Ultimate magazine theme for WordPress.

পৃথিবী ধ্বংস হবে, চাঁদে রাখবে ৭০ হাজার প্রাণির শুক্রাণু-ডিম্বাণু!

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…..  হাজার হাজার কোটি বছরের পুরানো এই পৃথিবী যে কোনোও সময় ধ্বংস হয়ে যেতে পারে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সেটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে মহাজাগতিক কোনো সংঘর্ষেও হতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন সেই মহাপ্রলয়ে বিলুপ্ত হতে পারে পৃথিবীর সব জীবের অস্তিত্ব। আর তাই পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের বুকে পুঁতে রাখতে চাইছেন ৭০ হাজার প্রাণির শুক্রণু ও ডিম্বাণু। যাতে করে ভবিষ্যতে যদি কোনো বুদ্ধিমার প্রাণী এর খোঁজ পায়, তাহলে জানতে পারবে পৃথিবী সম্পর্কে।করোনাভাইরাস আসার পর মানুষের মধ্যে একধরনের ভয়, বলা যায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে এমন কিছু কি ঘটতে পারে, যার কারণে পুরো মানবসভ্যতাই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে? তেমন যে অনেক কিছুই আছে, সে কথা সবাই জানেন।কিন্তু সম্ভাবনার ভিত্তিতে বিজ্ঞানী এবং গবেষকেরা কয়েকটি বিষয়কে পৃথিবীর জন্য হুমকি বলে মনে করছেন। যেকোনো হুমকি, যেকোনো ঝুঁকিই, পরিশেষে না-ও ঘটতে পারে।

যেমন এমন কোনো প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ এসে যেতে পারে, যার কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বের করতে পারবেন না। পারলেও সেই সময়ের মধ্যে সেটা মানবসভ্যতাকে প্রায় ধ্বংস করে দেবে। এমন সম্ভাবনা সব তালিকাতেই পাওয়া যাবে।ধারণা করা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য কারণে মিউটেশনের মাধ্যমে এমন কিছু জীবণু আসতে পারে, যার বিরুদ্ধে কোনো ওষুধ কাজ করবে না। বাতাসের মাধ্যমে সেটা একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে চলে যাবে, এভাবে পৃথিবীর মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।

অনেকে আবার ভাবছেন, বড় বড় দেশ যে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে, তাদের ল্যাবরেটরির মারাত্মক কোনো জীবাণু কোনোভাবে বাইরে বের হয়ে সভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তবে ১ নম্বরে এখনো রয়েছে পারমাণবিক যুদ্ধ। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রাগারে যে পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র আছে, তা পৃথিবীকে সহজেই ধ্বংস করে দিতে পারে। পৃথিবীর এমন একটি বড় সংকট এসেছিল ১৯৬২ সালে, যাকে বলে কিউবা মিসাইল সংকট। আমেরিকা ও তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবার কাছে ক্যারিবিয়ানে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, আর পৃথিবীর মানুষের ভবিষ্যতের আলো নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

এমন যে আবার হবে না, সে কথাও জোর দিয়ে বলা যায় না। তিন বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি এবং ফলে হাইড্রোজেন বোমা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। এটা কিউবা মিসাইল সংকটের কাছাকাছি না হলেও পারমাণবিক যুদ্ধ এখনো মানবসভ্যতার জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রাকৃতিক দুটো দুর্যোগের সম্ভাবনাকে বেশ বড় ঝুঁকি ধরা হয়। একটি হলো সুপার ভলকানো- বিপুল আগ্নেয়গিরি। বেশ কটি সুপার ভলকানোর সন্ধান বিজ্ঞানীরা বের করেছেন। একটা সাধারণ আগ্নেয়গিরির প্রভাবই যে কত ব্যাপক হতে পারে, তা ২০১৫তে জাপানের সেই বিপুল ধূম্র উদ্‌গিরণকারী আগ্নেয়গিরি থেকেই বোঝা যায়।আকাশ কালো হয়ে যায়। শত মাইল দূরে গিয়ে ছাই পড়তে থাকে। জাপানের ক্ষেত্রে অনেকটা আকাশপথজুড়ে বিমান যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সুপার ভলকানো শুরু হলে বিজ্ঞানীরা কয়েক দিন বড়জোর কয়েক মাস আগে আভাস পেতে পারেন, তার আগে নয়।আরেকটি বড় সংকট হতে পারে, মহাশূন্য থেকে কোনো প্রকাণ্ড উল্কাপিণ্ড বা ধূমকেতু যদি এসে পৃথিবীর ওপর পড়ে, তাহলে পৃথিবী নিজে ধংস না হলেও মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণিকুল ধংস হয়ে যেতে পারে। উল্কাপিণ্ড আঘাত করার পর সেটা পারমাণবিক বোমার মতোই বিস্ফোরিত হবে। তার থেকে যে ধূলি আকাশে ছড়িয়ে যাবে তাতে আংশিক, এমনকি গোটা পৃথিবী বহু বছর অন্ধকার হয়ে থাকতে পারে।পৃথিবীকে প্রতিদিন অসংখ্য উল্কাপিণ্ড আঘাত করছে। কিন্তু সেগুলো ছোট হওয়ায় মাটিতে পড়ার আগেই বাতাসে জ্বলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যাকে আমরা ভুল করে বলি, তারা খসে পড়া। আধুনিক কালে সবচেয়ে বড় উল্কাপিণ্ড পড়েছিল ১৯০৮ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়ার তুঙ্গুস্কায়,সেটার কম্পন পৃথিবীকে সাতবার পাক খাইয়েছিল, আণবিক বোমার মতো প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। ধারণা করা হয়, উল্কা বা ধূমকেতুর কারণেই সাড়ে ছয় কোটি বছর পূর্বে পরাক্রমশালী ডাইনোসররা হঠাৎ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে এই ঝুঁকিটিতে এখন একটু সময় পাওয়া যাবে।অনেকের বিবেচনাতেই এই ঝুঁকিটি প্রায় ১ নম্বরে এসে দাঁড়াচ্ছে। কম্পিউটারের বা মেশিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যাকে ইংরেজিতে বলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সংক্ষেপে এআই (AI)।

শুধু সোফিয়া নামের রোবটটি নয়, তার যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে তার থেকে অনেক বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্মুখীন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করলে প্রতিদিনই হচ্ছেন। ফেসবুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে। সে বের করছে আপনি কাকে কাকে চিনতে পারেন। গুগুলের আছে, সে বুঝতে পারছে আপনি কী খুঁজছেন, কোনটা প্রথমে দেখালে আপনার জন্য লাগসই হবে।গবেষণা, অর্থনীতি, সমরাস্ত্র, এমন অসংখ্য বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঢুকে পড়ছে। রোবট তো তৈরি হচ্ছেই। কলকারখানায় কাজ করছে, কিছুদিন পর বাসাবাড়ির অনেক কাজ তারাই করবে।অবস্থা এমন হবে যে মানুষ বড় বড় কাজের দায়িত্ব এই এআইকেই দেবে। ইতিমধ্যেই কিছুটা দিয়ে ফেলেছে। তখন? তারা যদি বিগড়ে যায়, অথবা সত্যিসত্যিই বুদ্ধি করে মানুষের বিপক্ষে চলে যায়, তাহলে মানবসভ্যতা বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। এমনকি বিলুপ্তও হয়ে যেতে পারে।পরিবেশদূষণের মাধ্যমে মানুষ ইতোমধ্যেই পৃথিবীর আবহাওয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। তার ফলাফলও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ উঁচু হয়ে ওঠার কথা উঠলেই বাংলাদেশের কথা চলে আসে। বাংলাদেশ এই হুমকির অগ্রভাগে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং পৃথিবীকে অচিরেই মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে সভ্যতাই এখন হুমকির সম্মুখীন।ন্যানো টেকনোলজির নামে একটি নতুন প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। সেটা বস্তুর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু ব্যবহার করে আণুবীক্ষণিক মেশিন বানাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন একটি মেশিন কেউ বানাবে, যেটা সব জৈব পদার্থ শুধু খেতে থাকবে এবং নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে থাকবে। একটা থেকে দুইটা, তারপর এভাবে হাজার, কোটি, শুধু বাড়তেই থাকবে। অনেকটা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার মতো কিন্তু জীবন্ত নয়, তবে আরও ভয়ংকর।

তাই এই গ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিজ্ঞানীরা রীতিমত উঠে পড়ে লেগেছে। ধ্বংসের এই আশঙ্কা থেকে তারা চাইছেন পৃথিবীর অস্তিত্ব অন্তত পরোক্ষ ভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য চাঁদের মাটিতে পুঁতে রাখা হোক এই গ্রহের প্রায় ৭০ লক্ষ প্রজাতির ডিম ও স্পার্ম।বিজ্ঞানীরা চাঁদে স্পার্ম ও ডিম রাখার বিষয়টিকে ‘মডার্ন গ্লোবাল ইনসিওরেন্স পলিসি’ বলে উল্লেখ করছেন। ক্রায়োজেনিক তাপমাত্রায় (-১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) চাঁদের মাটিতে রক্ষিত থাকবে এই স্পার্মব্যাঙ্ক। যেসব পশুপাখি বা উদ্ভিদের প্রজাতি বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায়, এই ব্যাঙ্কে থাকবে তাদেরও নমুনাবীজ।ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনা এর অ্যারোস্পেস এন্ড মেকানিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোফেসর জেকান থাঙ্গা শুক্রবার (১২ মার্চ) একটি ইউটিউব ভিডিওতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। সেখানে তিনি পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কা করছেন এবং কিভাবে পৃথিবীর প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব সে তা ব্যাখ্যা করেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »