Ultimate magazine theme for WordPress.

মোদীর সফর নিয়ে বিক্ষোভ: সহিংসতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, উচ্ছৃঙ্খলতার দায় অস্বীকার হেফাজতের

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বাংলাদেশে তিনদিন ধরে ”কতিপয় গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে সরকারি সম্পত্তি ও মানুষের জানমালের ক্ষতি করছে” এবং তা এখনি বন্ধের তিনি আহ্বান জানিয়েছেন ।
অন্যথায়, সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
রোববার সচিবালয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে রোববার টানা তৃতীয় দিনের মত ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সংঘর্ষ হয়েছে।
সহিংস বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত: বারো জনের মৃত্যু হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “গত তিনদিন ধরে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি, গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল আশুগঞ্জ উপজেলায় সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে চলেছে।
যার মধ্যে উপজেলা পরিষদ, থানা ভবন, সরকারি ভূমি অফিস, পুলিশ ফাঁড়ি, রেল স্টেশন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বাড়িঘর, প্রেসক্লাবসহ মানবসম্পদের তারা ক্ষয়ক্ষতি করে যাচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “এ জাতীয় ক্ষয়ক্ষতি, সকল প্রকার উচ্ছৃঙ্খলতা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় জনগণের জানমাল সম্পদ রক্ষার্থে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।”
নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতা করে ধারাবাহিক বিক্ষোভের পর আজ রোববার বাংলাদেশে হরতাল পালন করেছে হেফাজতে ইসলাম।
হরতালে নানা জায়গায় অবরোধ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল এতিম ছোট ছোট শিশুদের রাস্তায় এনে বসিয়ে দিচ্ছে, এবং তারাই ভিকটিম হচ্ছে।”
তিনি আরো বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে, ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
“আমরা মনে করি এইগুলো নাশকতা, এইগুলা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এগুলি থেকে বিরত থাকার জন্য,নতুবা আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।”
যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যাতে আরো ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেজন্য সরকার সব ব্যবস্থা নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। “এখন তাদের প্রতিহত করা হবে—আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।”

হেফাজতে ইসলামের অবস্থান

সাম্প্রতিক সহিংসতায় তাদের সমর্থকদের দায়ী করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হেফাজতে ইসলাম।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আজ এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে বিক্ষোভকারীরা সরকারি দলের কর্মী ও পুলিশী হামলার শিকার হয়েছেন।
সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব নাসিরুদ্দিন মুনির বিবিসিকে বলেছেন সরকারি ভবনে যেসব হামলায় তাদের সমর্থকদের দায়ী করা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়।
তিনি বলেছেন, “শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে সহিংসতা হয়েছে সেটা আপনারা জানেন। সেই খবর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর, আমাদের মাদ্রাসায় যেহেতু অনেক ছাত্র, তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
জুম্মার ঘণ্টাখানেক পর ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল। থানা পার হওয়ার সময় কিছু ছেলে, তারা মাদ্রাসার ছাত্র না, উচ্ছৃঙ্খল কিছু লোক মিছিলের মধ্যে ঢুকে যায়। ওরা থানার মধ্যে কয়েকটা ইঁট-পাটকেল ছুঁড়ছিল। তার প্রতিবাদে থানা থেকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে, বৃষ্টির মতো।
”আমাদের ছাত্ররা থানার মধ্যে আক্রমণ করেনি। এই ব্যাপারে একশ পার্সেন্ট নিশ্চয়তা আমি আপনাকে দিতে পারি,” বিবিসিকে বলেন হেফাজতে ইসলাম সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব নাসিরুদ্দিন মুনির।
বাংলাদেশে পাঠ্য পুস্তকে পরিবর্তন আনা, ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলা সহ সরকার অতীতে নানা সময়ে হেফাজতে ইসলামের তোলা অনেক দাবি মেনে নিয়েছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমানের স্বীকৃতি দেয়া হয়।
হেফাজতে ইসলাম সংগঠনটির সাথে যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক ছিল তা এসব দাবি মেনে নেয়া থেকেই অনুমান করা হয়।
হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ বলে উপাধি দেয়া হয়েছে।
সুত্র – বি বি সি বাংলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »