Ultimate magazine theme for WordPress.

স্বাধীনতার ৫০ বছরে অদম্য গতি উন্নয়নে

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক …স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্জন কতটুকু? স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি-না—এমন প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলার বিষয়ে নানা মহলের প্রশ্ন থাকলেও ৫০ বছরে দেশের অর্জন কম নয়। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আজ পূর্ণতার পথে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৬৪ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫ দশমিক ৪। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭ বা তারও কম।
বাঙালি বীরের জাতি। মাত্র নয় মাসে আমরা আমাদের স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ
আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।
রাষ্ট্রচিন্তকরা বলছেন, উন্নয়নের বাংলাদেশে অসঙ্গতিরও শেষ নেই। বিরোধী মত দমন, মাদক ছোবলে তারুণ্যের নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সূচকেও বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণগত মানে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে দেশের রাষ্ট্রপতিও ভেবে দেখার প্রয়োজনবোধ করেছেন। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করছি। এ সময়ে রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উতরাই ঘটেছে। কিন্তু রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন কতটুকু হয়েছে তা ভেবে দেখতে হবে। ব্যক্তির চেয়ে দল, দলের চেয়ে দেশ বড়—এটাই হচ্ছে রাজনীতির মূল আদর্শ। কিন্তু আজকাল যেন রাজনীতি উল্টো পথে হাঁটছে। কিছু সুবিধাবাদী লোক রাজনীতিটাকে পেশা বানিয়ে ফেলেছেন। রাজনীতি আর পেশা এক জিনিস নয়। রাজনীতিকে পেশা মনে করলে দেশ ও জনগণের কথা ভুলে নিজের ও পরিবারের গণ্ডির মধ্যেই ঘুরপাক খেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি প্রায়শই বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। এজন্য প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।’
ইতিহাস থেকে জানা যায়, পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) শুধু অবহেলিতই ছিল না, এখানকার সম্পদ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমৃদ্ধ করা হতো। শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের জন্য ব্যয় করা হতো ২৫-৩০ শতাংশ সম্পদ। পশ্চিম পাকিস্তানের ৪৪ শতাংশ জনগণের জন্য ৭০-৭৫ শতাংশ। সেই শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় বাঙালি জাতি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ছিনিয়ে আনে স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশ।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে টেনে তোলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বল্পোন্নত দেশের সারিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করে। স্বাধীনতার মহানায়কের স্বপ্ন ছিল; উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠন। তার দেয়া ভিত্তির ওপরই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে, শিগগিরই হবে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
ক্ষমতাসীন সরকার বলছে, আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। আর্থিক এবং অন্যান্য সূচকের দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে অনেক দূর। ২০১৯-২০ সালে জিডিপি ৩৩০ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই ১২ বছরে সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৭ হাজার ৯৬০ কোটি থেকে ২০১৯-২০ বছরে চার লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা হয়েছে।রফতানি আয়ের পরিমাণ ২০১৮-১৯ বছরে ৪০ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৪৪ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২০ দশমিক ৫ ভাগ এবং অতি-দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে।
খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল চার কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৬ বছর। পাঁচ বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর হার অর্ধেক কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি হাজারে ২৮। মাতৃমৃত্যুর হার কমে দাঁড়িয়েছে লাখে ১৬৫ জনে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র সুবিধা আজ শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সুবিধা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’র সুবিধা কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।

মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সব গৃহহীনকে ঘর প্রদান কর্মসূচির আওতায় আট লাখ ৯২ হাজার গৃহহীনকে ঘর দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও ৫০ হাজার গৃহনির্মাণের কার্যক্রম চলমান।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে চলতি বাজেটে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাজেটের ১৬ দশমিক আট-তিন শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ২৫ লাখ।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দুই কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি, উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের নারীরা আজ স্বাবলম্বী। জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০তম এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সপ্তম।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ট্যানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সারাদেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, দুই ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান তৈরিসহ অর্থনীতিতে আরও গতি সঞ্চার হবে।

সর্বশেষ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাঙালি বীরের জাতি। মাত্র নয় মাসে আমরা আমাদের স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।’

সুত্র- জাগোনিউজ২৪.কম

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »