Ultimate magazine theme for WordPress.

সোহেল রানার হাত ধরে নায়িকা হওয়ার অজানা গল্প জানালেন অঞ্জনা

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…সোনালি দিনের নায়িকা অঞ্জনা। পারিবারিক নাম অঞ্জনা রহমান। ১৯৭৬ সালে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘দস্যু বনহুর’ মুক্তি পায়৷ এ ছবিতে তিনি ড্যাশিং হিরোখ্যাত সোহেল রানার নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন৷ এর আগে থেকেই অঞ্জনা নাচের শিল্পী হিসেবে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করেন৷
তার নৃত্যশিল্পী খ্যাতি দেখেই তাকে সিনেমায় নিয়ে আসেন সোহেল রানা৷ এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন৷ প্রায় ৩০টি সিনেমায় নায়িকা হয়েছেন নায়ক রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে৷
এছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন আলমগীর, জসিম, বুলবুল আহমেদ, জাফর ইকবাল, ওয়াসিম, উজ্জ্বল, ফারুক, ইলিয়াস জাভেদ , মিঠুন চক্রবর্তী, (ভারত) ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল চৌধুরী , রুবেল, সুব্রত বড়ুয়া, মান্না, ফয়সাল, (পাকিস্তান), নাদিম, (পাকিস্তান) জাভেদ শেখ (পাকিস্তান), ইসমাইল শাহ,(পাকিস্তান), শীবশ্রেষ্ঠ, (নেপাল), ভূবন কেসি (নেপাল) প্রমুখ নায়কদের বিপরীতে৷ যা বাংলাদেশি কোনো অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে বিরল সাফল্য।
নাচ ও অভিনয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক প্রশংসিত অঞ্জনা বিশ্ব নৃত্য দিবস উপলক্ষে গত ২৯ এপ্রিল দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে৷ সেখানে জানিয়েছেন সোহেল রানার হাত ধরে তার নায়িকা হওয়ার অজানা গল্প৷
অঞ্জনা লেখেন, ‘সবাইকে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের শুভেচ্ছা। নৃত্যে আমি সর্বশ্রেষ্ঠা সর্বজয়া এইটা অসংখ্যবার পরিক্ষিত। এই নৃত্যশিল্পের কারণে আমি অঞ্জনা, নৃত্যশিল্পী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবার কারণেই চলচ্চিত্রে পদার্পণ ছিলো আমার সুপ্রসন্ন।বাংলা চলচ্চিত্রের আমি একমাত্র নায়িকা যে প্রথম চলচ্চিত্রে আমার নামের পাশে নবাগতা টাইটেল ব্যাবহার করা হয়নি। কারণ সেই ছোট্ট বয়স থেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশ ও ভারতে সাড়া জাগানোর ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমি পরিগণিত হই।
তারই সুফল স্বরূপ চলচ্চিত্রে আগমন ছিলো আমার জন্য সহজ৷ বাংলা চলচ্চিত্রে আমার পদার্পণের লক্ষে আমি চির কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি বাংলা চলচ্চিত্রে আমার ওস্তাদ কিংবদন্তী চিত্রনায়ক ড্যাশিং হিরো মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা ভাইয়ের প্রতি। কারণ নৃত্যে আমার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্যই তিনি আমাকে বাংলা চলচ্চিত্রে প্রধান নায়িকা হিসেবে আগমন করান।’
‘অশিক্ষিত’ সিনেমার এ নায়িকা আরও লেখেন, ‘নৃত্যশিল্পে আমি ৩ বার জাতীয় পুরস্কার, ১০ বার আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করি। তার মধ্যে ১ বার সমগ্র এশিয়া মহাদেশের প্রায় একশটি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে একমাত্র আমি বাংলাদেশ থেকে চ্যাম্পিয়ন হই যেটা ১৯৭৯ সালে। এছাড়া মস্কো ইন্টার ন্যাশনাল ডান্স কম্পিটিশন চ্যাম্পিয়ন হই ১৯৮২ সালে।
সার্ক ডান্স ফ্যাস্টিভ্যাল চ্যাম্পিয়ন ১৯৮৬। উপমহাদেশীয় ডান্স কম্পিটিশন ১৯৮৮।
ব্রিটিশ ডান্স ফ্যাস্টিভ্যাল ১৯৯১। নিউইয়র্ক লসএঞ্জেলস ক্ল্যাসিকাল ডান্স কম্পিটিশন ১৯৯৪। দক্ষিণ এশীয় ফোক ডান্স ফ্যাস্টিবাল ১৯৯৮ জাপান ত্রিদেশীয় ডান্স কনফারেন্স ২০০৩ সহ আরো অসংখ্য পুরস্কার।’
বর্তমানে অঞ্জনাকে অভিনয়ে আর দেখা যায় না। তবে নাচে তিনি সুযোগ পেলেই মঞ্চ মাতান আজও৷ পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির একজন নেতা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »