Ultimate magazine theme for WordPress.

অন্যের স্ত্রীকে চুরি করে বিয়ে করাই যেসব দেশের রীতি।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

বিয়ে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অদ্ভুত সব রীতি-নীতি। যা অনেক ক্ষেত্রে মারা’ত্মক আকার ধারণ করে। বিয়ে নিয়ে সবারই কমবেশি স্বপ্ন থাকে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান রয়েছে; যেখানে বিয়ে মানেই নানা রকম পরীক্ষা দেওয়া।
ঠিক তেমনই অন্যের বউকে চুরি করে পালানো, এরপর তাকে বিয়ে করার বিষয়টি বড়ই অ’দ্ভুত। এমন আজব এক রীতিকে আবার উৎসব হিসেবে পালন করছে অনেক দেশ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন রীতির প্রচলন রয়েছে। যা জানলে আপনি অবাক হবেন বৈ-কি, ঘৃ’ণাও জন্মাবে তাদের ওপর। কারণ নারীকে শুধু অপহরণই নয়, বরং ধ’র্ষ’ণ করার মাধ্যমেও বিয়েতে রাজি করানো হয়।
ব্রাইড কিডন্যাপিং বা বধূ অপ’হরণ বিশ্বজুড়ে প্রাগৈতিহাসিক সময়কাল থেকেই চালু ছিল। বিশেষ করে দক্ষি’ণপূর্ব এশিয়া, মেক্সিকো, ইউরোপ এবং আমাজন জ’ঙ্গ’লের উপজাতিদের মধ্যে এ ধরনের রীতি অতীতকাল থেকেই প্রচলিত। বর্তমানে ককেশাস এবং মধ্য এশিয়ায় এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
কনে অপ’হর’ণের মাধ্যমে বিবাহের বৈ’ধতা দেওয়া হয় বিভিন্ন অঞ্চ’লে। যা যৌ’ন অপ’রাধ হিসেবে বিবেচিত। এ জাতীয় রীতি-নীতি আইনবিরোধী হলেও তা পালন করা হচ্ছে সামাজিক রীতি হিসেবে। জেনে নিন কোন দেশগুলো এমন অ’দ্ভূ’ত উৎসব পালন করে-

আফ্রিকা: আফ্রিকার ৩টি দেশে এমন উৎসব পালিত হয়। প্রায়ই কনে অপ’হর’ণের নামে সেখানে ধ’র্ষ’ণের ঘটনা ঘটে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের যাযাবর উপজাতি ওডাবে এ রীতি মেনে আসছে যুগ যু’গ ধরে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে সেখানকার পু’রু’ষরা অন্যের বউকে চুরি করে পালায়। উৎসবটি হয় মরুভূমিতে।
টানা ৭ দিন ধরে অন্যের বউকে চুরি করে পুরু’ষরা। যে পুরুষ অন্যের বউকে চুরি করবেন; তাদের স্ত্রী’রাও উৎসবে যোগ দেন। পাশাপাশি চলে খাওয়া-দাওয়া ও নাচ-গান। এ উৎসবে নিজেদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী বাছাই করেও নিতে পারেন নারীরা। এমন উৎসবে পুরু’ষ’দের অংশগ্রহণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের শারী’রিকভাবে যোগ্য প্রমাণ করা।

রুয়ান্ডা: রুয়া’ন্ডার বিভিন্ন অঞ্চলেও নববধূ-অপ’হর’ণের ঘটনা প্রচলিত। এক্ষেত্রে অ’পহরণ’কারী’রা তাদের পছন্দসই নারীকে নিজ বাড়ি থেকে বা রাস্তা থেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যায়। জো’রপূ’র্বক ধ’র্ষ’ণ করে এবং পরে ওই নারীকে বিয়ে করে। অনেক সময় কনের পরিবার ধনী হলে এমন বিয়ে হতে দেয় না। আবার কনে গরীব হলে ধ’র্ষ’কের স’ঙ্গেই বিয়ে দেওয়া হয়।
রুয়ান্ডার এ রীতি অনুসারে, অ’পহ’রণ হওয়া নারী যদি ধ’র্ষ’ণের পর গর্ভ’ধা’রণ করেন, সেক্ষেত্রে ওই নারীর কদর আরও বেড়ে যায়। তখন ঘটা করে বরের পরিবার বিবাহের অনু’ষ্ঠান করে থাকেন। এরপর অ’পহ’রণ’কারী ও তার পরিবার কনের মা-বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এমন সময় বরের পরিবার ক্ষ’তিপূ’রণ হিসেবে কনের পরিবারকে একটি গাভি, নগদ অর্থ ও দামি উপহার দিয়ে থাকে।
রুয়া’ন্ডায় কনে-অ’প’হ’রণ বিবাহের কারণে অনেক নারীই পরবর্তীতে বি’পদে পড়েন। সেখানকার মা’নবা’ধিকার কর্মী’দের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব পু’রুষ এমন বিয়ে করেন; তাদের মধ্যে এক তৃ’তী’য়াংশই স্ত্রীদের ছেড়ে দেন। এমনকি অপহ’র’ণের পর ধ’র্ষিত নারীদের গর্ভ থেকে বেশিরভাগই প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম হয়। যা সত্যিই দুঃখজনক!

মিশর: মিশরে খ্রিস্টান বিবাহিত বা অবিবাহিত সব নারীকেই ইসলামে দীক্ষিত করতে পুরু’ষরা কনে অপ’হরণ করেন। তারপর মুসলিম পুরুষরা তাদের বিয়ে করেন। এ’ক্ষেত্রে নারী’দের ‘ধ’র্ষ’ণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ সাঈদ হুসেন খলিল এল-সিসি’র সালাফিস্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এমন রীতির প্রচলন ঘটে।

ইথিওপিয়া: ইথিওপিয়ার অনেক অঞ্চলে নব’বধূ অপ’হর’ণের ঘ’টনা প্রচলিত। ২০০৩ সালে ইথিওপিয়ার সমীক্ষা অনুসারে, সেখানে প্রায় ৬৯ শতাংশ ঘটনা ঘটে। ইথিওপিয়ায় কোনো পুরুষ যদি অন্যের বউকে অ”প’হণ করতে চান, তাহলে তিনি বন্ধুদের সম’ন্বয়ে কাজটি করেন। এক্ষেত্রে তারা ঘোড়া ব্যবহার করে থাকেন।
সেখানকার এ রীতি পালন করা হয় সবার সামনেই। কোনো পুরু’ষ যদি এমন কোনো নারীকে অ’পহ’রণ করে, তবে তিনি তার নিজ বাড়িতেই নিয়ে যেতে পারবেন। যতদিন না ওই নারী গ’র্ভ’বতী হচ্ছেন; ততদিন পুরুষটি তার পরিবারের সামনেই না’রীকে ধ’র্ষ’ণ করেন। এরপর বিয়ে দেওয়া হয় তাদের। যদি ওই না’রী গর্ভব’তী না হন; তাহলে ধ’র্ষণ’কারী পুরু’ষ ওই না’কে স্ত্রীর মর্যাদা দেন না।
২০১০ এবং ২০১৩ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে ইউনিসেফ জানায়, ইথিওপিয়ার অন্তত ১০ থেকে ১৩ শতাংশ বি’বাহ এমন অপ’হ’রণের মাধ্যমে ঘটে। শুধু যে বিবাহিত নারীকেই অ’প’হরণ করা হয়, তা কিন্তু নয়। অনেক নাবালিকাকেও অ’পহরণ করে দীর্ঘদিন আ’টকে রেখে ধ’র্ষ’ণ করা হয়।
জোরপূর্বক যৌ’না’চার এবং গর্ভা’বস্থা’য় অনেক কিশোরী গুরু’তর শা’রীরিক সম’স্যায় ভু’গে থাকে। আবার অনেকে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারাও যায়। সেখানে অপ’হ’রণের শি’কার নারীদের বেশিরভাগই পরবর্তীতে এইডসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে জীবন কাটায়।

মধ্যএশিয়া: মধ্যএশিয়ায় কির’গিস্তান, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজ’বেকি’স্তানের স্বা’য়ত্তশা’সিত অঞ্চল কা’রাকালা’পাক’স্তানে কনে অপ’হর’ণের ঘট’না নিত্য ঘটে থাকে। তবে কিরগিস্তানে ২০১৩ সালে এ রীতির বি’রু’দ্ধে কঠোর পদ’ক্ষে’প নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কনে অপ’হ’রণে দো’ষীর সাজা হিসেবে ১০ বছরের কা’রাদ’ণ্ড।
কির’গিস্তা’নে কনে অ’পহ’রণ ‘আলা কচু’ নামে পরিচিত। স্ত্রী গ্র’হ’ণের একটি স্বীকৃত এবং সাধারণ উপায় এটি। ২০১৫ সালে কি’রগিস্তা’নের এক সমী’ক্ষায় উঠে আসে, সেখানকার প্রায় ১৪ শতাংশ না’রীই অপ’হর’ণের শি’কা’র হয়ে বিবা’হে আ’বদ্ধ হন। বেস’রকারি সংস্থাগুলোর গবেষণা অনুসারে, সেখানে বউ চুরির ঘটনা ৭৫-৮০ শতাংশ।
যদিও বর্তমানে এ ধর”নের কর্ম’কা’ণ্ড অনে’কটাই কমে গেছে। তবুও একেবারেই যে ঘটে না, তা কিন্তু নয়। আবার অ’বৈ’ধ এ ক’র্ম’কা’ণ্ডে অপ’হর’ণকা’রী’দের বি’রু’দ্ধে’ও খুব কম বিচার হয়।
শুধু এ কয়েকটি দেশ নয় বরং কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, দাগেস্তান, চেচনিয়া এবং ইঙ্গু’শে’টিয়াসহ আজা’রবাই’জানেও এমন ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও জর্জিয়া, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, হামং সংস্কৃ’তিতেও ব্রাইড কিড’ন্যা’পিংয়ের প্রচলন রয়েছে।

এমনকি চীন, জাপান, আমেরিকা, যুক্ত’রাষ্ট্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপের রোমা (রোমানি) সম্প্রদায়, ভূ’মধ্যসা’গরীয়, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, মাল্টা, স্লাভিক উপজাতিদের মধ্যেও বউ চু’রি’র মতো নি’কৃ’ষ্ট ঘটনা ঘটে আসছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »