Ultimate magazine theme for WordPress.

রোজা রাখলে আপনার শরীরে কী ঘটে?

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…প্রতি রমজানে কোটি কোটি মুসলমান সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা রাখেন। গত কয়েক বছর ধরে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে রোজা পড়েছে গ্রীষ্মকালে। ফলে ওইসব দেশের মুসলিমদের রোজা রাখতে হচ্ছে গরমের মধ্যে, অনেক দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু মুসলিমরা যে কমাস ধরে রোজা রাখেন সেটা তাঁদের শরীরে কী প্রভাব ফেলে?
প্রথম কয়েকদিন: সবচেয়ে কষ্টকর।
শেষবার খাবার খাওয়ার পর আট ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত মানুষের শরীরে সেই অর্থে রোজার প্রভাব পড়ে না। আমরা যে খাবার খাই তা পাকস্থলীতে পুরোপুরি হজম হতে এবং এর পুষ্টি শোষণ করতে অন্তত আট ঘণ্টা সময় নেয় শরীর। যখনই খাদ্য পুরোপুরি হজম হয়ে যায়, তখন শরীর যকৃৎ এবং মাংসপেশিতে সঞ্চিত থাকা গ্লুকোজ থেকে শক্তি নেয়। শরীর যখন এই চর্বি খরচ করতে শুরু করে তা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
যেহেতু রক্তে সুগার বা শর্করার মাত্রা কমে যায় সেকারণে হয়তো কিছুটা দুর্বল লাগতে পারে কিংবা ঝিমুনি ভাব আসতে পারে।
এছাড়া কারো কারো ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে। এই সময়টাতেই আসলে শরীরে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধা লাগে।
৩ থেকে ৭ রোজা: পানিশূন্যতা থেকে সাবধান।
প্রথম কয়েক দিনের পর শরীর যখন রোজায় অভ্যস্ত হয়ে উঠে তখন শরীরের চর্বি গলে গিয়ে তা রক্তের শর্করায় পরিণত হয়। কিন্তু রোজার সময় দিনের বেলায় আপনি যেহেতু কিছুই খেতে বা পান করতে পারছেন না তাই সন্ধ্যায় রোজা ভাঙার পর আপনাকে সেটার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। নইলে আপনি মারাত্মক পানি শূন্যতায় আক্রান্ত হতে পারেন; বিশেষ করে গরমের দিনে যদি শরীরে ঘাম হয়।
যে খাবার আপনি খাবেন তার মধ্যেও যথেষ্ট শক্তিদায়ক খাবার থাকতে হবে। যেমন- কার্বোহাইড্রেড বা শর্করা এবং চর্বি। একটা ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সব ধরণের পুষ্টি, প্রোটিন বা আমিষ, লবণ এবং পানি থাকে।
৮ থেকে ১৫ রোজা: অভ্যস্ত হয়ে উঠে শরীর।
এই পর্যায়ে এসে আপনার শরীর এবং মনে ভালোলাগা তৈরি হয়। কারণ, তখন রোজার সংগে শরীর মানিয়ে নিতে শুরু করে।
ক্যামব্রিজের এডেনব্রুকস হাসপাতালের এনেসথেসিয়া এন্ড ইন্টেনসিভ কেয়ার মেডিসিনের কনসালটেন্ট ড. রাজিন মাহরুফ বলেন, এর অন্য সুফলও রয়েছে। সাধারণত, অন্য সময়ে আমরা অধিক ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাই। এর ফলে আমাদের শরীর অন্য অনেক কাজ ঠিকমতো করতে পারে না। যেমন- শরীর নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে না। কিন্তু রোজার সময় যেহেতু আমরা না খেয়ে থাকছি তাই শরীর অন্য কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। কাজেই রোজা কিন্তু শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এটি শরীরের ক্ষত সারিয়ে তোলা বা সংক্রমণ রোধ সাহায্য করতে পারে।

১৬ থেকে ৩০ রোজা: ভারমুক্ত শরীর।
রমজান মাসের দ্বিতীয়ার্ধে শরীর পুরোপুরি রোজার সংগে মানিয়ে নেয়। শরীরের পাচকতন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি এবং দেহত্বক এই সময়ে এক ধরনের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাবে। সব দূষিত বস্তু বেরিয়ে আপনার শরীর শুদ্ধ হয়ে উঠবে।
ড. মাহরুফ বলেন, এসময় আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পাবে। আপনার স্মৃতি এবং মনোযোগের উন্নতি হবে এবং আপনি শরীরে অনেক শক্তি পাবেন।
শরীরে শক্তি বাড়ানোর জন্য আপনার আমিষের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক হবে না। যখন আপনার শরীর ক্ষুধার্ত থাকছে তখন এটি শক্তির জন্য দেহের মাংসপেশিকে ব্যবহার করছে। এটি ঘটে যখন আপনি একটানা বহুদিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ রোজা রাখছেন। যেহেতু রোজার সময় আপনাকে শুধু দিনের বেলায়ই না খেয়ে থাকতে হয় সেহেতু শরীরের চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট পরিমাণে খাবার এবং পানীয় গ্রহণের সুযোগ থাকছে রোজা ভাঙার পর। এটি আমাদের মাংসপেশিকে রক্ষা করছে এবং একই সংগে আমাদের ওজন কমাতেও সাহায্য করছে।

রোজা রাখা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?
ড. মাহরুফ বলেন, রোজা রাখা শরীরের জন্য অবশ্যই ভালো। কারণ, আমরা কী খাই এবং কখন খাই সেটার ওপর মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। তবে একটা ব্যাপার হলো, এক মাস রোজা রাখা ভালো তবে একটানা রোজা রাখার পরামর্শ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, শরীরের ওজন কমানোর জন্য একটানা রোজা রাখা কোনো উপায় হতে পারে না। কারণ, একটা সময় আপনার শরীর চর্বি গলিয়ে তা শক্তিতে পরিণত করার কাজ বন্ধ করে দেবে। তখন এটি শক্তির জন্য নির্ভর করবে মাংসপেশির ওপর। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কারণ, আপনার শরীর তখন ক্ষুধায় ভুগবে।
সূত্র: বিবিসি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »