Ultimate magazine theme for WordPress.

ভালোবাসা দিবসে চকলেটের প্রচলন যেভাবে এলো

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা ফিচার ডেস্ক♦

প্রিয়জনকে আমরা সবাই কমবেশি চকলেট উপহার দিয়ে থাকি। শুধু বড়দেরকে নয় ছোটদেরকেও তো ভালোবেসে চকলেট উপহার দিতে হয়। তবে চকলেটের সঙ্গে ভালোবাসার মেলবন্ধন হলো কীভাবে তা হয়ত অনেকেরই জানা নেই।

একসময় ধনী পুরুষেরাই শুধু চকলেট খাওয়ার সুযোগ পেতেন। সাধারণ মানুষেরা চকলেটের স্বাদ কেমন তা জানত না। অবশেষে পুরুষের চকলেট এলো নারী হাতে। শুরু হলো চকলেটের ব্যবহার। বাড়ল চকলেটের উৎপাদন।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে মধ্যযুগে ভালোবাসা দিবসের অংশ হিসেবে ছিল রোমান্টিক প্রেমপত্র। ‘দ্য ক্যানটারবেরি টেলস’ এর জন্য কবি জিওফ্রে চসারকে ১৩৮৫ সালে প্রথম ভ্যালেন্টাইনের কবিতা লেখার কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

চকলেট ও ভালোবাসা দিবসের মধ্যকার যোগসূত্রের গোড়াপত্তন ঘটে ২০০ বছর আগে। চকলেটের মূল উপাদান হলো কোকো। প্রথম দিকে অবশ্য চকলেটে মিষ্টিভাব ছিল না। মেসোআমেরিকরা চকো বিন, মরিচ ও ঝাল মশলা দিয়ে অতীতে জোকোলেটল বা ‘তিক্ত জল’ নামক এক পানীয় প্রস্তুত করা হত। ১৬০০ সালের দিকে ইউরোপীয় পর্যটকদের মাধ্যমে এ পানীয় ছড়িয়ে পড়ে স্পেন, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডে।

নিউ জার্সির মন্টক্লেয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটির ফুড স্টাডিজ এবং ফুড সিস্টেমের প্রফেসর চার্লস ফিল্ডম্যানের মতে, চকলেট একসময় শাসক শ্রেণির খাদ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। পুরুষতন্ত্র এবং বর্বরতার সঙ্গে জড়িত ছিল এ খাবারটি।

শিল্প বিপ্লবের আগ পর্যন্ত চকলেট উপভোগ করার সুযোগ ছিল শুধু ধনীদের। চকলেট নয়েসের প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘বিন-টু-বার চকোলেট: আমেরিকা’স ক্রাফ্ট চকলেট রেভ্যুলেশন’ এর লেখক মেগান গিলার বলেছেন,‘১৯ শতকের দিকে মিষ্টি মেশানো কোকো শ্রমিক শ্রেণির মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়ে ওঠে।’

‘ততদিনে নারীরাও চকলেটের স্বাদ উপভোগ করা শুরু করেছে। ফিল্ডম্যানের মতে, এক সময় পুরুষরা তাদের আভিজাত্য বোঝাতে চকলেট খেত; পরবর্তীতে নারীদের হাতের মুঠোয় চলে আসে চকলেট।’

১৮০০ সালের দিকে ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে চকলেটের যোগসূত্র ঘটে। ব্রিটিশ চকলেট প্রস্তুতকারক রিচার্ড ক্যাডবেরির ব্যবসা ১৮৬১ সালে জমে ওঠে। তিনি হার্ট (লাভ) আকৃতির বাক্সের মধ্যে চকলেট চকলেট বিক্রি শুরু করেন। অভিনব এ নকশায় তার সংস্থা চকলেট উৎপাদন করা শুরু করে।

এরপর বিভিন্ন চকলেট উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিভিন্ন নকশার চকলেট বক্স তৈরি করা শুরু করে। ফিল্ডম্যান বলেন, ‘এরপর পুরুষরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বক্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। উপহার দেওয়ার জন্য তখন হার্ট-আকৃতির বাক্সগুলো সিল্ক, সাটিন লেইস এবং ফিতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হত।’

আমেরিকান চকলেট প্রস্তুতকারকরা ১৯৩০ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে চকলেটের বিজ্ঞাপনে নারীদেরকে বেছে নেয়। গিলার বলেছিলেন, ‘১৯৬০ সালের পর থেকে চকলেটের বিজ্ঞাপনে পুরুষদেরকে আর দেখা যেত না।’ হোয়াইটম্যানের চকোলেটে লেখা থাকত, ‘একটি নারী কখনই স্মরণীয় পুরুষকে ভুলে যায় না’।

রাসেল স্টোভার তার বেস্ট সেলিং ‘সিক্রেট লেইস হার্টের’ প্রবর্তন করেছিলেন। এটি সাটিন এবং কালো জরির আচ্ছাদিত একটি বাক্স যা ‘লঙ্গারি বাক্স’ নামে বিক্রি শুরু হয়। চকলেট বিজ্ঞাপনগুলো দেখে তখন উপহার হিসেবে চকলেট দেওয়ার রীতির প্রচলন ঘটে ক্রমশ।

হার্ট-আকারের বাক্স দিয়েই শুরু, এরপর থেকে ভালোবাসা দিবসে চকলেটের ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, পুরুষদের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ চকলেট খান নারীরা।

জাপানে ১৯৫৮ সাল থেকে ভালোবাসা দিবসে ‘টোমো চকো’ বা ‘বন্ধুত্বের চকলেট’ দিয়ে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা শুরু হয়। সেখানকার নারীরা বিশ্ব ভালোবাসার দিনে পুরুষদেরকে চকলেট উপহার দিয়ে থাকেন।

বর্তমানে ৭-৮টি দেশ ব্যতীত বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে ভ্যালেন্টাইন ডে। পুরো ফেব্রুয়ারি মাস ব্যবসায়ীদের কাছে চকলেট মৌসুম। শুধু ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করেই নয় বরং বর্তমানে যেকোনো দিবসেই চকলেট উপহার দেওয়া এক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

সুত্র- jago news 24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »