Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলের প্যাশন ফলের চাষ বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে।

0

ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক… 

শীতের বিদায় আসন্ন। ক’দিন পরই শুরু হবে খাঁ-খাঁ রৌদ্দুর। প্রখর রোদে প্রচণ্ড গরমে তেষ্টা মেটাতে চাই এক গ্লাস ঠাণ্ডা শরবত। আর এই শরবতের জন্য আমরা অনেকেই নির্ভর করি নিউট্রি-সি বা ট্যাং জাতীয় পাউডারের উপর। ব্রাজিলের জনপ্রিয় প্যাশন ফল থেকে উত্পাদিত হয় বাজারে পাওয়া এ সকল শরবতের প্যাকেট বা জার। সুখবর হলো, ব্রাজিলের এই ফলটি এখন জন্মাচ্ছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে। পার্বত্য অঞ্চলে কয়েক বছর থেকে প্যাশন ফলের চাষ হলেও জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বানিয়াপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহসিন আলীর বাড়িতে গত কয়েক বছর যাবত্ উত্পাদিত হচ্ছে সুস্বাদু ও মজাদার প্যাশন ফল। তারাই এখন এই ফলটির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। তাদের কাছ থেকে চারা নিয়ে অনেকেই শখের বসে প্যাশন ফলের গাছ লাগিয়েছেন।
মহসিন আলী জানান, ৬ বছর আগে তিনি দেবীগঞ্জে অবস্থানরত তার ভায়রা আশরাফ আলীর বাড়ি থেকে একটি চারা এনে বাড়িতে লাগান। চারা লাগানোর কয়েক মাসের মধ্যে লতা জাতীয় গাছটি উঠে যায় পাশের নিম ও সুপারি গাছে। দুই বছরের মাথায় গাছে ফুল থেকে ফল আসে। সবুজ রঙের ফলটি দু’তিন মাসের মধ্যেই হালকা কমলা রং ধারণ করার পরই পাখ-পাখালি আসতে থাকে ফল খেতে। পরে তিনি একটি ফল পেড়ে ওপরের অংশ ভেঙ্গে দেখতে পান ভেতরের হলুদ রং থেকে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই অংশ গ্লাসে নিয়ে তাতে পানি দিয়ে গুলিয়ে দেখেন তা থেকে বাজারের প্যাকেটের শরবতের মতই ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। এতে একটু চিনি মিশিয়ে মুখে দিয়ে দেখেন অপূর্ব স্বাদ তখন পর্যন্ত তিনি জানতেন না এটি আসলে প্যাশন ফল। এর পর থেকেই গরমের দিনে বাড়িতে মেহমান আসলেই এই ফলের শরবত পান করতে দিতেন তিনি। দু’বছর পর তিনি জানতে পারেন এটি আসলে প্যাশন ফল। তিনি জানান, গত কয়েক বছর যাবত্ গাছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ ফল ধরছে। অনেকে পাকা ফল নিতে চাইলেও তিনি দিতে পারছেন না।
তিনি আরো জানান, পাকা ফল থেকে বীজ নিয়ে চারা গজিয়ে ইতিমধ্যে তিনি এক একর জমিতে প্যাশন ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন। এই গাছটি লতা জাতীয় হওয়ায় ইতিমধ্যে এক বিঘা জমিতে স্থায়ী জাংলা দিতে হয়েছে। তিনি জানান, নতুন বাগানে এবার অনেক ফল এসেছে। ক’দিন পরই এই ফল পাকতে শুরু করবে।
তার ছেলে পঞ্চগড় ড. আবেদা হাফিজ স্কুল ও কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শাহজাহান আলী বলেন, কৃষি বিভাগ চাইলেই এই ফল থেকে বীজ করে অধিক পরিমাণে চারা করতে পারে। তিনি জানান, প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে শরবতের কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। দেশে ব্যাপকভাবে এই ফলের চাষ করা গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে।
কৃষি কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন, তাদের ধারণা ছিল কেবল পাহাড়ি অঞ্চলেই এই ফলের চাষ হয়। তাদের মতে, প্যাশন ফল একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। মাচা কিংবা বড় গাছের ডালে উঠিয়ে দিলেই কয়েক বছর ধরে এই ফল পাওয়া সম্ভব। অল্প জায়গায় কম পরিশ্রমে এই ফল চাষ করে বিপুল পরিমাণ আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »