Ultimate magazine theme for WordPress.

মূত্র নালীতে সংক্রমণের কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি |

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

ইউটিআই (ইউরিনারি ট্রাক ইনফেকশন) বা মূত্র নালীর সংক্রমণ হলো একটি সাধারণ সংক্রমণ। মূত্র নালীর সংক্রমণের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গ গুলির মধ্যে রয়েছে মূত্রনালী, কিডনি, এবং জরায়ু। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে জানা যায় ৫০ – ৬০ শতাংশ মহিলাদের ক্ষেত্রেই তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হয়। এই সংক্রমণ পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রেই বেশি হয় বলে জানা গিয়েছে।

এই প্রবন্ধ থেকে আমরা মূত্রনালীর সংক্রমণ বিষয়ে যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবো।

মূত্র নালীতে সংক্রমণের কারণ –

ই কোলি নামক ব্যাক্টেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করে মূত্রনালীতে সংক্রমণ ঘটার সম্ভবনা সৃষ্টি করে। কখনও কখনও বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথেও এই সংক্রমণ ঘটার প্রবণতা দেখা যায়। তবে লিঙ্গভেদে মূত্র নালীর সংক্রমণের কারণ ভিন্ন হয়ে থাকে। এখানে কিছু সাধারণ কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

  • মেনোপজের সময় মূত্রনালীতে সংক্রমণ হতে পারে।
  • গর্ভনিরোধকের ব্যবহার প্রস্রাবের সংক্রমণের সম্ভবনা বৃদ্ধি করে।
  • অ্যাপেন্ডিসাইটিস অথবা শুক্রাশয় বা প্রস্টেট বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেও মূত্রনালীর সংক্রমণের সম্ভবনা দেখতে পাওয়া যায়।
  • মধুমেহ বা ডায়বিটিস আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও মূত্রনালীতে সংক্রমণ ঘটতে দেখা যায়।
  • প্রস্রাব ক্যাথিটারের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেও প্রস্রাবের সংক্রমণ ঘটতে পারে।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ একবার হয়ে থাকলে তা পুনরাবৃত্তি সম্ভবনা অনেকাংশেই থেকে যায়।
  • মূত্র নালীর সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গ কী –

    মূত্র নালীতে সংক্রমণের কারণ লিঙ্গ ভেদে আলাদা হলেও উপসর্গ বা লক্ষণ পুরুষ এবং মহিলা দুজনের ক্ষেত্রেই এক হয়ে থাকে। এবার দেখে নেওয়া যাক মূত্র নালীতে সংক্রমণের উপসর্গ গুলি সম্বদ্ধে।

    • প্রস্রাব করার সময় জ্বালা ভাব বা ব্যথা সংক্রমণের একটি লক্ষণ বলে মনে করা হয়।
    • একবার প্রস্রাব করার অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্রতার সাথে প্রস্রাবের বেগ আসাও সংক্রমণের একটি লক্ষণ হতে পারে।
    • তলপেট বা পেলভিসের ওপর চাপ অনুভবও মূত্র নালীর সংক্রমণের লক্ষণ বলে মনে করা হয়।
    • প্রস্রাব থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং স্বাভাবিকের তুলনায় প্রস্রাবের রঙ পৃথক হলে মূত্র নালীর সংক্রমণ হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।
    • ক্লান্তি এবং কোনো চোট আঘাত ছাড়াই কোমরে ব্যথা হলে কিডনির সংক্রমণ হতে পারে।

    মূত্র নালীর সংক্রমণ প্রতিকারে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি –

    মূত্র নালীর সংক্রমণ প্রতিকারে ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করে করা চিকিৎসা পদ্ধতি গুলি হলো নিম্নরূপ –

    ১। ক্র্যান বেরীর জুস বা রস

  • সামগ্রী –

    ১০০ গ্রাম ক্র্যান বেরী
    ১ কাপ জল
    ১ চামচ মধু

  • ব্যবহার পদ্ধতি –
    • ক্র্যানবেরী গুলিকে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
    • একটা পাত্রে ১ কাপ জল গরম করে নিতে হবে।
    • এবার ঐ গরম জলের পাত্রে ধুয়ে নেওয়া ক্র্যান বেরী গুলিকে দিয়ে তা মাঝারি তাপে ১০ – ১৫ মিনিট ধরে ফোটাতে হবে।
    • ভালো ভাবে ফোটানো হয়ে গেলে এরপর ক্র্যান বেরী গুলিকে একটি ছাঁকনির মধ্যে ঢেলে সেটা চামচ করে চেপে চেপে রস বের করে নিতে হবে।
    • রস বের করে নেওয়ার পর সেটা ঠাণ্ডা হয়ে গেলে একটা গ্লাসে ঢেলে তাতে মধু মিশিয়ে পান করা যাবে।

    কীভাবে কাজ করে –  

    নিয়মিত ভাবে ক্র্যান বেরীর রস পান করলে অনায়াসেই মূত্র নালীর সংক্রমণের উপশম হবে। এতে উপস্থিত প্লেবোনেইড মূত্র নালীর সংক্রমন সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিহত করে।

    ২। জল –

    অল্প পরিমান জল পান করলেও মূত্র নালীর সংক্রমণ হতে পারে। এই সমস্যার থেকে রেহাই পেতে হলে প্রতি ঘন্টায় কম করে আধ গ্লাস জল পান করা প্রয়োজন। ইচ্ছে হলে পানীয় জলের সাথে ১ চিমটে লবণ মিশিয়েও পান করা যেতে পারে। এরফলে শরীরে লবণের ঘাটতিও পূরণ হবে এবং সংক্রমণ সৃষ্টি কারী ব্যাক্টেরিয়ার জন্ম রোধ হবে।

    কীভাবে কাজ করে –
    বেশি পরিমাণ জল পান করলে বার বার প্রস্রাব হবে এবং এরফলে প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্র নালীতে সংক্রমণ সৃষ্টি কারী ব্যাক্টেরিয়াও শরীর থেকে নির্গত হয়ে যাবে।

     ৩। আপেল সিডার ভিনিগার –

    সামগ্রী –

    ২ চামচ আপেল সিডার ভিনিগার
    ১ চামচ মধু
    ১/২ পাতি লেবুর রস
    ১ কাপ জল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • ১ কাপ জলের সাথে আপেল সিডার ভিনিগার, পাতি লেবুর রস এবং মধু একসাথে মিশিয়ে পান করতে হবে।
    • মূত্র নালীর সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রতিদিন ৩ বার করে এই পানীয় পান করলে আরাম পাওয়া যায়।

    কীভাবে কাজ করে –

    আপেল সিডার ভিনিগারে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম যা মূত্র নালীতে ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত সংক্রমণের ব্যাপ্তি প্রতিহত করে। এটি প্রাকৃতিক ব্যাক্টেরিয়া নাশক হিসেবে কাজ করে। যা ব্যাক্টেরিয়া নাশ করে।

    ৪। বেকিং সোডা –

    সামগ্রী –

    ১ চামচ বেকিং সোডা
    ১ গ্লাস জল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    উপরিক্তো উপাদান গুলিকে একসাথে মিশিয়ে দিনে ৪ বার পান করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    বেকিং সোডা প্রস্রাবে অ্যাসিডের মাত্রা কম করে ব্যথা উপশম করে। একইসাথে বারবার প্রস্রাব করার প্রবণতা এবং রাতে তীব্র ভাবে বেশি প্রস্রাবের সম্ভবনাও হ্রাস করে।

    ৫। টি থ্রি অয়েল –

    সামগ্রী –

    ১০ ফোঁটা টি থ্রি অয়েল
    গরম জল পূর্ণ বাথ টব
    ১/৪ কাপ চন্দন তেল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • বাথটবে কয়েক ফোঁটা টি থ্রি অয়েল মিশিয়ে তাতে কিছু সময় বসে থাকতে হবে।
    • এরপর চন্দন তেলের সাথে টি থ্রি অয়েল মিশিয়ে মূত্রাশয় সংলগ্ন অঞ্চলে মালিশ করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    ব্যাক্টেরিয়া নাশক গুণ সমৃদ্ধ টি থ্রি অয়েল, সহজেই ব্যাক্টেরিয়া প্রতিহত করে। তাই এই তেল ব্যবহার করে প্রতিদিন মালিশ করলে সহজেই ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ থেকে আরাম পাওয়া যাবে।

    ৬। ব্লু বেরী জুস –

    সামগ্রী –

    ১০০ গ্রাম ব্লু বেরী
    ১/২ পাতি লেবুর রস
    ১ কাপ জল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • ব্লু বেরী প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে তারপর মিক্সারে সেটা ভালো করে পিসে নিতে হবে।
    • মিক্সারে পেষার সময়ে তাতে ১ কাপ জল মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
    • ভালো ভাবে পেষা হয়ে হলে গেলে সেটা ছাঁকনির সাথে চামচ দিয়ে চেপে চেপে ছেঁকে নিতে হবে।
    • ছাঁকা হয়ে গেলে তা গ্লাসে পাতি লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
    • প্রতিদিন সকালে ইচ্ছে মতন দানা জাতীয় শষ্যের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

    কীভাবে কাজ করে –

    ব্যাক্টেরিয়া নাশক বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ ব্লু বেরী সহজেই ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ করে। একইসাথে এতে উপস্থিত ভিটামিন সি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ব্যাক্টেরিয়া অপসারণ করে। এছাড়াও এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ব্যাক্টেরিয়া নাশ করে। প্রতিদিন ২ বার করে ব্লু বেরী জুস পান করা যেতে পারে।

    ৭। ভিটামিন সি –

    সামগ্রী –

    ভিটামিন সি সমন্বিত বিবিধ ফল এবং আনাজ যেমন মুসাম্বী, কমলালেবু, বেল প্পার বা ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, শাক এবং টমেটো ইত্যাদি।

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    খাদ্য তালিকা ভিটামিন সি সমন্বিত খাদ্য যুক্ত করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    ভিটামিন সি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ব্যাক্টেরিয়া অপসারণ করে দেয়। একইসাথে এটা প্রস্রাবকে অ্যাসিড মুক্ত করে তাতে ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা হ্রাস করে। মূত্র নালীর সংক্রমণ প্রতিহত করতে হলে প্রতি ঘন্টায় ২ গ্রাম ভিটামিন সি সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    ৮। আনারস –

    সামগ্রী –

    ১ কাপ আনারসের টুকরো

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • টুকরো করা আনারস গুলিকে মিক্সিতে ভরে ভালো করে পিষে নিতে হবে।
    • এরপর ঐ মিশ্রণ টিকে ছাঁকনির সাহায্যে চামচ দ্বারা চেপে চেপে রস বের করে নিতে হবে।
    • আনারসের রস গ্লাসে ভরে তা পান করতে হবে।
    • ইচ্ছে করলে টুকরো করা আনারস গুলিকেও খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

    কীভাবে কাজ করে –

    আনারসে উপস্থিত ব্রোমলেন এনজাইম এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি বা প্রদাহ নাশক বৈশিষ্ট্য কে অধিক সক্রিয় করে তোলে। যা মূত্র নালীর সংক্রমণের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

    ৯। গ্রীন টি –

    সামগ্রী –

    ১ কাপ গরম জল
    ১ টা গ্রীন টি ব্যাগ
    ১ চামচ মধু

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • ১ কাপ গরম জলে অল্প সময়ের জন্য গ্রীন টি ব্যাগ ডুবিয়ে রাখতে হবে।
    • এরপর টি ব্যাগ টিকে কাপ থেকে বের করে নিতে হবে।
    • এবার এই গরম চায়ের সাথে মধু মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।

    কীভাবে কাজ করে –

    বিভিন্ন গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে যে গ্রীন টি অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়। এই কারণে ইহা ব্যাক্টেরিয়া নাশে কার্যকরী বলে মনে করা হয়। গ্রীন টি শুধু মাত্র ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ করে তাই হয় একইসাথে ব্যাক্টেরিয়ার জন্মের সম্ভবনাওও নাশ করে।

    ১০। পাতি লেবুর রস –

    সামগ্রী –

    ১ কাপ অল্প গরম জল
    ১/২ পাতি লেবুর রস

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    ১ কাপ অল্প গরম জলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –  

    পাতিলেবুতে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল বা ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধক গুণ যা ব্যাক্টেরিয়ার জন্মকে গোড়া থেকে প্রতিরোধ করে। এই কারণে পাতিলেবু মূত্র নালীর সংক্রমণের চিকিৎসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    ১১। নারকেল তেল –

    সামগ্রী –

    ২ – ৩ চামচ নারকেল তেল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ২ -৩ চামচ নারকেল তেল যুক্ত করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    নারকেল তেল ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ হয়। একটি বৈজ্ঞাণিক গবেষণা অনুসারে জানা যায় যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ নাশক বৈশিষ্ট্য সমন্বিত হয় যা মূত্র নালীর সংক্রমণের চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

    ১২। রসুন –

    সামগ্রী –

    ২ কোয়া রসুন
    ১/২ চামচ অলিভ অয়েল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • রসুনের খোসা ছাড়িয়ে সেটা পিষে নিতে হবে।
    • এরপর রসুনে অলিভ অয়েল মিশিয়ে তা সেবন করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    অ্যাণ্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি গুণ সমৃদ্ধ রসুন মূত্র নালীর সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট প্রদাহ এবং ফোলা ভাব কম করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে রসুন সেবনের ফলে বার বার প্রস্রাবের সম্ভবনাও অনেকটাই হ্রাস পায়। একইসাথে রসুন মূত্র নালীর সংক্রমণের প্রবণতাও কমিয়ে দেয়।

    ১৩। দই বা ইওগার্ট –

    সামগ্রী –

    ১ কাপ দই

     ব্যবহার পদ্ধতি –

    প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দইয়ের অন্তর্ভূক্তি করা যায়। যা আহারের পর গ্রহণ করা যেতে পারে।

    কীভাবে কাজ করে –

    দই প্রো বায়োটিক তত্ত্ব যা প্রস্রাবের সংক্রমণের সম্ভবনা দূর করে।

    ১৪। পার্সলে চা –

    সামগ্রী –

    পার্সলে চা এক গুচ্ছ
    ৪ কাপ জল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • পার্সলে চায়ের পাআ গুলি ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে।
    • এবার জল ফুটতে শুরু করলে এতে কেটে রাখা চা পাতা গুলিকে মেশাতে হবে।
    • এভাবে ১৫ মিনিট সময় ধরে চা পাতা সহ জল ফোটাতে হবে।
    • নির্দিষ্ট সময় পর একটা কাপে চা পাতা সহ জল ছেঁকে নিতে হবে।
    • মূত্র নালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য দৈনিক ২ বার করে এই চা পান করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    পার্সলে চায়ে  মূত্র বৃদ্ধি কারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা প্রস্রাবের সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়াকে মূত্রের মাধ্যমে অপসারিত করে। একইসাথে এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারী বৈশিষ্ট্য মূত্র নালীর সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট জ্বালা যন্ত্রনা প্রতিরোধ করে।

    ১৫। গোল্ডেন সীল –

    সামগ্রী –

    গোল্ডেন সীল ক্যাপ্সুল বা রস

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    যে কোনো ঔষধালয়ে এই ক্যাপ্সুল পাওয়া যায়। তবে এটা ব্যবহারের পূর্বে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহ্ণ করা জরুরী।

    কীভাবে কাজ করে –

    গোল্ডেন সীল আমাদের শরীরে একেবারে ক্র্যান বেরীর মতন কাজ করে। এটার ব্যাক্টেরিয়া নাশক বৈশিষ্ট্য এবং বেরবিরিন নামক রাসয়নিক, মূত্র নালীর আভ্যন্তরীন গাত্রে ব্যাক্টেরিয়ার আটকে থাকা প্রতিহত করে।

    ১৬। উভা উরসী –

    সামগ্রী –

    উভা উরসীর শুকনো পাতা

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • শুকনো উভা উরসীর পাতা সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
    • পরদিন সকালে চা বানানোর সময় তা ঐ চায়ে মিশিয়ে পান করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    উভা উরসি একটি ঔষধি উদ্ভিদ যা প্রাচীন কাল থেকে মূত্রনালীর সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য একটি প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রদাহ নাশক বৈশিষ্ট্য যা সহজেই ব্যাক্টেরিয়া নাশ করে।

    ১৭। ডী’ম্যানোস –

    এটা এক ধরণের চিনি যা ক্র্যান বেরীর মতন ই কোলি (প্রস্রাবের সংক্রমণ ছড়ানো ব্যাক্টেরিয়া) তে আটকে থাকে এবং প্রস্রবারে মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়া অপসারণ করে। এটি প্রস্রাবের সংক্রমণের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অ্যান্টি বায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এটা ক্যাপ্সুল হিসেবে যে কোনো ঔষধালয় থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতন গ্রহণ করতে পারেন।

     ১৮। পিকো সিলভার সল্যিউশান –

    পিকো সিলভার সল্যিউশান একটা ওষুধ যা ৯৯ শতাংশ খাঁটি রৌপ্য উপাদান দিয়ে গঠিত। যা ঐ একই নামে বাজারে পাওয়া যায়। এছাড়াও অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এই ওষুধ ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ করে সংক্রমণের সম্ভবনা হ্রাস করে।

    ১৯। আমলকি –

    সামগ্রী –

    ১০০গ্রাম আমলকি
    ১ চিমটে কালো লবণ

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • আমলকি ছোটো টুকরো করে মিক্সিতে বেটে নিতে হবে।
    • এরপর ঐ বাটা আমলকি ছাঁকনিতে ঢেলে তা চামচের সাহায্যে চেপে চেপে রস বের করে নিতে হবে।
    • ঐ রস একটা গ্লাসে ঢেলে তাতে লবণ মিশিয়ে পান করতে হবে।

    কীভাবে কাজ করে –

    আমলকিতে উপস্থিত ভিটামিন সি শরীরের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। ভিটামিন সি তে উপস্থিত এনজাইম সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া প্রস্রাবের সংকরমণের ফলে মূত্রাশয়ের কোষের ক্ষতি হওয়ার প্রবণতা অনেকাংশেই রোধ করে।

    ২০।  লবঙ্গ তেল –

    সামগ্রী –

    ১ চা চামচ ভর্তি ছোট লবঙ্গ
    ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
    ৫ ফোঁটা অরিগ্যানো অয়েল
    ১০ ফোঁটা এসেন্সিয়াল অয়েল

    ব্যবহার পদ্ধতি –

    • খল নুড়ির সাহায্যে লবঙ্গ গুলিকে একদম মিঁহি গুঁড়ো করে নিতে হবে।
    • এরপর এই গুঁড়ো করে রাখা লবঙ্গতে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে।
    • এবার এই মিশ্রনটিকে বোতলে ভরে তাতে অরিগ্যানো অয়েল এবং এসেন্সিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে।
    • রাতে শুতে যাওয়ার আগে এই তেল পায়ের পাতার নিচের অংশে মালিশ করে নিতে হবে।
    • সব শেষে পায়ে মোজা পড়িয়ে রাখতে পারেন।

    কীভাবে কাজ করে –

    লবঙ্গ তেল অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল, অ্যানালজেসিক, অ্যান্টি ফাঙ্গাল, অ্যান্টি ভাইরাল বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়। এটা প্রস্রাবের সংক্রমণের সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও প্রস্রাব সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট প্রদাহ এবং ফোলা আব শিথিল করে।

    মূত্র নালীর সংক্রমণের ভয়াভয়তা এবং জটিলতা –

    মূত্র নালীর সংক্রমণের ভয়াভয়তা এবং জটিলতা গুলি হলো যথাক্রমে –

    • প্রস্রাবের সংক্রমণের ফলে ভবিষ্যতে সেপসিস (মারাত্মক রক্ত সংক্রমণ) হতে পারে। এই রোগ বয়স নির্বিশেষে সকল মানুষেরই হতে পারে। যেসব মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা বেশি হয়ে থাকে। যেমন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশি হয়।
    • কিডনির সংক্রমণ হয়।
    • কিডনির কার্যকারিতা সম্পূর্ণ রূপে নষ্ট হয়ে যায়!
    • মূত্র নালীর সংক্রমণ প্রতিহত করার উপায় –

      মূত্র নালীর সংক্রমন প্রতিহত করা উপায় গুলি হলো নিম্নরূপ –

      • প্রচুর তরল বিশেষত জল পান করতে হবে। এতে করে প্রস্রাবের সাথে সংক্রমণ সৃষ্টি কারী ব্যাক্টেরিয়া ও অপসারিত হবে।
      • কখনও প্রস্রাব আটকে রাখা উচিৎ নয়।
      • মেয়েরা এবং প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলাদের সর্বদা মলদ্বার এবং যোনী সংলগ্ন অঞ্চল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা দরকার। এতে করে ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের সম্ভবনা হ্রাস পায়।
      • শারীরিক সম্পর্ক বা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পরপরই যদি প্রস্রাব করার প্রয়োজন হয় তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো বলে মনে করা হয়। কারণ যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সময় সঙ্গীর দেহ থেকে যদি ব্যাক্টেরিয়া সক্রমণের সম্ভবনা থাকে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে সহজেই অপসারিত হয়ে যেতে পারবে।
      • কিছু মহিলা গর্ভ নিরোধক হিসেবে ডায়াফ্রাম বা স্পার্মিসাইড ব্যবহার করেন। এগুলি কখনও ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের কারণ হয়ে ওঠে। এছাড়াও আনলুব্রিকেটেড নিরোধ ব্যবহার করলে মূত্রাশয়ে জ্বালা ভাব এবং সংক্রমণের সম্ভবনাও বৃদ্ধি পায়।
      • সুতির এবং ঢিলেঢালা অন্তর্বাস ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের পক্ষে আরামদায়ক। কারণ চাপা এবং নাইলনের অন্তর্বাস যৌনাঙ্গে ঘামের কারণ হয় যা ব্যাক্টেরিয়ার প্রজনন ঘটায়।
      • যৌনাঙ্গে কোনো রাসয়নিক পদার্থ ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

      মূত্র নালীর সংক্রমন একটি অতি পরিচিত শারীরিক সমস্যা। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কখনও কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিৎ নয়। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনের আপনার প্রস্রাবের রঙ যদি ভিন্ন রকম হয়ে থাকে তাহলে তা অবহেলা না করে অবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার। প্রস্রাবের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি নজর দেওয়া আবশ্যিক। সামাণ্য সতর্কতাই এই শারীরিক সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।

      প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী –

      মূত্র নালীর সংক্রমণ কতটা কমন?

      সারা বিশ্বে ৫০ – ৬০ শতাংশ মহিলাদের মূত্র নালীর সংক্রমণ হয়ে থাকে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে রক্তল্পতার পরেই যদি কোনো অসুখের সম্ভবনা থেকে তাহলে সেটা হলো মূত্র নালীর সংক্রমণ। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম থাকে।

      মূত্র নালীর সংক্রমণ হলে কোন কোন খাদ্য বর্জন করা উচিৎ?

      মূত্র নালীর সংক্রমণ সৃষ্টি কারী ব্যাক্টেরিয়া শর্করারর কারণে জন্মায় এবং যার ফলে মধুমেহ রোগের সৃষ্টি হয়। তাই এমন খাদ্য গ্রহণ করা অনুচিত যা গ্রহণের ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। একইসাথে কার্বোনেটেড পানীয় থেকেও সতর্ক থাকা উচিৎ।

      মূত্র নালীর সংক্রমণ কখনও কিডনি সংক্রমণে পরিবর্তিত হয়?

      যখন প্রস্রাবের সংকরমণের ফলে ই – কোলি ব্যাক্টেরিয়া কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন কিডনির সংক্রমণ দেখা যায়। সময় মতন প্রস্রাবের সংক্রমণের চিকিৎসা করা না হলে সেটা কিডনির সংক্রমণে পরিণত হয়ে যায়।কিডনির সংক্রমণে মধুমেহ রোগ খুবই সাধারণ বিষয়।

      মূত্র নালীর সংক্রমণ সম্পূর্ণ নিরাময় হতে কত সময় লাগে?

      প্রস্রাবের সংক্রমণের নিরাময়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টিব্যায়োটিক্স গ্রহণের পরবর্তীতে মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩ দিন এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৭ – ১৪ দিন সময় লাগে। যদি মধুমেহ আক্রান্ত কোনো গর্ভবতী মহিলা প্রস্রাবের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে ওষুধ সেবনের পরবর্তীতে নিরাময় হতে ৭ – ১৪ দিন সময় লাগে।

      আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস পরিধান করলে কী প্রস্রাবের সংক্রমণ হতে পারে?

      আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস পরিধান করলে আপনার গোপন অঙ্গে আর্দ্রতার সৃষ্টি হয়, যা ব্যাক্টেরিয়ার বেড়ে ওঠার জন্য একদম আদর্শ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সব সময় সুতির অন্তর্বাস পরিধান করা স্বাস্থ্য সম্মত অভ্যাস বলে মনে করা হয়।

      কার্বোণেটেড পানীয় বা সোডা পান করার ফলে কী মূত্র নালীর সংক্রমণ ঘটতে পারে?

      হ্যাঁ এমনটা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বেশিরভাগ সোডায় চনি, ক্যাফাইন, বা কৃত্রিম সুইটনার দেওয়া থাকে। এবং এই পানীয় মূত্র নালীতে জ্বালা ভাব সৃষ্টি করে। তাই সোডা না পান করাই বাঞ্ছনীয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »