Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলের পারানা রাজ্যসহ বিভিন্ন শহরে নতুন করে ১০ দিনের লকডাউন।

0

©নীলয় দেওয়ান জীবন/ক্রাইম টিভি বাংলা♦

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ মৃত্যু আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে।

দেশটিতে প্রথম করোনাভাইরাস বহনকারী শনাক্ত হওয়ার এক বছর পর সেখানে মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা বিষাদময় এ মাইলফলক পার হল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচী যখন এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে তখনও প্রাণঘাতী ভাইরাসটি দেশটিজুড়ে অবাধে বিস্তারলাভ করে চলেছে।

প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো যিনি লকডাউনের মতো পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে এসেছেন তিনি এখন বলছেন, কোনো করোনাভাইরাস টিকা তিনি নেবেন না।

মহামারী মোকাবেলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার জন্য কট্টর ডানপন্থি পপুলিস্ট এ প্রেসিডেন্ট ধারাবাহিকভাবে সমালোচিত হয়ে আসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যায় ব্রাজিল বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে আর এক কোটি তিন লাখ শনাক্ত রোগী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পর তৃতীয় অবস্থানে আছে।

অত্যান্ত সংক্রামক শ্বাসতন্ত্রের এ রোগটি ব্রাজিলের দুই লাখ ৫১ হাজার ৪৯৮ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায়।

করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরন, যাকে গবেষকরা আরও বেশি সংক্রামক বলে মনে করছেন, ছড়িয়ে পড়ায় ব্রাজিলের মহামারী পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্রাজিল প্রতিদিন গড়ে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যু তালিকাবদ্ধ করেছে, প্রায় ১১০০-র কাছাকাছি এ সংখ্যাটি জুলাইয়ের শেষ দিকের পূর্ববর্তী শীর্ষ অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় তহবিলে পরিচালিত ফিয়োক্রুজ বায়োমেডিকেল ইনস্টিটিউটের ক্রিস্তোভাম বারসেলোস বলেন, “কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ভাইরাসটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ না, দ্বিতীয় পর্ব। কারণ পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আমরা প্রতিদিন এক হাজারের উপরে মৃত্যু দেখছি।”

এই ইনস্টিটিউটটিই ব্রাজিলকে বরাদ্দ দেওয়া অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা তৈরি করছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপিন্সে। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বর্তমানে সারাবিশ্বে ১১ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত আর প্রাণ হারিয়েছে ২৫ লাখ ১৯ হাজারের বেশি মানুষ।

আজ বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পারানা রাজ্য সহ ব্রাজিলের কিছু কিছু রাজ্যে দশদিনের টানা লকডাউন থাকবে । এই সময় শুধু জরুরি প্রয়োজনে ফার্মাসি , পেট্রোল পাম্প ও জরুরী খাবারের দোকান খোলা থাকবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত । রাত আটটা থেকে সকাল পাঁচটা পর্যন্ত কোন প্রকার লোক চলাচল রাস্তায় করতে পারবে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »