Ultimate magazine theme for WordPress.

উচ্চবিত্তদের আকর্ষণে এগিয়ে ‘সেফ হ্যাভেন’ দুবাই

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

উচ্চ বিত্তশালীরা সবসময়ই তাদের সম্পদের সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এজন্য তারা সেসব গন্তব্যের খোঁজে থাকেন, যেখানে বিনিয়োগ করাটা তুলনামূলক বেশি নিরাপদ হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ধীরে ধীরে সেই ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে অবস্থান পোক্ত করছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটিতে সম্পদশালীদের আনাগোনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে প্রায় ৩৫ হাজার উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ইউএইতে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে দেশটিতে ব্যক্তিশ্রেণীর অধীনে রয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

ইউএইর এ ব্যক্তিগত সম্পদের বড় একটি অংশ রয়েছে দুবাইয়ে। নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুবাইয়ে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৫২ হাজারের বেশি। মাল্টিমিলিয়নেয়ারের (যাদের কাছে অন্তত ১ কোটি ডলারের নিট সম্পদ রয়েছে) সংখ্যা ২ হাজার ৪৩০। আর সেখানে বিলিয়নেয়ার রয়েছেন ১০ জন। সব মিলিয়ে দুবাইয়ে বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে দুবাই বিত্তবানদের কাছে নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে কতটা গুরুত্ববহ হয়ে উঠছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে মধ্যপ্রাচ্যে বেসরকারি খাতের অধীনে থাকা মোট সম্পদমূল্য ছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার। তার বড় একটি অংশই রয়েছে দুবাইয়ে। নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের তথ্য অনুসারে, দুবাই হলো বর্তমানে বিশ্বের ৩০তম শীর্ষ সম্পদশালী শহর।

ইউএইর মোট জ্বালানি তেলের রিজার্ভের বেশির ভাগই রয়েছে আবুধাবিতে। তবে দুবাইয়ের তুলনায় ইউএইর রাজধানী শহরটিতে বেসরকারি খাতে সম্পদ রয়েছে বেশ খানিকটা কম—প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ১৮ হাজার ৪০০ মিলিয়নেয়ার বসবাসের জন্য আবুধাবিকে বেছে নিয়েছেন। সেখানে মাল্টিমিলিয়নেয়ার রয়েছেন ৮৭০ জন, আর বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৩।

ইউএই যে ধীরে ধীরে সম্পদশালীদের পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক সিটিগ্রুপের একটি ঘোষণায় আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সপ্তাহ কয়েক আগে সিটি জানায়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইউএইতে তাদের ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর বিত্তবান গ্রাহকের সংখ্যা চার গুণে উন্নীত করতে চায় সিটিব্যাংক ইউএই। এ লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি তাদের গ্রাহক-সম্পর্ক ব্যবস্থাপকের সংখ্যাও বাড়ানোর চিন্তা করছে।

গত দুই দশকে যে পরিমাণ ধনকুবের ইউএইতে পাড়ি জমিয়েছেন, তার বড় একটি অংশ গিয়েছেন ভারত, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে। ইউএইর ‘সেফ হ্যাভেন’ মর্যাদার পাশাপাশি সেখানকার চমত্কার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, নিম্ন করহার ও মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে।

গত মাসে নিজেদের জাতীয়তা আইনে সংশোধনী এনেছে ইউএই। আরো বেশিসংখ্যক মেধাবী বিদেশী যেন দেশটির উন্নয়ন যাত্রায় অবদান রাখতে পারেন, মূলত সে কারণেই এ উদ্যোগ নিয়েছে তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এ পদক্ষেপের ফলে সম্পদশালীদের ইউএইতে পাড়ি জমানো আরো বেড়ে যাবে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির আওতাধীন বিদেশী ব্যক্তিরা এখন ইউএইর নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ পাবেন। এসব ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে—বিনিয়োগকারী, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী ও সৃজনশীল দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি (যেমন—বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী)।

নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে বেসরকারি খাতে সম্পদ রয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের। দোহায় এ সম্পদের পরিমাণ ১২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, আর শারজায় ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার। পুরো সৌদি আরবে বেসরকারি খাতে মোট সম্পদ রয়েছে ৫৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার। দেশটিতে মোট বিলিয়নেয়ার রয়েছেন আটজন, যার মধ্যে তিনজনের বসবাস রিয়াদে।

সম্প্রতি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নে নজর দেয়া ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে বিত্তশালীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৩০ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ।

নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের প্রতিবেদন বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মাথাপিছু সম্পদ সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইউএইতে—৮৯ হাজার ডলার। কাতার ও সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৭১ হাজার ৩০০ ও ১৫ হাজার ৮০০ ডলার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »