Ultimate magazine theme for WordPress.

বেকার অভিবাসী শ্রমিকদের স্বাবলম্বী করতে ঋণ বিতরণ সহজের তাগিদ

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরা অভিবাসী কর্মীদের নগদ আর্থিক সহায়তা ও স্বাবলম্বী করতে ঋণ বিতরণ কর্মসূচি আরও সহজ করার তাগিদ দিয়েছেন এ খাত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমন বাস্তবতায় নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় বিদেশ ফেরত কর্মহীনদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে চায়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা শুরুর পর থেকে গেলো এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় আট লাখের মতো অভিবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। কিন্তু সরকারি হিসেবে নিবন্ধন করেছেন মাত্র আট হাজার।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডাটাবেজ তৈরি শুরু করার জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড-কে দায়িত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের অবলিম্বে স্থানীয় জেলা কর্মসংস্থান অফিসে এবং যেখানে জেলা কর্মসংস্থান অফিস নেই সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের কপি মোবাইর নম্বর, বিএমইটি’র নিবন্ধন/স্মার্ট কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নাম নিবন্ধনের জন্য বলা হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক জরিপে বলা হয়েছে, করোনাকালে গত এক বছরে দেশে ফিরে আসা প্রবাসী কর্মীদের শতকরা ৪৭ ভাগ এখন বেকার। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চলছেন। এছাড়া, ৫৩ শতাংশ কৃষিকাজ, ছোট ব্যবসা বা শ্রমিকের কাজ করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন। তবে, বিদেশফেরতদের ৯৮ শতাংশ এখনো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, কর্মহীন অভিবাসীদের নগদ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। যাতে করে তারা নিজেরাই আত্নকর্মসংস্থানের পথ বেছে নিতে পারে।
তৃণমূল অভিবাসী সংগঠন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগাম (ওকাপ) গেলো বছরের এপ্রিল থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ফেরত আসা প্রায় ৪০০ জন অভিবাসীর ওপর জরিপ করেছে। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় করা এই জরিপের তথ্যমতে, ফিরে আসা ৮৪ শতাংশ অভিবাসী কর্মী দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছে। ৭ শতাংশ অভিবাসী বলেছেন তারা তিনবেলা ঠিকমতো খাবারও জোটাতে পারেন না।
ওকাপ চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিল শর্তগুলো বিলোপ করে ফেরত অভিবাসীদের ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজতর করতে হবে।
অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের করোনা শুরুর পর থেকে যে অভিবাসীরা দেশে ফিরে বেকার জীবনযাপন করছেন তাদের শতকরা ৪ ভাগ হারে এবং ওই সময়ের আগে যারা ফিরে এসেছেন তাদের শতকরা ৯ ভাগ হারে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু ঋণ বিতরণেও আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। তার বড় কারণ হলো দুই থেকে পাঁচ লাখ কিংবা আরও অধিক পরিমাণ অর্থের ঋণ পেতে হলে ঋণগ্রহীতা ও একজন জামিনদারকে আগে চেক জমা দিতে হয়। এই শর্ত আরোপের কারণে অনেকেই ঋণ নিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক শেখ কামাল পাশা বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, অভিবাসীদের মধ্যে যারা ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হতে চান তাদেরকে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে ঋণগ্রহীতা ও একজন জামিনদার এই দু’জনের দু’টা চেক সিল মেরে রেখে দেই। সঠিক সময়ে টাকা ফেরত দিলে ব্যাংক চেক ফেরত দিয়ে দেয়। অন্যথায় ঐ দু’জনকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়। তাতেও টাকা ফেরত না পেলে উকিল নোটিশ দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করার হয়।
এদিকে, ফিরে আসা অভিবাসীদের আর্থিকভাবে সহায়তা দিয়ে দেশে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ প্রসংগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বাংলাভিশন ডিজিটালকে জানান, গত বছর থেকে করোনাকালে চাকরি হারিয়ে এক বছরে কয়েক লাখ কর্মী দেশে ফিরে আসলেও নিবন্ধন করেছেন মাত্র আট হাজার। অভিবাসীদের মধ্যে যারা বেকার ও অসহায় তাদের নগদ সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ শেষে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ঋণ বিতরণ কার্যক্রম আরো সহজ ও আকর্ষনীয় করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। আপডেট ডাটাবেজ হাতে পেলেই অভিবাসীবান্ধব গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরি করা যাবে বলে আশাবাদ জানান সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »