Ultimate magazine theme for WordPress.

ব্রাজিলের রবার শিল্প শ্রমিকের অভাবে বন্ধের পথে ।

0

©ক্রাইম টিভি বাংলা অনলাইন ডেস্ক♦

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে রবার শিল্পের সূচনা হয় আমাজন নদী অববাহিকায় বন্য রবার উৎপাদনের মধ্য দিয়ে। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের আগে পর্যন্ত রবার উৎপাদনে ব্রাজিল পৃথিবীতে শীর্ষস্থানের অধিকারী ছিল। কিন্তু বর্তমানে এদেশে রবার শিল্প বেশ কয়েকটি সমস্যার কারণে তার অতীত গৌরব হারিয়েছে। সেই সমস্যাগুলি হল-

১)ল্যাটেক্স সংগ্রহে অসুবিধা-ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকা নিরক্ষীয় চিরহরিৎ অরণ্য অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ল্যাটেক্স সংগ্রহে অসুবিধা হয়। এছাড়া আমাজন অববাহিকার রবার গাছগুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করার জন্য ল্যাটেক্স সংগ্রহ করা বেশ ব্যয়বহুল।
২)শ্রমিকের অভাব-ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকার জনসংখ্যা কম হওয়ায় ল্যাটেক্স সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যায় না। এছাড়া এই অঞ্চলের বিপদসংকুল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাটেক্স সংগ্রাহক সেরিংগোয়েরাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়় বলে ল্যাটেক্স সংগ্রহের কাজও ব্যাহত হয়।
৩)বন্য রবারের ক্রমহ্রাসমান যোগান-ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকায় অদক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে ও অবৈজ্ঞানিক প্রথায় ল্যাটেক্স সংগ্রহের ফলে রবার গাছের ল্যাটেক্স উৎপাদন ক্ষমতা অসময়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বন্য রবারের যোগান ক্রমশ কমতে থাকে।
৪)অনুন্নত পরিবহন ব্যবস্থা-ব্রাজিলের আমাজন অরন্যের বিপদসংকুল পরিবেশে এবং ভিজে ও স্যাঁতসেঁতে মৃত্তিকায় উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি।ফলে ভারবাহী পশুর সাহায্যে বা নদীপথে নৌকার সাহায্যে ল্যাটেক্স পরিবহন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
৫)চাহিদা হ্রাস-ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকা থেকে সংগৃহীত বন্য রবারের ল্যাটেক্স থেকে উৎপন্ন বোলাচা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে একসময় প্রচুর বিক্রি হতো। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে বাগিচা কৃষির মাধ্যমে রবার চাষের প্রবর্তন হলে ব্রাজিলিয়ান রবারের চাহিদা কমতে থাকে।ফলে ব্রাজিলের রবার শিল্পের অধোগতি শুরু হয়।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Translate »