Ultimate magazine theme for WordPress.

হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন? সতর্ক হতে পারেন এসব লক্ষণ দেখে

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক…

রোগবালাই কখনো বলে কয়ে আসে না। তবে কিছু বিষয় খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় কারো কোনো নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না। বিশেষ করে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। কিন্তু জানেন কি কয়েকটি বিষয় বা লক্ষণ বলে দিতে পারে যে আপনার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটা।

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের মতে পরিবারে বা বংশে কোনো পুরুষ সদস্য যেমন বাবা বা ভাই ৫৫ বছরের এবং মা বা বোন যদি ৬৫ বছরের আগে হৃদোরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরিবারে বাবা ও মা দুজনেই যদি ৫৫ বছর বয়সের আগে হৃদযন্ত্রের অসুখে ভোগেন তাহলে আপনার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে ৫০ শতাংশ বেশি। অৰ্থাৎ পরিবারের হৃদযন্ত্রের অসুখের রেকর্ডের উপরে অনেকটাই নির্ভর করে যে আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন কি না।

কার্ডিওমায়োপ্যাথি থাকলে হৃদযন্ত্রের আকারের উপরেও প্রভাব পড়ে এবং তার ব্লাড পাম্পের ক্ষমতার উপরেও প্রভাব পড়ে। এছাড়াও হৃদস্পন্দে অসমতার মতো হৃদযন্ত্রের সমস্যা পরিবারের কারো হয়ে থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। করোনারি আর্টারি ডিজিজ পরিবারের কারো থাকলে আপনিও সেই জিন বহন করতে পারেন যার ফলে খারাপ কোলেস্টরেল তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আগে থেকে আশঙ্কার কথা যেমন আন্দাজ করা যায়, তেমনই আগে থেকে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখারও কিছু উপায় রয়েছে।

তার জন্য কী কী করণীয় দেখে নেয়া যাক-

পরিবারে হার্টের অসুখের কী রেকর্ড রয়েছে সেটা জেনে নেয়া দরকার। আগে থেকে সাবধান হলেই সচেতনতা আসে দ্রুত।

নিয়মিত রক্তচাপ, লিপিড প্রোফাইল, ব্লাড সুগার, পরীক্ষা করান। কারণ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বয়স ক্রমশ কমে আসছে।

স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া করার বিকল্প কিছুই হতে পারে না। প্রসেসড ফুড, অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা ।

ধূমপান হার্টের অসুখের আশঙ্কা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাই ধূমপান বন্ধ করুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। এতে হার্টের অসুখের আশঙ্কা কমে।

সূত্র : নিউজ ১৮

বক্ষব্যাধির ইমার্জেন্সি
ডা: এ কে এম মোস্তফা হোসেন
বক্ষব্যাধির বেশ কিছু ইর্মাজেন্সি দেখা দেয়। অনেকে এগুলোকে আমলে আনতে চান না। রোগ পালন করে অকালে ঝরে পড়ে অনেক প্রাণ। অথচ একটু সচেতন হলে এ প্রাণগুলো রক্ষা করা যায়। এ ধরনের রোগ নিয়ে আজকের আলোচনা।

হঠাৎ করে তীব্র হাঁপানি-শ্বাসকষ্ট : যদি হঠাৎ করে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায় এবং ইনহেলারের ডোজ দ্বিগুণ করার পরেও যদি শ্বাসকষ্ট না কমে তাহলে দেরি না করে তখনই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসবেন। যদি বিশ্রামের সময় শ্বাসকষ্ট থাকে, এক নিঃশ্বাসে একটি বাক্য বলতে না পারে, গলা দিয়ে তীব্র আকারে বাঁশির মতো শব্দ হয়, শ্বাসকষ্টের জন্য রাত্রে ঘুমাতে না পারে, শরীর নীল বর্ণ হয়ে যায়, অজ্ঞান ভাব হয় এই উপসর্গগুলো থাকলে কালবিলম্ব না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

অ্যাকুউট এক্সাজারবেশন অব সিওপিডি : দীর্ঘ দিনের ধূমপানের ইতিহাস, বয়স ৪০-এর বেশি, দীর্ঘ দিনের কাশি ও শ্বাসকষ্টের ইতিহাস থাকে, পরিবেশের তারতম্যের কারণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এই ধরনের রোগীর যদি হঠাৎ কারে শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়ে যায়, কফের পরিমাণ বেড়ে যায়, কফের রঙ হলুদ-সবুজ হয় এবং এর সাথে যদি জ্বর, কাশি, বাঁশির মতো শব্দ আগের চেয়ে বেড়ে যায় তাহলে দেরি না করে অতিসত্বর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসতে হবে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিনের কফের সাথে সাথে শরীর নীল হয়, পা ফুলে যায়, অজ্ঞান ভাব হয় বিলম্ব না করে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাবেন।

টেনশন নিউমোথেরাক্স : হঠাৎ করে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও একদিকে বুকে ব্যথা থাকলে এর সাথে পূর্বের ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতা যেমন ক্রনিক কফ, যক্ষা, হাঁপানি কাশির ইতিহাস, ফুসফুসে ফোড়ার ইতিহাস থাকলে, ফুসফুসে পূর্বের জটিলতা ছাড়াও তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে জন্মগত কারণ থাকলে অনেক সময় টেনশন নিউমোথোরাক্স হতে পারে এবং হৃদরোগ আলাদা করা কঠিন হয়ে যায়, তাই এই রকম সমস্যা থাকলে অতিসত্বর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

নিউমোনিয়া
অল্প দিনের বেশি জ্বরের ইতিহাস এবং এর সাথে প্রথম শুকনা কাশি, পরে মরিচা রঙের মতো কফ বের হলে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে জরুরি বিভাগে নেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বুকে ব্যথা, বুক ধরফর করা, শোয়ার কিছুক্ষণ পর শ্বাসকষ্ট হলে, পূর্বে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে অতিসত্বর রোগীকে হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন। হঠাৎ করে বুকে তীব্র ব্যথা, সাথে সাথে ঘা ঘাম দেয়া, বুকের মাঝে চাপ চাপ লাগা, শ্বাসকষ্ট থাকলে, হৃদরোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »