Ultimate magazine theme for WordPress.

মহান আল্লাহর ২০ নিয়ামত

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…

আশরাফুল মাখলুকাত মানবজাতির প্রতি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অগণিত নিয়ামত দান করেছেন। বিশ্বের সব মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ও সেসব নিয়ামতকে গণনা করে শেষ করা যাবে না। নিয়ামতের কথা চিন্তা করলে প্রত্যেক ব্যক্তি প্রথমে নিজের দেহের কথাই ভাবতে পারে। রাব্বুল আলামিন তাঁর মহা অনুগ্রহে মানুষের দেহে যে প্রাণ সঞ্চার করেছেন সেটিও বড় একটি নিয়ামত। দেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, শিরা-উপশিরায় নিয়ামত আর নিয়ামত। মানুষের আপাদমস্তক পুরোটাই মহান রবের মহা নিয়ামতে ভরপুর। জীবনভর গণনা কিংবা চিন্তা গবেষণা করে এ নিয়ামতের প্রকৃত সংখ্যা কখনোই বের করা সম্ভব নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা আন নাহল, আয়াত : ১৮)

মানুষের দেহের বাইরে ভোগ্য-অভোগ্য, দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান অসংখ্য নিয়ামত যা মূলত মহান আল্লাহ পাকেরই মহা অনুগ্রহ, মহাদান। এসব নিয়ামতের বেশির ভাগ মানুষ আল্লাহর কাছে চায়, আবার কোনোটি না চাইলেও মহান রব তার বান্দাদের আপন অনুগ্রহে দান করেন। আল্লাহ পাক বলেন, ‘যে সব বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদের দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত : ৩৪)। ‘তোমরা কি দেখো না আল্লাহ নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন? এমন লোকও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বাগি¦তণ্ডা করে।’ (সূরা লোকমান, আয়াত : ২০) পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ পর্যালোচনা করে আমরা যে সব মহা নিয়ামত দেখতে পাই তা হলো-

১. মানবজাতির সৃষ্টির সেরা জীব হওয়া।
২. বাকশক্তি ও বোধশক্তিসম্পন্ন হওয়া।
৩. সুন্দর দেহাবয়ব ও মুখাবয়বসম্পন্ন হওয়া।
৪. আবেগ ও বিবেকসম্পন্ন হওয়া।
৫. বিভিন্ন ভাষাভাষী ও বিভিন্ন জাতিভুক্ত হওয়া।

৬. দৈহিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকা।
৭. কর্মঠ ও কর্মতৎপর হওয়া।
৮. সর্বদৈহিক সুস্থতার পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতা লাভ করা।
৯. সুখময় দাম্পত্য জীবন লাভ করা, নেক্কার স্ত্রী ও সন্তান লাভ করা।
১০. সুন্দর, সুরম্য ও পরিচ্ছন্ন আবাসস্থল ও গাড়ির মালিকানা লাভ করা।

১১. বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানী ও চিন্তাশীল হওয়া।
১২. সুখসমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠনের নিমিত্তে নেতৃত্ব লাভ।
১৩. চিন্তাশীল সৃষ্টিশীল গবেষক হওয়া।
১৪. সাবভৌম রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে চলা বলার অবারিত সুযোগ লাভ করা।
১৫. কোনোরকমের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বীয় ধর্ম, কৃষ্টি কালচার পালনের সুযোগ লাভ করা।

১৬. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব সুযোগ সুবিধা লাভ করা।
১৭. আত্মিক ও মানসিক শান্তি লাভ করা।
১৮. সব প্রকার হুমকি-ধমকি থেকে সার্বিক নিরাপত্তা লাভ করা।
১৯. নিজের ব্যক্তিত্ব তথা ইজ্জত-সম্মান, যশ-খ্যাতি লাভ করা।
২০. নিজের জীবনকে আল্লাহ ও রাসূল সা:-এর নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালনা করা।

উপরোল্লিখিত এ সব নিয়ামত অনেকগুলো নিয়ামতের সমন্বিত বর্ণনা। এ ছাড়াও ব্যক্তি জীবন সংশ্লিষ্ট আরো অগণিত নিয়ামত রয়েছে যেগুলো কেবল কলেবর বৃদ্ধিই করবে। আল্লাহ পাকের নিয়ামত লাভের পর সবার উচিত তার শুকরিয়া আদায় করা। তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৫২)

তিনি আরো বলেন, ‘যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদের আরো দেবো এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত : ৭)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের আজাব দিয়ে আল্লাহ কী করবেন যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো! আর আল্লাহ হচ্ছেন সমুচিত মূল্যদানকারী সর্বজ্ঞ।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত : ১৪৭) মহান আল্লাহপাক আমাদের তাঁর দেয়া নিয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রভাষক, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদরাসা

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »