Ultimate magazine theme for WordPress.

চলুন ঘুরে আসি মহাবিশ্বের শেষ সীমায়

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…

মানব সভ্যতা সৃষ্টির শুরু থেকেই আমরা আকাশের শোভা দেখে অবাক হই। আমাদের পূর্ব পুরুষ দের অনুমান ও বিজ্ঞানের অবদানের ফলে এটা জানতে পেরেছি যে আমাদের অবস্থান কোথায় ? কিন্তু নিজেকে জানার এই যাত্রা বেশ লম্বা ছিল। একটা সময় ছিল যখন পৃথিবী মহাকাশের কেন্দ্রে অবস্থান করে বলে মনে করা হত। সবার অনুমান ছিল সুর্য সহ অন্যান্য গ্রহ পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিন করে । আমরা এখন এর আসল রহস্য জানি । আমরা আসলে জানিনা এই ব্রম্মান্ডের শেষ কোথায়? আমরা এবার পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করবো অসীমের দিকে । তবে এই যাত্রা আমাদের সময়ের সাথে চলতে দিবেনা আমাদের যাত্রা করতে হবে কল্পনায় । তবে অবশ্যই আমরা সময় থেকেই শুরু করবো।ধীরে ধীরে চলে যাবো কল্পনায় কারণ সময় হার মেনে যাবে ।

যখন পৃথিবী থেকে ১২ কি.মি. উপরে যাবো তখন থাকবো ট্রপোসফেয়ার এর উপরে। জেনে রাখি এর উপর দিয়েই বেশির ভাগ উড়োজাহাজ উড়ে থাকে।
চলুন যাই ৫০ কি.মি. উপরে। জেনে রাখি স্ট্রাটোসফেয়ার স্তর টি এখানেই শেষ। এটাই ছিল ওজোনস্তর। যা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে ক্ষতিকর আলোক রশ্মি থেকে।
৮০কি.মি. উপরে গেলে শেষ হবে মেজোস্পেয়ার। ৭০০কি.মি. উপরে গেলে শেষ হবে থার্মোসফেয়ার। এখানে বাতাস খুবই পাতলা আর তাপমাত্রাও অনেক বেশি এবং ধীরে ধীরে উপরের দিকে আরো বাড়তে থাকে।
আমরা এখন শেষ করতে যাচ্ছি আমাদের বায়ুমণ্ডল। তবে আমাদের যেতে হবে ১০০০০ কি.মি. উপরে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটসহ পৃথিবীর যত স্যাটেলাইট আছে সব এই স্তরেই ঘুরে বেড়ায়।
চলুন আরো দূরে যাই তবে বেশি দূর না, চাঁদে যাবো আমরা এবার। এখানে যেতে আমাদের অতিক্রম করতে হবে ৩৪৪৪০০কি.মি. এই দুরুত্বে ৩০টি পৃথিবীর জায়গা হতে পারে।
এর পর যেতে পারবো ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সূর্যে। জেনে রাখি এই সূর্যই আমাদের পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
আমরা এবার গ্রহ গুলো বাদ দিয়ে অতিক্রম করবো তবে জেনে রাখি পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট। আর মানুষের পাঠানো যান ভয়েজার-১ পৃথিবী থেকে রয়েছে ১৩৮ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দুরুত্বে। আমরা এখন ২১লক্ষ্য কোটি বছর দূরে অবস্থান করছি। ভয়েজার-১ তার জায়গায় প্রতি সেকেন্ডে ১৭কি.মি. বেগে চলছে।

  • যাচ্ছি পরিক্সিমা সেন্টুয়ারি তারার কাছে যা সূর্যের পর সব থেকে কাছের তারা।  এর দুরুত্ব ৪.২৪ আলোকবর্ষ। আমরা আসলেই কল্পনায় আগাচ্ছি। কারণ ভয়েজার-১ এর এখানে আসতে সময় লাগবে ৭০,০০০বছর।

আমরা যাচ্ছি এবার আমাদের সৌর জগতের বাইরে। আমাদের এই গ্যালাক্সিকে  মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বলা হয়ে থাকে । যা ১০০০০০ আলোকবর্ষ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। তবে আমরা যাবো এবার আলোর  গতিতে।  আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ২৯৯৭৯২কি.মি. । আমরা এই গতিতে  আগাবো না, আমরা আগাবো এল প্রতি ১বছরে যে পথ অতিক্রম করে সেই গতিতে। যাকে বলবো আলোকবর্ষ। এটি প্রায় সাড়ে নয় লক্ষ্য কোটি কিলোমিটার।

  • আমরা ঢুকে যাচ্ছি লোকাল গ্রুপ অফ গ্যালাক্সিতে। আমাদের মিল্কিওয়ে গালাক্সিও এটার অংশ।  এই সুপার গ্যালাক্সি এর ভিতর প্রায় ৫৪টি গ্যালাক্সি রয়েছে। এই লোকাল গ্রুপ প্রায় ১কোটি আলোকবর্ষ এলাকা নিয়ে বিস্তৃত।
  • এবার যাচ্ছি আরেকটু দূরে ভার্গো ক্লাস্টার গ্যালাক্সিতে। যা  ১১কোটি  আলোক বর্ষ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
  • যাচ্ছি লানাইকো সুপার ক্লাস্টার এ।  এর আয়তন ৫২ কোটি আলোকবর্ষ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
  • আমাদের চিন্তায় আরোকিছু আছে। আমরা আসলে চিন্তায় বা কল্পনায় আগাচ্ছি তাই। আমরা জানছি  অবজার্ভবল ইউনিভার্সাল সম্পর্কে ।  যেখানে ২ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি বিদ্যমান।  যার আয়তন ৯৩০০কোটি আলোকবর্ষ।
  • ড. এলেন গুথ এর মতে এই মহাবিশ্ব ১৫০সেক্সট্রিলিওন বড়  অবজার্ভাবল ইউনিভার্স এর থেকে। যেখানে ১ সেক্সট্রিলিওন এ ২১টি জিরো থাকে।  এবার আমাদের থামা উচিত

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »