Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলের ফল জাবাটিকা এখন বাংলাদেশে

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক ♦

ফলের নাম জাবাটিকা। এসেছে ব্রাজিল থেকে। যদিও এখন আর্জেন্টিনা, পেরু, বলিভিয়াতেও পাওয়া যায়। সর্বশেষ এখন বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছে এই ফলটি। যদিও এটিকে বিদেশী লিচু বলা যেতে পারে। তবে দেশী লিচুর অবয়বে অনেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। দেখতে মার্বেলের মতো হলেও গাছের ডালপালা ভেঙ্গে উৎপাদন হয়ে থাকে। ডালে ডালে লটকে থাকে এই মার্বেলের মতো বিদেশী লিচু।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচারে পাওয়া যায় জাবাটিকা। তবে কীভাবে এই ফার্মে জাবাটিকা এলো তা কেউ বলতে পারে না।

প্রথম দিকে তিনটি গাছ থাকলেও এখন এসে ঠেকছে একটিতে। ১৯৯৮ সালের বন্যা গ্রাস করে কল্যাণপুর খামারকে। এই সময়ে দুটি গাছ মারা যায়। বর্তমানে যেটি রয়েছে তা বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় জাবাটিকার গাছ বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে জাবাটিকা সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দিতে কল্যাণপুর হর্টিকালচার চারা করা শুরু করেছে। খুবই কম মূল্যে এই চারা বিক্রি করা হয় এই ফার্ম থেকে।

ফলটির পুষ্টিগুণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই ফার্মের হর্টিকালচারিস্ট ও কৃষি বিজ্ঞানী ড. সাইফুর রহমান বলেন, জাবাটিকার পুষ্টিগুণ খুবই বেশি। এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যকর উপাদান প্রাপ্তিতে পৃথিবীর উৎকৃষ্ট ফলের একটি বললেও বেশি বলা হবে না।

প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, প্লোটিন, আয়রন, ফসফরাস, ফলিক এসিড, পটাশিয়াম, ভিটামিন ‘ই’ ও ‘বি’ রয়েছে। এ ছাড়াও ভিটামিন ‘সি’-এ ভর্তি। রয়েছে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এ্যান্টি ক্যানসার প্রতিরোধ উপাদান। এসব উপাদানে ভর্তি ফল খুবই কম আছে বাংলাদেশে। ড. সাইফুর রহমানের মতে একটি জাবাটিকা ফল মানুষ ভক্ষণ করলে তার আর অন্য ফল টাচ করে দেখার সুযোগ নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশের একাধিক স্থানে জাবাটিকার আবাদ হচ্ছে। জয়পুরহাট, জামালগঞ্জ ও রংপুরের বুড়িহাটি হর্টিকালচার সেন্টারে জাবাটিকার গাছ রয়েছে। আগামী এক যুগের মধ্যে বাংলাদেশের অধিকাংশ হর্টিকালচারে জাবাটিকা পাওয়া যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন কৃষি বিজ্ঞানী ড. সাইফুর রহমান।

তিনি আরও জানান, জাবাটিকা ভক্ষণকারী মানুষের শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার জুড়ি নেই। এ ছাড়াও শরীরের স্থূলতা ও ওজন কমাতেও সাহায্য করে থাকে ফলটি। গর্ভবতী মায়েরাও এটি খেতে পারেন। তাদের জন্য খুবই উপকারী। জাবাটিকা তারুণ্য ধরে রাখতে খুবই উপকারী। ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে শর্করা কমাতেও এর জুড়ি নেই। দেশে ফলটির আবাদ এই মুহূর্তে উল্লেখযোগ্যভাবে ছড়িয়ে না পড়লেও এখন এর উপকারিতা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে।

গাছটি বাড়ে খুব ধীরে ধীরে। ১০-১২ বছরের আগে ফল আসে না। তাই কৃষকদের আগ্রহ খুব কম জাবাটিকা চাষে। তাছাড়া জাবাটিকা বিষয়ে খুব কম মানুষ জানে। প্রচার না থাকায় প্রসার হচ্ছে না। অন্য একজন গবেষকের মতে, জাবাটিকার জুস ও জেলি খুবই জনপ্রিয়।

জাবাটিকার ফুল আসে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এক মাসের মধ্যেই ফুল পরিপক্ব হলে ফল আসে। হর্টিকালচার সেন্টার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জাবাটিকা সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দিতে প্রচুর চারা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই জাবাটিকার চারা পাওয়া যাবে।

-ডি.এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »