Ultimate magazine theme for WordPress.

প্রাণ বাঁচাতে ভারতে পালাচ্ছে মিয়ানমারের মানুষ

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক …সেনা অভ্যুত্থানের পর চলমান সহিংসতা থেকে বাঁচতে মিয়ানমারে নাগরিকেরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী থাকা অনেক মানুষ ভারতে আশ্রয় খুঁজছেন। ময়লার ট্রাকে চড়ে, নালা ও খাল দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর দিয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এর আগে গ্রেপ্তার করে দেশটির নির্বাচিত মন্ত্রী অং সান সু চি। এর প্রতিবাদে গত দুই মাস ধরে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ করে আসছে দেশটির জনগণ। অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক লোক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৩জন শিশুও রয়েছে। গতকাল শুক্রবারও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানায়।
মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতার ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে পালাচ্ছেন। তাদের মধ্য একজন মাখাই। তিনি তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় ভারতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। একটি ময়লার ট্রাকে চড়ে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেন তিনি। এর আগে দুইবার ভারতের সীমান্ত বাহিনী তাঁকে আটকে দিলেও এবার কোনো বাধার সম্মুখীন হননি মিয়ানমারের এ নাগরিক।
এ মাসের শুরুতে সীমান্তবর্তী জেলা তামু থেকে বোন ও মেয়ে নিয়ে ভারতে পালান ৪২ বছর বয়সী মাখাই। তাঁরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতীয় রাজ্য মণিপুরে প্রবেশ করেন। প্রাণ বাঁচাতে এটিই একমাত্র উপায় ছিল বলে মনে করেন মাখাই। তিনি বলেন, সেনাসদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে নারীদের ধর্ষণ করছে এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে।
আরও দুই নারী একইভাবে দেশ ছাড়েন। তাঁরা বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি ভালো হলে ঘরে ফিরে যেতে পারবেন বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁদের স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য পুরুষেরা এখনো মিয়ানমারেই আছেন।
উইনি নামে এক নারী বলেন, ‘পুরুষেরা প্রয়োজনে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। কিন্তু ঘরে আচমকা সেনাবাহিনী চলে আসলে প্রাণ বাঁচাতে মেয়েদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।’ ফলে মেয়ে নিয়ে ভারতে পালিয়েছেন তামু জেলার এ বাসিন্দাও।
অনেক বছর ধরে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে উভয় দেশের নাগরিকদের জন্য চলাচল সুবিধা চালু আছে। এক দেশের মানুষ চাইলে আরেক দেশের ১৬ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারে এবং সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন।
তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত বছর মার্চে এ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। এ বছর আবার সীমান্ত খুলে যাবে বলে উভয় দেশের মানুষ আশাবাদী ছিল। তবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের ফলে সীমান্ত চলাচল আবার চালু হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন মিয়ানমারের মানুষ।
দেশজুড়ে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ দমনের জন্য সীমান্ত সুরক্ষাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না মিয়ানমারের জান্তা সরকার। বিপুল পরিমাণ সেনা বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভারতও তার সীমান্তে খুব বেশি সেনা মোতায়েন করেনি। যার কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে পারছে মিয়ানমারের মানুষ।

সুত্র – প্রথম আলো

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »