Ultimate magazine theme for WordPress.

যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব হার ২০১৬-পরবর্তী সর্বোচ্চে।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর অব্যাহত ধাক্কায় গত মাসে যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশে। গত মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের (ওএনএস) প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, চতুর্থ প্রান্তিকে বেকারত্ব হার পূর্ববর্তী প্রান্তিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে এবং তা বছরওয়ারি বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। সংখ্যায় তৃতীয় প্রান্তিকের চেয়ে চতুর্থ প্রান্তিকে চাকরি প্রার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪০ হাজার। এতে ২০১৬ পরবর্তী সর্বোচ্চ বেকারত্ব হার দেখল করোনায় ধুঁকতে থাকা যুক্তরাজ্য। খবর ব্লুমবার্গ ও ইনডিপেনডেন্ট।

লকডাউনের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ধস নেমে এসেছে। শুধু সেখানেই নয়, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই করোনা মহামারীর কারণে অর্থনীতির গতি কমে গেছে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। ছোট-মাঝারি বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করা মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

করোনা মহামারী শুরুর পর থেকেই লকডাউন জারি করে যুক্তরাজ্য। করোনার বিস্তার ঠেকাতে জারি করা হয় কঠোর বিধি-নিষেধ। মহামারীর কারণে গত ৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশটি।

মহামারীর মধ্যে যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বেকারত্বের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছেই। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় গত বছরের ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার ১ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে বেতনভুক্ত কর্মীর সংখ্যা ৭ লাখ ২৬ হাজারের মতো কমে গেছে।

অবশ্য সরকারের বেতন সুবিধার আওতায় যে কয়েক লাখ কর্মী নিয়মিত বেতনাদি নিচ্ছেন, তা বেকারত্বের উপাত্তে আসেনি। কিন্তু সরকারি সহায়তা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বেকারত্ব হার আরো বেড়ে যাবে।

ওএনএসের উপাত্তে আরো দেখা গেছে, মহামারীতে চাকরি হারানোর তিন-পঞ্চমাংশেরই বয়স ২৫ বছরের নিচে।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলছেন, আগামী চার মাস অর্থনীতির গতি বৃদ্ধিতে কয়েকশ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া জুনের শেষ নাগাদ ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল করার পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

মহামারীর কারণে সাময়িক ছাঁটাইয়ের শিকার হওয়া প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজারের মতো কর্মী গত ডিসেম্বরে বেতন পাননি। মাসওয়ারি তা বাড়লেও গত এপ্রিলের ৬ লাখ ৫৮ হাজারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কম।

আগামী ৩ মার্চের বাজেটে পরবর্তী সপ্তাহের সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করা হবে বলে জানান ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি কর্মসংস্থান হারানোর ঘটনাই একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি। এজন্য পুরো মহামারীকালে আমাদের অগ্রাধিকার ছিল চাকরি ও জীবিকা সুরক্ষা দেয়া।

আগামী ১২ এপ্রিলের আগে অনাবশ্যক ব্যবসা-বাণিজ্য ফের চালু করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী জনসনের চার ধাপের কৌশল অনুযায়ী, কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য কমপক্ষে ২১ জুন পর্যন্ত বন্ধই থাকছে।

ওএনএসের উপাত্তে আরো দেখা গেছে, জানুয়ারি অব্যবহিতপূর্ব তিন মাসে কর্ম খালি ছিল ৫ লাখ ৯৯ হাজার। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ২ লাখ ১১ হাজার কম।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ লাখ ২৬ হাজার ১৫০ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৫৭ জন। এরই মধ্যে দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৫ লাখ ৪৮ হাজার ৬২১ জন। সেখানে বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৭২ জন। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ২ হাজার ৪৬৯ জন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »