সাথে যদি জ্বর, কাশি, বাঁশির মতো শব্দ আগের চেয়ে বেড়ে যায় তাহলে দেরি না করে অতিসত্বর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসতে হবে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিনের কফের সাথে সাথে শরীর নীল হয়, পা ফুলে যায়, অজ্ঞান ভাব হয় বিলম্ব না করে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাবেন।
টেনশন নিউমোথেরাক্স : হঠাৎ করে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও একদিকে বুকে ব্যথা থাকলে এর সাথে পূর্বের ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতা যেমন ক্রনিক কফ, যক্ষা, হাঁপানি কাশির ইতিহাস, ফুসফুসে ফোড়ার ইতিহাস থাকলে, ফুসফুসে পূর্বের জটিলতা ছাড়াও তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে জন্মগত কারণ থাকলে অনেক সময় টেনশন নিউমোথোরাক্স হতে পারে এবং হৃদরোগ আলাদা করা কঠিন হয়ে যায়, তাই এই রকম সমস্যা থাকলে অতিসত্বর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
নিউমোনিয়া
অল্প দিনের বেশি জ্বরের ইতিহাস এবং এর সাথে প্রথম শুকনা কাশি, পরে মরিচা রঙের মতো কফ বের হলে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে জরুরি বিভাগে নেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বুকে ব্যথা, বুক ধরফর করা, শোয়ার কিছুক্ষণ পর শ্বাসকষ্ট হলে, পূর্বে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে অতিসত্বর রোগীকে হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন। হঠাৎ করে বুকে তীব্র ব্যথা, সাথে সাথে ঘা ঘাম দেয়া, বুকের মাঝে চাপ চাপ লাগা, শ্বাসকষ্ট থাকলে, হৃদরোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »